Published : 01 Oct 2025, 01:16 AM
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে আল্লাহর আইন চালুর পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের অঙ্গীকার এবং সেই ধারাবাহিকতায় এবার লোগো থেকে কোরানের আয়াত ও আল্লাহু লেখা বাদ। সব মিলিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রধান ধর্মীয় বা ইসলামপন্থী দলটি—গঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগের পতনের পরে যারা এখন দেশের রাজনীতিতে অনেক বড় শক্তিই শুধু নয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিরাট ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আগামী নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করতে না পারে তাহলে জামায়াত এককভাবে না হলেও অন্য এক বা একাধিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে বিএনপির একক আধিপত্য থাকবে বলে যে ধারণা এতদিন ছিল, সেখানে দারুণ ছন্দপতন ঘটেছে বলেই মনে হয়।
সুতরাং, আগামী নির্বাচনে কারা সরকার গঠন করবে সেটি চোখ বন্ধ করে বলা না গেলেও জামায়াত যে এই নির্বাচনে বিরাট ফ্যাক্টর হবে—সে বিষয়ে সন্দেহ কম। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দল হিসেবে জামায়াতের যে ঘাটতিগুলো রয়েছে, সেগুলো পূরণ করার জন্যই তারা একধরনের খোলস বদল বা রি ব্র্যান্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
একটু পেছনে ফেরা যাক। ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে জামায়াত-ই-ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে দলটি দুটি সংগঠনে বিভক্ত হয়। জামায়াত-ই-ইসলামী পাকিস্তান ও জামায়াত-ই-ইসলামী হিন্দ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে। সেই অপরাধে দলের শীর্ষ অনেক নেতার ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য জামায়াতকে দলের নাম পরিবর্তন করতে হয়। তখন দলটির নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। নির্বাচন কমিশন তখন বলেছিল, কোনো বিদেশি দলের শাখাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। কেননা, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে বলা হতো পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর শাখা।
যদিও তখন জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশে যে জামায়াত রাজনীতি করছে, সেটি পাকিস্তান জামায়াতের শাখা নয়। জামায়াতের ওয়েবসাইটে দলের পরিচিতিতে লেখা হয়েছে: ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভূখণ্ডীয় সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার প্রতিজ্ঞা নিয়ে কাজ শুরু করে। সূচনা লগ্ন থেকে জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সন্তোষ অর্জন এবং পরকালীন মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যে আল্লাহ প্রদত্ত, রাসুল (সা.) প্রদর্শিত বিধান মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছে।’ যদিও দলটি কত সালে কোথায় কার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠত হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। যুক্তি যাই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেতে জামায়াতকে নাম পরিবর্তন করতে হয়। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ হয়ে যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অর্থাৎ বাংলাদেশ শব্দটি শুরুতে নিয়ে আসা হয়—যাতে এটিকে আর কোনো বিদেশি দলের শাখা মনে না হয়। এ সময় দলের গঠনতন্ত্রেও পরিবর্তন আনা হয়।
গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন
নিবন্ধন পাওয়ার আগে জামায়াতের গঠতন্ত্রে লেখা ছিল: ‘আল্লাহর আইন এবং সৎ লোকের শাসন কায়েমের মাধ্যমে জামায়াত সমাজ থেকে জুলুম, শোষণ, অবিচারের অবসানের আহ্বান জানাবে।’ কিন্তু ২০০৮ সালে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তে ‘নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করে সমাজ থেকে জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচার অবসানের আহ্বান’ কথাগুলো যুক্ত করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী এর আগেও বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পদ্ধতিতে অংশ নিলেও তাদের গঠনতন্ত্রে ‘আল্লাহ-প্রদত্ত ও রসুল-প্রদর্শিত ইসলাম কয়েমের প্রচেষ্টা’ ছিল দলের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য তখন এই কথাগুলো বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন’কে দলের মূলনীতি হিসেবে গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হয়।
জামায়াতকে দলের গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধেরও স্বীকৃতি দিতে হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ভূমিকা সংশোধন করে জামায়াত লিখেছে: ‘যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়া বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করিয়াছে; সেহেতু এই সকল মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার ভিত্তিতে শোষণমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের মহান উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই গঠনতন্ত্র প্রণীত ও প্রবর্তিত হইল।’
এবার বদলে যাচ্ছে লোগো
দলের নাম ও গঠনন্ত্রের পরে এবার বদলে যাচ্ছে জামায়াতের লোগো। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে জামায়াতের নতুন লোগোটি সামনে এসেছে। আগের লোগোতে দলের নামের সঙ্গে আরবিতে ‘আল্লাহু’ লেখার মাঝখানে দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং তার নিচে আরবিতে ‘আকিমুদ্দিন’ (দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করো) উল্লেখ ছিল।
কিন্তু গত ২৮ সেপ্টেম্বর জামায়াত আমিরের সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বৈঠকের সময় পেছনে যে ব্যানার ছিল, সেখানে জামায়াতের পুরোনো লোগোটি দেখা যায়নি। বরং যে লোগোটি দেখা যাচ্ছে, সেখানে আরবিতে ‘আল্লাহু’ এবং ‘আকিমুদ্দিন’ লেখাটি নেই। নতুন এই লোগোতে আছে সবুজ গ্রন্থের ওপর উদীয়মান সূর্য। তারওপর একটি কলম। কলমটি ব্যবহৃত হয়েছে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার দণ্ড হিসেবে। এর নিচে সোনালি অক্ষরে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ লেখা। সোনালি রঙের ওপর সাদা রং দিয়ে আরবি ও ইংরেজিতেও দলের নাম লেখা রয়েছে। তবে লোগো থেকে ‘আল্লাহু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়নি দাবি করে জামায়াতের একজন নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লোগোর ভেতরে থাকা কলমের মধ্যে ‘আল্লাহু’ লেখা আছে।

৩০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এটিই চূড়ান্ত লোগো নয়। লোগো পরিবর্তন হচ্ছে স্বীকার করে তিনি কয়েকটি লোগো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলেছেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে এটি চূড়ান্ত হবে। প্রশ্ন হলো, জামায়াতের মতো একটি দল তাদের লোগো চূড়ান্ত না করেই, অর্থাৎ একটি খসড়া বা অসম্পূর্ণ জিনিস কি বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করল?
কেন এই পরিবর্তন?
১৯৭১, শরিয়া আইন, নারী ও পোশাকের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা তথা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মতো যেসব বিষয়ে জামায়াতকে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বা যেসব কারণে জামায়াতের ব্যাপারে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়—সেসব বিষয়ে জামায়াত একধরনের আত্মপক্ষ সমর্থন বা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। তবে তাদের এই রি ব্র্যান্ডিং বা বাঁক বদল শুধুই ভোট পাওয়ার কৌশল নাকি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি ইসলামপন্থী দল এবার সত্যিই কাজেকর্মে গণতান্ত্রিক হয়ে উঠবে—সেই প্রশ্নও আছে। দলের যে নীতি-আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা, তার মধ্য দিয়ে জামায়াত শরিয়া আইন ও গণতন্ত্রের মেলবন্ধন ঘটাতে চায় কি না এবং জামায়াতের এই কৌশল আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট বাড়াবে কি না—তা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা করেছে এবং এই অপরাধের দায় নিয়ে যে দলটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি, সেই দলটি স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পরে রাষ্ট্রক্ষমতায় চলে যাবে কি না—এরকম প্রশ্নও জনমনে আছে।
সম্প্রতি জামায়াতের আমির বলেছেন, ১৯৪১ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব ভুলের জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। বক্তব্যটি খুবই কৌশলী। ১৯৪১ থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতের কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে মানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধও এর মধ্যে পড়ে। কিন্তু তিনি এটা বলেননি যে একাত্তরের ভূমিকার জন্য তারা ক্ষমা চান। বলেছেন কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তার মানে ১৯৭১ সালে জামায়াতের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটি তার ভাষায় নিশ্চিত নয়। তাছাড়া ১৯৭১ শব্দটিও তিনি বলেননি। কিন্তু তার এই বক্তব্যকে অনেকে একাত্তরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
শোনা যায়, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কারণে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে দলের মধ্যে ঐক্য নেই। দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ অংশটি মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার কারণে ক্ষমা চাওয়ার পক্ষপাতী হলেও প্রবীণ অংশটি তা চায় না। তাছাড়া ১৯৭১ সালের জামায়াত আর আজকের জামায়াত এক নয় বলেও তারা দাবি করেন।
অনেকে মনে করেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে নারীর স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। ফলে নারী ও শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে জামায়াতবিরোধী মনোভাব প্রবল বলে ধারণা করা হয়। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে জামায়াত এখন তাদের দলের নারী নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে আনছে। দলটির নারী নেতারা গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হিজাববিহীন নারী এবং অমুসলিমদেরও প্রার্থী করেছে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন-ছাত্রশিবির। তারা জয়ীও হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত একই কৌশল নেবে। জামায়াতের আমির বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তাদের দল ক্ষমতায় গেলে ব্যক্তির স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। নারী তার ইচ্ছা অনুযায়ী পোশাক পরতে পারবে। কর্মক্ষেত্র পছন্দেও নারী স্বাধীন থাকবে।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কতটা নিরাপদ থাকবে—তা নিয়ে যেহেতু অনেকের মনে সংশয় রয়েছে, সে কারণে জামায়াত এখন আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় অমুসলিমদের দলে ভেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় নির্বাচনে তারা বিভিন্ন আসনে অমুসলিম প্রার্থী দেওয়ারও চিন্তা করছে। জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অমুসলিমদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখানেও তারা ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে।
গত ১৮ অগাস্ট বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াত ধর্মের ভিত্তিতে দেশের কোনো নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করে না। দেশের সব মানুষ একই বাগানের বিভিন্ন ফুল। এদেশ সবার। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বাইরেও যেকোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা দিতে জামায়াত প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
গত বছরের অক্টোবরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মতিয়ার রহমান ঝিনাইদহের একটি পূজামণ্ডপে বক্তব্যের একপর্যায়ে গীতা পাঠ করেন। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা উলুধ্বনি দেন ও শঙ্খ বাজান। গীতা পাঠ শেষে তিনি বলেন, যদি তিনি আগামীতে নির্বাচিত হন, তাহলে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব পালনে সহযোগিতা করবেন।
এর আগে গত বছরের অগাস্টে বগুড়ার শেরপুরে হিন্দুদের বাসা-বাড়ি ও মন্দির পাহারা দিচ্ছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা—এমন ছবিও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে মন্দির বা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে তারা হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
প্রশ্ন হলো, এ সবই কি ভোটে জেতার কৌশল? বিশেষ করে দলের লোগো থেকে কোরানের আয়াত বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত কি ধর্মীয় বা ইসলামপন্থী দলের তকমা ঘোচাতে চাইছে? সেটি কি সম্ভব? কেননা জামায়াতের গঠনতন্ত্রে এমন অনেক ধারা রয়েছে, যেগুলো সরাসরি ইসলামের মৌলিক অনেক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত—যা একটি দলকে কোনোভাবেই ধর্মীয় পরিচয় থেকে মুক্ত করতে পারবে না। তাহলে কি তাদের এই লোগের পরিবর্তনের পেছনে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন আদায়ই মূল টার্গেট?
তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, জামায়াতের এই রি ব্র্যান্ডিং, তাদের এই বদলে যাওয়া বা বদলে যাওয়ার চেষ্টা; দলের নাম ও গঠনতন্ত্রের পরে এবার লোগো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জামায়াত কি সত্যিই একটি বাংলাদেশপন্থি, গণতান্ত্রিক, আধুনিক চিন্তা ও মুক্তমতের রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠবে? এইসব পরিবর্তনের ফলে জামায়াত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পারসেপনশন বা ধারণায় কি সত্যিই আমূল পরিবর্তন আসবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আমাদের হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।