মিয়ানমারের কথা কেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে: বিএনপি

সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণেই মিয়ানমার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলাবর্ষণ করছে, বলছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 01:30 PM
Updated : 17 Sept 2022, 01:30 PM

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমার থেকে গোলা আসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে এনিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনাও করেছে দলটি।

শনিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়।

এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির আহ্বায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “পত্রিকায় দেখলাম মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে ফরেন মিনিস্ট্রিতে ডাকা হয়েছে।

“যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদেরকে (মিয়ানমার) কোট (উদ্ধৃতি) করে বলে যে, এটা নাকি অ্যাক্সিডেন্টাল। আমরাই তো ওদের মুখের কথাটা বলে ফেলছি। যেখানে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে উল্টা অন্যের কথাটা আমাদের মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে, সেটাই দুঃখের বিষয়।”

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র দল আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। সেই সংঘাতের গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

গত ২৮ অগাস্ট দুপুরে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে দুটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ার পর ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। তার পর আরেক দফায়ও তাকে ডেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।

তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা উসকানিমূলক না। এটা স্ট্রে (আকস্মিক চলে এসেছে)।”

এরপর শুক্রবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও কোণাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পের ভেতর গোলা পড়ে একজন নিহত হয়।

আমীর খসরু বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আমরা যখন প্রতিবাদ করেছি, প্রোটেস্ট নোট দিচ্ছি... কিন্তু মিয়ানমার সরকার বলছে এগুলো অ্যাক্সিডেন্টাল ব্যাপার। ভুলবশত হয়ে যাচ্ছে। এখন ভুল বশত কতদিন বাংলাদেশ প্রোটেস্ট নোট দিতে থাকবে সেটাই তাদের (সরকার) কাছে আমাদের প্রশ্ন।”

খসরু আরও বলেন, “প্রোটেস্ট নোটের পর প্রোটেস্ট নোট দিতে থাকবে, তাদের এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের এয়ার স্পেইস ভায়োলেট করবে, বাংলাদেশের লোক মারা ‍যাবে আমাদের এলাকায়- এটা তো আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।”

Also Read: মর্টার শেল: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব, কড়া প্রতিবাদ ঢাকার

Also Read: মিয়ানমারের গোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, হতাহতের খবর

Also Read: মিয়ানমার থেকে গোলা আসা বন্ধ না হলে জাতিসংঘে তুলব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি মিয়ানমারের এই ঔদ্ধত্য প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

“আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অখণ্ডতা... টেরিটোরিয়াল ইন্টিগ্রিটি রক্ষার্থে মেরুদণ্ড সোজা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের নতজানু ও দুর্বল কুটনীতির সুযোগে গত ২৮ অগাস্ট শুরু হওয়া মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বেড়েই চলেছে।

“যার সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে, গতকাল (শুক্রবার) মিয়ানমার বাহিনীর ছোড়া মর্টার সেলের আঘাতে বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা কিশোরের মৃত্যু।”

“বাংলাদেশ সীমান্তে মর্টার শেল ছোড়ার পর মিয়ানমার বাহিনী বারবার আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে গোলা নিক্ষেপ করেছে। বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি বাংলাদেশের ভুখণ্ডের ১২০ মিটারের ভেতরে পড়ে গোলা বিস্ফোরিত হয়, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।”

বর্তমান সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণেই মিয়ানমার এভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলাবর্ষণ করছে বলে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

ভারত সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, “ভারত সীমান্তেও হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়েও সীমান্ত হত্যা সংঘটিত হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মশিউর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সিলেট সিটির মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক