Published : 14 Dec 2025, 10:42 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা রোববার রাতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদিসহ উপদেষ্টা ও চিকিৎসকদের মধ্যে জরুরি কনফারেন্স কলের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেইসবুক পোস্টে জানানো হয়।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শুক্রবার থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি। তার অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি বলে রোববার মেডিকেল বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, দুদিন ধরে হাদির উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছে। রোববার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে তা অবহিত করা হয়।
পরে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং হাদির ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনার পর সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রধান উপদষ্টোর দপ্তরের ফেইসবুকে পোস্টে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সাংবাদিকদের বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনেরা এবং তার পরিবার ধার করে আধা কোটি টাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে। এক্ষেত্রে তারা সরকারের কোনো সহায়তা এখনো নেয়নি।”
আর রাত ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।”
কনফারেন্স কলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে হাদির সবশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, তিনি স্থিতিশীল এবং অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, “এ লক্ষ্যে (সিঙ্গাপুরে পাঠানোর) প্রয়োজনীয় মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।”
জুলাই আন্দোলনের সোচ্চার নেতাদের একজন হাদি ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজে একটি মসজিদে প্রচারণার পর অটোরিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তার মাথায় একটি গুলি করা হয়।
দ্রুত তাকে সহকর্মীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গুরুতর অবস্থায় সেখান থেকে রাতে তাকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।