Published : 03 Feb 2026, 03:24 PM
স্বাধীনতার ঘোষণায় অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যে মন্তব্য করেছেন, তার সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জামায়াত আমিরের কাছ থেকে মানুষ ‘জানতে চায় না’।
এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জামায়াত নিজেদের অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত করছে’ মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমারতো মনে হয়, তারা নিজেদেরকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করতেছে। তাদের যদি কিছু এখনো কিছু গ্রহণযোগ্যতা থাকে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের সেটাতো তারা হারাচ্ছে।
“বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তো জামায়াতের আমির থেকে কেউ জানতে চায় না। জানতে চায়? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কি জামায়াতের আমির থেকে বাংলাদেশের মানুষ জ্ঞান নিতে চায়?”
সোমবার চট্টগ্রাম শহরের বন্দর কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় স্বাধীনতার ঘোষণায় জোটসঙ্গী এলডিপি প্রধান অলি আহমদের ভূমিকা বড় করে তুলে ধরে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
ওই জনসভায় তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগরী শুধুমাত্র বন্দর নগরী নয়। শুধুমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী নয়। এটি একটি সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। বাংলাদেশে একাত্তরে সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকে হয়েছিল।
“আপনাদেরেই এক গর্বিত সন্তান সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিল, ‘উই রিভল্ট’। তিনি হচ্ছেন, এলডিপির সম্মানিত সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম। জিয়াউর রহমান সাহেবকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।”
এরপর জামায়াত আমির বলেন, “চট্টলাবাসী আপনাদেরকে স্যালুট, এই গর্বিত ইতিহাসের আপনারাই সূচনা করেছিলেন।
“কেন তিনি (কর্নেল অলি) আজকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি লড়াই করেছি রণাঙ্গনে। জাতীয়তাবাদী দল গঠনে আমি ছিলাম দ্বিতীয় ব্যক্তি, জিয়াউর রহমানের পরে’। তিনি এখন বলেন, ‘আমি এখন বিএনপিতে নেই। আমি থাকতে পারি না, কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়’। তিনি বলেন, ‘এটি বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়’।”
তার এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন সাংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়াল এসেছে, জামায়াতের আমির বলেছেন, ‘জিয়া নয়, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক ড. অলি আহমদ’।
এসব খবরের সূত্র ধরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা।
উত্তরে এই বিএনপি নেতা বলেন, “জামায়াতের আমির মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে এত জ্ঞান রাখে, সেটা আগে তো জানতাম না। উনার যে এত জ্ঞান মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে, এখন স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, উনার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি খুশি হয়েছি। আশা করি উনি আরও কিছু বলবেন আমাদেরকে, মুক্তিযুদ্ধে আর কী কী হয়েছিল, ওগুলো তো বলতে পারেন, তাই না!
“আর জিয়াউর রহমান সাহেবকে বিতর্কিত করে উনারা কী অর্জন করতে চাচ্ছে, সেটার উত্তরতো উনারা দিতে পারবে। আর জিয়াউর রহমান সাহেবকে মার্কেটিং করার আমাদের তো প্রয়োজন নাই।”
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘খুব বেশি কিছু বলার’ নেই বলে এই ধরনের বক্তব্য দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, “আমরা তো জানতে চাচ্ছি, তাদের প্রোগ্রাম কি? বাংলাদেশের মানুষ জানতে চাচ্ছে, আপনার আগামী দিনের প্রোগ্রামটা কি? বাংলাদেশের মানুষের জন্য আপনি কী করবেন?
“প্রোগ্রামগুলো না বলে এখন মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলেন। আবার মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কীভাবে আসল, সেখানে চলে গেলেন। এই যে আমরা বিভক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছি, সামাজিক বিভক্তি রাজনৈতিক বিভক্তি থেকে একটা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি, এগুলোতো মনে হয় আরো বেশি বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্য নতুন নতুন সাবজেক্ট বিষয় সামনে নিয়ে আসা। তাই না?”
আমীর খসরু বলেন, “যদিও এর কোনো সত্যতা নেই, একেবারে কোন সত্যতা নাই। একটা বানোয়াট সাবজেক্ট নিয়ে এইটা বক্তৃতায় নিয়ে আসা। আর এগুলো কি কেউ বিশ্বাস করবে?
“বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বাংলাদেশে যারা জানে তারা এই সমস্ত বাকোয়াজ করে, বাংলাদেশকে বিভক্তি করে একটা নতুন ন্যারেটিভ নিয়ে আসার যে চেষ্টা, এগুলো কি কারো কাছে কোন গ্রহণযোগ্যতা পাবে?”