শহীদ দিবসে গণতন্ত্র ফেরানোর শপথ বিএনপির

“গণতন্ত্র ফেরাতেই হবে, বন্দি গণতন্ত্রকে মুক্ত করতেই হবে। মানুষ নির্বিঘ্নে কথা বলতে চায়, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারি,” বলেন রিজভী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Feb 2024, 07:05 AM
Updated : 21 Feb 2024, 07:05 AM

একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দেশে ‘গণতন্ত্র ফেরানোর শপথ’ নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার সকাল ৭টায় প্রভাতফেরি নিয়ে আজিমপুরে ভাষা শহীদদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির নেতাকর্মীরা। শোকের ব্যানার, কালো পতাকা আর কালো ব্যাজ নিয়ে সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে তারা পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন নেতাকর্মীরা। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর দলের অঙ্গীকার তুলে ধরেন রিজভী।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের এই যে নিপীড়ন, এই যে নির্যাতন, এই যে ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে অসংখ্য মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখা…তারপরেও আজকে যখন তারা বেরিয়ে আসছে, তখন উদ্বুদ্ধ হচ্ছে নতুন শ্লোগানে, নতুন আন্দোলনে।

“গণতন্ত্র ফেরাতেই হবে, বন্দি গণতন্ত্রকে মুক্ত করতেই হবে। দেশের মানুষ সোচ্চার কণ্ঠে কথা বলতে চায়, নির্বিঘ্নে কথা বলতে চায়, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারি। আমরা সেই পথ ধরে এগিয়ে যাব। এটাই আজকে আমাদের শপথ। আমরা লক্ষ্য অর্জনে সফল হব ইনশাল্লাহ।”

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “আমাদের এক দফার আন্দোলন থামেনি, আন্দোলন চলছে। আমাদের যে অভীষ্ট, সেটি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত… অর্থাৎ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আর প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত, ফ্যাসিবাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। আমরা এক দফার আন্দোলনের অটুট আছি, থাকব।”

আন্দোলন ‘ঝিমিয়ে পড়েছে’ কিনা- সেই প্রশ্নে এ বিএনপি নেতা বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা হতাশ নয়, তারা উজ্জীবিত। তাদের মনে যে আকুতি অর্থাৎ তারা একটি সত্য ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করছে।”

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে আজিমপুর কবরাস্থানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় নেতাকর্মীদের নিয়ে মোনাজাতে শামিল হন রিজভী।

সেখানে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমরা আজকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার হারা। দেশের জনগণ ভোট দিতে পারে না। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটাধিকার দাবি করে আসছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫২/৫৩ বছর পরও কেন এই দাবি করতে হচ্ছে? কারণ, যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের মাতৃভাষার অধিকার হরণ করেছিল। ঠিক একইভাবে একই কায়দায় আমাদের বাহিনী জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার হরণ করছে।

“তারা একটি একচ্ছত্র রাজকীয় শাসন চালু করেছে। আজকে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর যে এক দফা আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনের অন্তর্নিহিত শক্তি হল বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের এই ২১ ফেব্রুয়ারি। সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের আগামীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বিজয়ী করতে হবে।”

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, আমিনুল হক, হারুনুর রশীদ, আমিনুল ইসলাম, আবেদ রাজা, রফিক শিকদার উপস্থিত ছিলেন।