Published : 14 Nov 2025, 01:17 AM
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে ‘ধন্যবাদ’ জানালেও একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ঘোষণায় ‘নিন্দা’ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে প্রথমে বৈঠকে বসে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ। এরপর আলাদা বৈঠক হয় জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক আট দলের, যারা নভেম্বরে গণভোটের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টা জুলাই জাতীয় সনদ জারি করেছেন; এটা আমি মনে করি, উনি সঠিক করেছেন। এটা আরও আগে করা দরকার ছিল, জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করলে সময়ক্ষেপণ আরও কম হতো। তারপরও ওনাকে আমরা সনদ জারির জন্য ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি বলেন, “সনদের কার্যকারিতার জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে যে গণভোট অপরিহার্য, এখানে উনি আবার বিভ্রান্ত তৈরি করেছেন এ কথা বলে যে, গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে। এটা আমরা নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা আহ্বান জানাই যে, এটা উনি প্রত্যাহার করবেন।”
তাহের জানান, শুক্রবার সকালে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
‘প্রধান উপদেষ্টার যুক্তি ঠুনকো’
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনের কথার বিরোধিতা করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, “আজকে প্রধান উপদেষ্টার দুটো ঠুনকো যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে, একটা হচ্ছে যে, কিছুটা সাশ্রয় হবে। হ্যাঁ সাশ্রয় কিছু হবে। কিন্তু জাতির প্রয়োজনে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তো বাজেট খরচ হয়; তো সে হিসাবে যেটা খরচ হবে, এটা উপকারের চেয়ে অত্যন্ত নগণ্য।
“আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে গণভোটে যেগুলো মানুষ হ্যাঁ বলবে, সেগুলো বাস্তবায়নে তো জটিলতা তৈরি হবে, যেগুলোর উপর ইলেকশন হবে। আমি এক জায়গায় বলেছিলাম যে, কনসিভ করার আগে সন্তানের নাম রাখা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ না।”
তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচন এবং বিভিন্ন দাব-দাওয়া নিয়ে যে জট লেগে আছে, সেটির সুষ্ঠু সমাধান হবে, এমনটাই আশা করেছিল সমমনা দলগুলো। কিন্তু ভাষণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জাতির মুক্তির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
“তার ভাষণে কিছু বিষয় আছে, যা বিবেচনায় নেওয়া যায়। আবার কিছু বিষয় আছে, যেটির কারণে ভালো দিকগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে।”
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
সুপারিশে বলা হয়েছিল, আদেশ জারির পর সংসদ নির্বাচনের আগে কিংবা সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে এই গণভোট হতে পারে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
বিএনপিসহ সমমনা কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে এক দিনে গণভোট করার পক্ষে অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক আট দল রোববারের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজনের দাবিতে আন্দোলনে নামে। রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরুরও ঘোষণা দেয় তারা।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়। সেখানে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন পায়।
পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওই আদেশে সই করেন বলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়।
এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে গণভোটের সময়সূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
এরপর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া পরওয়ার বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এবং যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে ওই ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন তিনি।