Published : 25 Nov 2025, 01:42 AM
‘‘একটা নির্জন রাস্তায়, পাহাড়ি রাস্তায় একটা ফুটপাতে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, ইউ আর ফ্রি নাউ।
“তখন আমি দেখলাম পাশে একটা বিশাল মাঠ। পরে এটা জানতে পেরেছি এটা শিলং গলফ লিংক বলে। প্রাতঃভ্রমণে কিছু লোক হাঁটতে ছিলেন। আমি পরিচয় দিলাম। তারা পুলিশকে কল করল। এরপরে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।”
এভাবেই বাংলাদেশে টানা দুই মাস 'আয়নাঘরের বন্দিদশা' থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতের পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার কথা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে সরকারি কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো এই বিএনপি নেতা বলেন, “তারপরে আমার কথাবার্তা শুনে হয়ত তাদের কাছে আমাকে পাগল মনে হয়েছে।
“তারপরে আমাকে একটা মেন্টাল হসপিটালে নিয়ে যায়। ওখানে ডাক্তারকে আমার পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যে, আমার ফোন নম্বর দিলাম যাতে আমার দেশে যোগাযোগ করে।”
এরপর শিলং থেকে টেলিফোনে কথা বলার মুহূর্তটির স্মৃতিচারণ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। বলেন, ‘‘আমি তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। যখন উনি (সালাহউদ্দিন) আমাকে হ্যালো বলল। সেই মুহূর্তের অনুভূতিটি আমি কাউকে বলে বুঝাতে পারব না।
“এত জোরে চিৎকার করেছিলাম যে, গাড়ির ড্রাইভার ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সে প্রচণ্ড জোরে ব্রেক করে ফেলেছিল।”
সোমবার বিএনপির এই নেতার ‘গুম’ হওয়া নিয়ে একটি তথ্যচিত্রে এভাবেই নিরুদ্দেশ থাকার সেই বিভীষিকাময় সময়কার স্মৃতিচারণ করেন এ দম্পতি।
এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ১৭ মিনিটের এ তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেইসবুক পেইজে। যাতে সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রীর পাশাপাশি তাদের ছেলে ওই সময়কার দুর্দশা ও নিদারুণ করুণ স্মৃতি তুলে ধরেন।
এ তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়নাঘর ফাইলস’। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ‘আয়নাঘরে’ ও অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা নিয়ে এ তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এটির পঞ্চম পর্বে উঠে এসেছে ‘গুমের’ শিকার বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার পরিবারের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ গুম হওয়ার ৬৩ দিন পর সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং শহরে পাওয়া যায়। আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবিলার কারণে তিনি প্রায় নয় বছর সেখানে অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।
এ তথ্যচিত্র নির্মাণের অংশ হিসেবে গত ১১ অক্টোবর সিলেটের তামাবিল সীমান্তে যান সালাহউদ্দিন। সেদিন তিনি দাবি করেছিলেন, এই পথেই ২০১৫ সালের ১০ মে তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও ভারতে দীর্ঘবন্দি দশা থেকে মুক্তির পর দেশে আসার ১০ মাস পর ৩ জুন সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম দিয়েছেন তিনি।
‘লাশটা পরিবারের কাছে দিও’
‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকার সময় মৃত্যু চিন্তাও পেয়ে বসেছিল সালাউদ্দিনকে। ভিডিওতে সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাকে আটকে রাখা সদস্যদের তখন তিনি বলেছিলেন, “যদি আমার মৃত্যু হয় লাশটা আমার পরিবারের কাছে দিও।
‘‘আমি (তাদের) বলতাম, আমার হার্টে স্টেন্টিং আছে, অন্যান্য জটিলতা আছে। এই পরিবেশে ক‘দিন টিকব। কত দিন থাকতে পারব জানি না। তবে আমার যদি মৃত্যু হয়, তাহলে আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে দিও।
‘‘এটা বলার কারণ ছিল তখন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সময়ে গুমের সংস্কৃতি চালু হয়ে গিয়েছিল। লাশ পাওয়া যেত না। তারা ক্রসফায়ার দিয়ে লাশ গুম করে ফেলত। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, হে আল্লাহ আমার সন্তান, আমার বংশ পরম্পররা, আমার আত্বীয় স্বজনরা আমার কবর জিয়ারত করতে পারবে না?”
রাজধানীর উত্তরা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলতে গিয়ে তথ্যচিত্রে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘২০১৫ সাল মার্চের ১০ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা হতে পারে। এই সময়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে অনেক লোক সশ্বস্ত্র অবস্থায় এই বাসায় (উত্তরা) দোতলায়, যেখানে আমি থাকতাম- আমার বন্ধু হাসনাতের বাসায় ফ্ল্যাটে দরজার ভেঙে প্রবেশ করে। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমার চোখ, হাত বেঁধে আমাকে নিয়ে।”
এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এরমধ্যে ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তিনি ৬১ দিন ছিলেন বলে তুলে ধরেন। ছোট্ট সেই কুঠুরিতে দিন-রাত প্রায় একই হয়ে পড়া সেই সময়ের বর্ণনা করেন তিনি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশে ফিরে আসা সালাহউদ্দিনকে ভিডিওতে সেই ঘরের বর্ণনা দিতে দেখা যায়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘সেই বাসা (উত্তরা) থেকে ২০/২৫ মিনিটের একটা ড্রাইভ হবে এমনও হতে পারে- তারা ঘুরে ফিরে কোথাও নিয়ে গেছে, যেখানে আমাকে গাড়ি থেকে নামাল। নামিয়ে হেঁটে ভেতরে ঢুকাল সেটা নিচতলা। কোনো সিড়ি বাইতে হয়নি।
‘‘এটা একটা সেল, যেটা ৫ ফুট বাই ১০ ফুটের বেশি হবে না। সেখানে একটা পানির ট্যাপ ও একটা ছিদ্র আছে- যে নালা দিয়ে পেশাব-পায়খানার সুযোগের জন্য। লাইটটা এখানে ছিল, দরজাটা স্টিলের ছিল। নিচে একটু ফাঁকা ছিল। হালকা খানা-পিনা ঢুকানোর জন্য। আর উপরের দিকে একটু ফাঁকা ছিল। বাইরে সবসময় একটা ফ্যান থাকত।”
‘গুমের’ পর স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে ভিডিওতে তুলে ধরেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ।
তিনি বলেন, ‘‘থানা বলল তারা জিডি নিতে পারবে না কোনো রিজনেবল গ্রাউন্ড ছাড়া। আমি বললাম, আমি উনার স্ত্রী পাগলের মতো এখানে-ওখানে ঘুরতেছি, আমার স্বামীর সন্ধানে। আর উনারা আমাকে সাহায্য করবে না।
‘‘বাধ্য হয়ে পরে হাই কোর্টের শরাণাপন্ন হই। খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং মওদুদ আহমেদ সাহেব তারা এই রিটের জন্য আমার পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন সংগ্রামের পরে আদালত অবশেষ একটি রায় ঘোষণা করেন যে, সরকারকে নির্দেশ দেন আমার স্বামীকে যেন ওনারা খুঁজে বের করে দেন। এটুকুই আমার প্রাপ্তি ছিল। কিন্তু সরকারের কোনো মহল থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি।”
হাসিনা আহমদ বলেন, ‘‘আমি সবার দুয়ারে গেছি আমার স্বামীকে খুঁজে বের করে দেওয়ার জন্য। আমি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে গিয়েছিলাম কিন্তু আমাকে গেট থেকেই বিদায় করে দেয়া হয়েছিল।

‘‘র্যাব-১, র্যাবের হেডকোয়ার্টার যেখানে র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বসতেন সেখানেও গিয়েছিলাম। বেনজীর আহমেদ আমাকে পাগল বলে ওনার রুম থেকে বের করে দিয়েছিলেন।”
তথ্যচিত্রে এ দম্পতির ছেলে সাইয়িদ ইব্রাহিম আহমদ বাবাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ওই সময়ের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘দুই সপ্তাহ-এক সপ্তাহ পরপর বাসায় র্যাব, পুলিশের লোক আসত। উদ্ভট সব প্রশ্ন করত। উনি কি বাসায় লুকিয়ে আছে কিনা। পুলিশ অফিসাররা তখন হেনস্তা না করার জন্য টাকাও দাবি করত।”
‘আয়নাঘরে’ প্রতিদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হত দাবি করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘কেন আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি? কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করছি ইত্যাদি এবং আপোস করার প্রস্তাব দিত।
‘‘আমি বলতাম একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া এই দুনিয়াতে আর কাউকে পরোয়া করার কিছু নেই। আমার দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, দেশের মানুষের অধিকারের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য, সমস্ত গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। এর সাথে আপোস করার কিছু নেই।”
তিনি বলেন, ‘‘তারা (যারা জিজ্ঞাসাবাদ করত) অবশ্যই হাসিনার গোলাম বাহিনী, তার নির্দেশে গুম-খুন করে বেড়াচ্ছে। তারা আমার কথা শুনবে কেন। কারণ আমাকে কোনো দিনই রুম থেকে বের করেনি। একটা দিন বের করেছিল সেদিন রুম পরিষ্কার করার জন্য। তাও চোখ বেঁধে বাইরে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয় কিছুক্ষণ সময়ের জন্য।”
টানা দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী বলেন, ‘‘যখন আমার আত্বীয়-স্বজন সবাই বলতে শুরু করল যে, ও (সালাহউদ্দিন) নিশ্চয় আর বেঁচে নেই। তুমি তোমার চারটা ছোট বাচ্চা আছে, তোমার বিষয়-সম্পত্তির দিকে খেয়াল কর, তোমার সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাবে। তখন আমি সবাইকে বলতাম যে, আমি বিশ্বাস করি আমার স্বামী বেঁচে আছে।”
তথ্যচিত্রে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘৬১ দিন পর্যন্ত আমাকে বন্দি করে রাখে। যেদিন আমাকে সেখান থেকে বের করে গাড়িতে তোলার সময়ে বলল যে, আপনাকে একটা জায়গা নিয়ে যাব। ফিরে আসতে হয়ত দুদিন লাগতে পারে। তখন আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না তারা আমাকে ছেড়ে দেবে।”
‘আয়নাঘর’ থেকে ভারতে তাকে ছেড়ে দেওয়া এবং সেখানকার বন্দিদশার স্মৃতি ভিডিওতে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘‘একটা নির্জন রাস্তায় পাহাড়ি রাস্তায় একটা ফুটপাতে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, ইউ আর ফ্রি নাউ। তখন আমি দেখলাম পাশে একটা বিশাল মাঠ। পরে এটা জানতে পেরেছি এটা শিলং গলফ লিংক বলে। প্রাতঃভ্রমণে কিছু লোক হাঁটতে ছিলেন। আমি পরিচয় দিলাম। তারা পুলিশকে কল করল। এরপরে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তারপরে আমার কথাবার্তা শুনে হয়ত তাদের কাছে আমাকে পাগল মনে হয়েছে।
“তারপরে আমাকে একটা মেন্টাল হসপিটালে নিয়ে যায়- মিনহানস নানদি। ওখানে ডাক্তারকে আমার পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যে, আমার ফোন নম্বর দিলাম যাতে আমার দেশে যোগাযোগ করে।”
এরপর শিলং থেকে টেলিফোনে কথা বলার মুহূর্তটির স্মৃতিচারণ করে তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ বলেন, ‘‘আমি তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। যখন উনি (সালাহউদ্দিন) আমাকে হ্যালো বলল। সেই মুহূর্তের অনুভূতিটি আমি কাউকে বলে বুঝাতে পারব না। এত জোরে চিৎকার করেছিলাম যে, গাড়ির ড্রাইভার ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সে প্রচণ্ড জোরে ব্রেক করে ফেলেছিল।”
দুই মাস পর শিলংয়ে গিয়ে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ।
‘‘ওখানকার যে এমপি ছিলেন উনার পারমিশন নিয়ে শুধু ১০ মিনিটের জন্য প্রিজন সেলে গিয়ে সাক্ষাৎ করতে পাই।”

এ দম্পতির ছেলে সাইয়িদ ইব্রাহিম আহমদ বলেন, ‘‘আমার মা ওই সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন যেমন অ্যামনেস্টি। তারা আমাদেরকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছিলে। যারা এই গুমের সাথে জড়িত তারা হয়ত বিষয়টাকে রিস্কি মনে করছিল। সেই হিসেবে হয়ত তারা বাবাকে বর্ডার পার করে ওখানে ফেলে দিয়ে আসল।”
বাবাকে পাওয়া যাওয়ার সেই সময়ের অনুভূতি বলতে গিয়ে ছেলে বলেন, ‘‘আমার কাছে মনে হয়েছে যে, পুরো পৃথিবী আমার কাছে ফেরত আসছে।”
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘শিলং আদালতে আমার মামলা হয়। এরমধ্যে আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন বললো যে, আমাকে ইমিডিয়েটলি আবার হসপিটালে পাঠানো হোক, প্রিজন সেলে রাখা হোক।
‘‘প্রায় সময় মনে হতো হয়ত আমি জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারব না। আমি সাংঘাতিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমার দুইটা মেজর সার্জারি হয়েছে একটা কিডনিতে, আরেকটি ঘাড়ে।”
ভারতের আদালতে জামিন পাওয়ার পরের ঘটনা বলতে গিয়ে হাসিনা আহমদ বলেন, ‘‘শিলংয়ে যখন কোথাও কোনো থাকার ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না আমার স্বামীর জন্য তখন আমি একটা রেস্ট হাউজে গিয়ে তার মালিকের সাথে যোগাযোগ করলাম। তো মালিক তাতে রাজি হলেন। রেস্ট হাউজটার নাম হচ্ছে সানরাইজ গেস্ট হাউজ।”
এরপর ভিডিওতে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘২০১৮ সালের সম্ভবত ২৬ অক্টোবর মামলা থেকে খালাস পেলেও আমাকে আর বাংলাদেশে প্রেরণ করা হল না। কয়েক মাস পরে ভারত সরকার এই খালাসের রায়র বিরুদ্ধে আপিল করল উচ্চতর আদালতে।
‘‘এভাবে প্রায় এক বছর সময় পার হয়ে গেল। এরপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব এই শতকের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান হল। দেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হল, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হল। আমি দিল্লি সরকারের কাছে মেঘালয় রাজ্য সরকারের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তারা ব্যবস্থা নিল। ২০২৪ সালের ১১ অগাস্ট ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে সক্ষম হলাম আল্লাহর অশেষ রহমতে।”