১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি জেএসডির

“দেশে এখনও রাজনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সবখানেই নারীর উপস্থিতি একটি প্রতীকী বা নমুনা মাত্র,” বলেন জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব।

রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি জেএসডির
ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার সকালে সমাবেশ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নারী নেত্রীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2025, 07:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:28 PM

সরকার, সংসদ ও রাজনীতিসহ রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে এ সংক্রান্ত ছয়টি দাবিদাওয়া তুলে ধরেছেন দলটির নারী নেত্রীরা।

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব সমাবেশে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতনে নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রক্ত দিয়ে যারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল তাদের মধ্যে নারীরা ছিল অগ্রগণ্য। মা-মেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যে সংগ্রামের সূচনা করেছিল তা খুব বিরল।

“আজকের এই সমাবেশে আমরা শুধু শ্রদ্ধা জানাতে আসিনি, আমরা দাবি নিয়ে এসেছি। সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতিনিধিত্ব চাই। কারণ বাংলাদেশে এখনও রাজনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সবখানেই নারীর উপস্থিতি একটি প্রতীকী বা নমুনা মাত্র। অথচ এই রাষ্ট্র নির্মাণে নারী শুধু ভুক্তভোগী নয়, একজন নির্মাতাও।”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানি, সবক্ষেত্রে নারীর পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব ছাড়া গণতন্ত্র সম্পূর্ণ হয় না। জুলাই আন্দোলনের চেতনাই আমাদের শেখায় প্রতিনিধিত্ব শুধু অধিকারের প্রশ্ন নয়, এটি ন্যায় ও মর্যাদার প্রশ্ন।

“আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, আমাদের ছয় দফা কোনো একক গোষ্ঠীর দাবি নয়, এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও নৈতিক ভবিষ্যতের দাবি। নারীর অধিকার মানে মানুষের অধিকার, নারী প্রতিনিধিত্ব মানে জাতির ভারসাম্য। এই দাবি প্রত্যাখ্যান জাতির ভবিষ্যতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”

দাবিগুলো হল-

>> জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনসহ সকল স্তরে নারীর উপযুক্ত ও বাধ্যতামূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সংরক্ষিত আসন নয়, নেতৃত্বে সমান অধিকার ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

>> সকল রাজনৈতিক দলকে তাদের গঠনতন্ত্র ও কাঠামোতে অন্তত ৫০% নারী প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার করতে হবে। নারী নেতৃত্ব ছাড়া গণতন্ত্র কেবল এক প্রহসন।

>> লিঙ্গ-সমতা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে সব নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চয়তা দিতে হবে।

>> সকল নীতিনির্ধারণী ফোরাম ও কমিশনে নারীর বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী কণ্ঠ অবহেলিত রেখে গৃহীত নীতিমালা জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন হতে পারে না।

>> গণমাধ্যম, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর সম্মানজনক উপস্থিতি, নেতৃত্ব ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে; যাতে নারী কেবল অংশগ্রহণকারী নন, বরং সমাজের চেতনায় কেন্দ্রস্থ ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হন।

>> নারী আন্দোলন ও নারীবান্ধব রাজনৈতিক ভাষ্যকে অবজ্ঞা, বিকৃতি ও বিদ্বেষের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে আইনি ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।