Published : 10 Oct 2025, 07:12 PM
দেশে ‘ইসলামকে ক্ষমতায় আনার’ জন্য সৃষ্টি হওয়া ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ কাজে লাগাতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে চরমোনাই পীর হিসেবে বেশি পরিচিত সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, “শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
“বর্তমানে দেশে ইসলামকে ক্ষমতায় আনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা জরুরি।”
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন বলে ইসলামী আন্দোলেনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অভিন্ন পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ ছয়টি দল এদিন গণমিছিল কর্মসূচি পালন করেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় ঠিক করতে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্যে তারা এসব দাবিতে ১ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় ধাপে আন্দোলনে নামে। এর আগেও তারা সারাদেশে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
তাদের দাবিগুলো হল-জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন করা; সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
ইসলামী আন্দোলনের আমির রেজাউল করীম বলেন, “দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে হবে। বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক নির্বাচনি পদ্ধতিতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না।
“এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অন্যায় প্রভাব বিস্তার পায়। শ্রমিকরাও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে, আর মালিকরা ‘আঙুল ফুলে কলাগাছে’ পরিণত হয়।”
তার মতে, জনগণের ভোটের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর আসন বণ্টনই ‘গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত’ পদ্ধতি। এতে ভোটের মূল্য সংরক্ষিত থাকবে, ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন করছে, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রেজাউল করীম বলেন, “এখন সময় এসেছে এই দাবিকে জাতীয় ঐক্যের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার। নির্বাচনি সংস্কারের অংশ হিসেবে অবিলম্বে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ন্যায়ভিত্তিক, প্রতিনিধিত্বশীল, শান্তিপূর্ণ ও শ্রমিকবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতি জন্য পিআর ভিত্তিক নির্বাচনিই একমাত্র সমাধান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কখনোই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায় যেখানে মানুষ ও কুকুর খাদ্যের জন্য লড়াই করবে না, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব থাকবে না, সবাই মিলে-মিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।”
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব ইউনুস আহমাদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ।