পিটার হাস ‘সীমা মেনে’ চলবেন, আশা কাদেরের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তার দল জোটের আসন নিয়ে শরিকদের ‘হতাশ করবে না’।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Nov 2023, 11:16 AM
Updated : 30 Nov 2023, 11:16 AM

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ খুঁজতে রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার সংলাপের আহ্বান জানানো মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস একজন কূটনীতিবিদ হিসেবে তার ‘আচরণের সীমা মেনে চলবেন’ বলে আশা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই প্রত্যাশা তুলে ধরেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচনে সবার সহযোগিতা চায় আওয়ামী লীগ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার আচরণের সীমা মেনে চলবেন, এটা আশা করে সরকার।“

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু থেকেই ‘শর্তহীন সংলাপ’ দেখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসের শেষে সিইসির সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে শর্তহীন সংলাপে বসার আহ্বান রেখেছিলেন হাস।

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে বিনাশর্তে সংলাপের আহ্বান করেন তিনি। তিন দলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর পাঠানো চিঠিও তিনি পৌঁছে দেন। তবে তাতে সাড়া মেলেনি।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জানা যায়, ঢাকা ছেড়েছেন হাস। সোমবার সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, কলম্বো সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

কাদের বলেন, "জাতিসংঘ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্র, কমনওয়েলথসহ অনেকে পাঠাচ্ছে। এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে প্রায় শতাধিক পর্যবেক্ষকের নাম চলে এসেছে।"

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সার্ক ও ওয়াইসিসহ বিশ্বের ৩৮ দেশ ও সংস্থাকে চিঠি আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর বাইরে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার ৮৭ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ইসির কাছে আবেদন জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, "জনগণের অংশগ্রহণে একটি ভালো নির্বাচন হবে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে জাগরণ দেখা যাচ্ছে। আগামী নির্বাচন ভোটারবিহীন হবে না।"

কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন ফাঁকা রেখে ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। আবার গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মত এবারও জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগ থেকে কয়েকবার বলা হয়েছে, জোটভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পর আসন সমন্বয় করা হবে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ জোটের আসন নিয়ে শরীকদের ‘হতাশ করবে না’।

“নির্বাচন যারা করবে, তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। জোটের মধ্যে  কোনো আসন ভাগাভাগির বিষয় নিয়ে এখনও সময় আছে। আগে মনোনয়নপত্র জমা দিক। এখানে বিভ্রান্তির কিছু নেই। ইলেকটেবল নয়, এমন প্রার্থী আমরা মনোনয়ন কেন দেব? যাকে টেনে তোলা যাবে না, ক্রেন দিয়ে তোলা যাবে না, এরকম ক্যান্ডিডেট আমরা কেন দিতে যাব?”

কাদের বলেন, “সেটা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তাদের মধ্যে আছে কি না জানি না। আমি যেটা বলি, মনোনয়নপত্র জমা দিন, ১৭ তারিখ পর্যন্ত সময় আছে। এই সময়ে জোটের মধ্যে কোনো অ্যাডজাস্টমেন্ট, কোনো প্রকার নিজেদের মধ্যে আসন বন্টনের সুযোগ আছে যথেষ্ট। জোট তো আমরা ভেঙে দিইনি, জোট আছে।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।