Published : 13 Jul 2025, 08:29 PM
জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চলছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটি ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’।
রোববার বিকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আজকে যে প্রচার হচ্ছে, অপপ্রচার হচ্ছে এর পেছনে কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত রয়েছে। সেই চক্রান্ত হচ্ছে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধবংস করে দেয়া।”
“সেই চক্রান্ত হচ্ছে যে, নেতা যিনি উঠে আসছেন, যার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেই তারেক রহমান সাহেবকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া, তাকে খারাপ জায়গায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা।”
সম্প্রতি ঢাকার মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় দলটি তার তিন সংগঠনে ৫ জনকে বহিষ্কার করে।
এ হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন দল বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এসব ঘটনায় বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হতেও দেখা যাচ্ছে।
‘অসাধারণ দক্ষতাই তারেককে নেতৃত্বে এনেছে’
গুলশানে হোটেল লেকশোরে ‘তারেক রহমান: দ্যা হোপ অব বাংলাদেশ’ সংকলিত গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক সাহেবের কাছে এই নেতৃত্বটা এসেছে অনেক দিক দিয়ে।
“পারিবারিক দিক দিয়ে যে কথাটা আপনারা অনেকে বলেছেন, যদিও এই কথাটা শুনতে আমার ভালো লাগে না। কারণ যিনি নেতা, আমার মনে হয় তাকে এতে কিছুটা খাটো করা হয়, তার যে নিজস্ব গুণ-সত্তা আছে সেটাকে পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত করে আমরা বোধহয় সেটাকে ছোট করে দিই।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান সাহেবের নিজস্ব গুণ আছে, যে গুণগুলোর জন্য তিনি আজকে এই পর্যন্ত এসেছেন, না হলে আসতে পারতেন না।”
তারেক রহমানের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছি একসাথে… তারেক রহমান সাহেব দায়িত্ব পাওয়ার পরে, অর্থাৎ ম্যাডাম জেলে যাওয়ার পরে ওনার সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি।
“আমি দেখেছি যে, অসাধারণ একটা সাংগঠনিক দক্ষতা তার আছে। এটা খুব কম রাজনীতিবিদদের মধ্যে আছে। অসাধারণ। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিশাল একটা অংশকে সংগঠিত করে ফেলতে পারেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের গ্রামে একেবারে ওয়ার্ডে পৌঁছে গেছেন, সে কারণে তিনি সংগঠিত করে ফেলতে পারেন।”
বিএনপিতে যে যুব সমাজ, ছাত্র ও যুবক শক্তি আছে তাকে সংগঠিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে দলের রাজনীতিকে পাকাপোক্ত করার ওপর জোর দেন ফখরুল।
“এই কথাটা এজন্য বলছি যে, আমরা গত সময়গুলোতে শুধু লড়াই করেছি। কিন্তু সেই লড়াইটাকে সমৃদ্ধ করবার জন্য যে জ্ঞানটা, সেটা কিন্তু আমরা অনেকে অর্জন করতে পারিনি। আজ তা না হলে যে কথাগুলো আমাদের শুনতে হচ্ছে, সেই কথাগুলো হয়ত শুনতে হতো না আমাদের।”
২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চীন সফরে তারেক রহমানসহ তার সঙ্গী হওয়া এবং সেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ পরিচয় পর্বে স্মৃতি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী (চীন) তার (তারেক রহমান) হাতটা শক্ত করে ধরে ঝাঁকি দিয়ে বললেন, ‘কেরি দ্য ফ্ল্যাগ অব ইউর ফাদার অ্যান্ড মাদার’।”
তারেক রহমান যে তার মা ও বাবার সেই নিশান বহন করছেন, সেটি মনে রাখতে বলেন ফখরুল।
“উনি নির্যাতন সহ্য করেছেন, শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেছেন, নির্বাসিত হয়েছেন, একা থেকেছেন…এই যে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, সব কিছু মিলিয়ে তারপরেও তারেক রহমান সাহেব মাথা নত করেননি তার মায়ের মতই। উনার মা যেমন মাথা নত করেননি, তারেক সাহেবও করেননি।”
তিনি বলেন, “তারেক রহমান নিঃসেন্দহে আমাদের আশা, আমাদের ভবিষ্যৎ।”
বিগত আন্দোলনে বিএনপির সমর্থক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে সব সময়ে তাদের পাশে থাকার কথাও বলেন ফখরুল।
‘তারেক রহমান: দ্যা হোপ অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের এ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।
গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ।
শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় সেখানে বক্তব্য রাখেন- অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ উর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন সাথাওয়াত হোসেন সায়ন্থ।