Published : 03 Nov 2025, 10:06 PM
ঢাকা-১৪ আসনে ‘গুম’ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে আলোচনায় আসা ‘মায়ের ডাক’ এর সানজিদা ইসলাম তুলিকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে সংগঠিত করে গত এক যুগ ধরে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন সানজিদার পরিবারের সদস্যরা। তুলির ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আটজনকে ‘গুম’ করার অভিযোগে টানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তারা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকার এ আসনে তুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ‘গুম’ হওয়া আরেক আলোচিত ব্যক্তি ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাশেম আরমানের সঙ্গে; যাকে প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসালামী বেছে নিয়েছে বলে খবরে এসেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে আরমান।
তুলির বড় ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আটজনকে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও শাহীনবাগ থেকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ নেই। ওই সময় সুমনের মা হাজেরা খাতুনকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘মায়ের ডাক’ নামের সংগঠনটি।

সেই থেকে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগের প্রায় এক যুগে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পেতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুমের আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে গেছেন তুলি। ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন সময় তাদের বাসায় গেছেন, এটি নিয়ে রাজনীতিতে অনেক আলোচনাও হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর যে ৫৫ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, সানজিদা তুলি সেই কমিটিরও সদস্য।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন ‘গুম’ হওয়া আরেক আলোচিত ব্যাক্তি ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাশেম আরমান।
ঢাকার মিরপুর, পল্লবীর একাংশ (ডিএনসিসির ০৭, ০৮, ০৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) ও সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মিরপুর- ১৪ আসন। এই আসনে বিএনপিবিহীন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন খান নিখিল।