Published : 05 Oct 2025, 11:58 PM
বর্তমান সময়ে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালি হিন্দু সমাজের এক সামষ্টিক শিল্প ও সামাজিক চেতনার প্রতিফলন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা মণ্ডপে দেখা যাচ্ছে এক নতুন বিতর্ক—অসুরের মুখ এখন আর পৌরাণিকভাবে ‘অচেনা’ বা প্রতীকী নয়; বরং তা হয়ে উঠছে চেনা মানুষের মুখ। কোথাও অসুরের মুখে মুসলমান ধর্মীয় চিহ্ন, কোথাও আন্তর্জাতিক নেতার চেহারা, আবার কোথাও সমসাময়িক কোনও বাঙালি ব্যক্তিত্বের অবয়ব। প্রশ্ন উঠছে—এর কি কোনও পৌরাণিক যুক্তি আছে, নাকি এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্ষেপণ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরতে হবে পুরাণে, ইতিহাসে, দর্শনে এবং মানুষের মনস্তত্ত্বে।
পুরাণে অসুরের মুখ অনির্দিষ্ট
প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন—পুরাণে অসুরের মুখের কোনও নির্দিষ্ট রূপ নেই। অসুরের মুখে দাড়িগোঁফ মানেই মুসলিম বিদ্বেষ নয়—পুরাণে অসুরের কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা চেহারা নেই। দাড়ি থাকা বা না-থাকায় কোনও হেরফের হয় না। অসুরের মুখে দাড়িগোঁফ সংযোজন নতুন কোনও বিষয় নয়—ব্রিটিশ আমলে, ঊনবিংশ শতকে অসুরের রূপকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। রাজনীতিতে অসুরের চেহারা ব্যবহার নতুন কিছু নয়; কিন্তু তা সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রতীকী ছিল। অসুরের শিল্পরূপ ও রাজনৈতিক ব্যবহারকে ধর্মের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা ভুল, সতর্কতার সঙ্গে পূজা ও সমাজের শান্তি বজায় রাখা জরুরি।
‘দেবী-মাহাত্ম্য’ বা ‘দুর্গাসপ্তশতী’, যা মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এর অংশ, সেখানে মহিষাসুর বধের কাহিনি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সেই বর্ণনায় কোথাও অসুরের মুখ, জাতি বা পোশাকের উল্লেখ নেই। বরং একটিই বৈশিষ্ট্য বারবার উঠে এসেছে—তিনি রূপান্তরশীল। কখনও গরুর, কখনও মহিষের, কখনও মানুষের রূপে তিনি যুদ্ধ করছেন।
সংস্কৃত মূল পাঠে বলা হয়েছে— তদা মহিষরূপেণ দুরাত্মা দানবেশ্বরঃ। (দেবী-মাহাত্ম্য, অধ্যায় ২) অর্থাৎ, “তখন সেই দুরাত্মা দানবেশ্বর মহিষরূপ ধারণ করলেন।”
এই এক শ্লোকেই ধরা আছে পৌরাণিক অসুরের মূল বৈশিষ্ট্য—অসুরের মুখ স্থির নয়, পরিবর্তনশীল। তিনি কোনও বিশেষ জাতি, ধর্ম বা মানবগোষ্ঠীর প্রতীক নন; বরং তার মুখে প্রতিফলিত হয় মানুষের অহংকার, অন্যায় ও দমনপ্রবণতা।
তাই পৌরাণিক দৃষ্টিতে অসুর হল প্রবৃত্তির প্রতীক, ব্যক্তি নয়। দেবী দুর্গা তাকে বধ করেন মানে, মানুষ নিজের মধ্যকার অন্ধকার, অহংকার ও নীচতার ওপর বিজয়ী হয়।
সুতরাং আজকের পৃথিবীতে অসুরকে যদি মুসলমান, বিদেশি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তির মুখে রূপ দেওয়া হয়, তা একেবারেই অপৌরাণিক বিকৃতি—কারণ পুরাণ কখনোই কোনও ধর্মীয় বা মানবিক গোষ্ঠীকে শত্রু হিসেবে দেখায়নি।
ইতিহাসে দেব-অসুর সংঘাত: সংস্কৃতি ও শ্রেণির দ্বন্দ্ব
দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের লোকায়ত দর্শন আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ দেয়। তিনি বলেন, পুরাণে দেব-অসুর সংঘাত মূলত ছিল সংস্কৃতি ও শ্রেণি সংঘাতের প্রতিফলন।
প্রাক-আর্য সমাজে যারা প্রকৃতি-নির্ভর, কৃষিনির্ভর, ও সাম্যবাদী জীবনযাপন করত—তারা ছিল লোকায়ত সমাজ। পরবর্তীকালে আর্য বা বৈদিক সংস্কৃতি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন এই লোকায়ত জনগোষ্ঠীকেই ‘অসুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অর্থাৎ, ‘অসুর’ শব্দটি কোনও ধর্মীয় অপরাধ নয়, বরং ক্ষমতার ভাষা। বিজয়ী গোষ্ঠী পরাজিতের সংস্কৃতিকে ‘অসুরত্ব’ বলে চিহ্নিত করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মহিষাসুর-বধ কাহিনি এক প্রতীকী ইতিহাস—যেখানে দেবী আসলে লোকায়ত শক্তির একীকৃত রূপ আর মহিষাসুর তার প্রাচীন প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেণির প্রতিনিধি। তাই যদি আজ কেউ অসুরের মুখকে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মুখে পরিণত করে, তবে সেটি শুধু রাজনৈতিক নয়, একধরনের ঐতিহাসিক বিকৃতি। এটি সেই পুরোনো শ্রেণিবিভেদের ভাষাকে নতুন রূপে পুনরুজ্জীবিত করা, যা প্রকৃত পুরাণ-দর্শনের পরিপন্থী।
আধুনিক সময়ে অসুরের মুখ: রাজনীতির প্রতীকায়ন
বর্তমান সময়ের দুর্গাপূজায় মণ্ডপশিল্পীরা সমাজের নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। কখনও তারা সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন, কখনও রাষ্ট্রনীতি বা বিশ্বরাজনীতির প্রতীক তৈরি করেন। এই ধারায় অসুরের মুখও বদলাচ্ছে। কোথাও দেখা যায় অসুরের মুখে মুসলমানি দাড়ি বা মাথায় কিস্তি টুপি, কোথাও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন বা মুহাম্মদ ইউনূসের মুখাবয়ব।
এই প্রবণতার মূল কারণ দুটি—একদিকে রাজনৈতিক প্রতীকায়ন, অন্যদিকে সামাজিক প্রতিবাদ। কখনও এটি সমাজের অন্যায় ও দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতীকী শিল্প। আবার কখনও এটি অন্য ধর্ম বা জাতিকে ‘অসুর’ হিসেবে প্রতিস্থাপন করার রাজনৈতিক প্রয়াস। যেমন, মুসলমান মুখযুক্ত অসুর তৈরি করা মানে একপ্রকার ধর্মীয় ‘অন্যকে’ শত্রু বানানো। অন্যদিকে ট্রাম্প বা অন্য নেতার মুখ ব্যবহার করা অনেক সময় ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদী শিল্পের ভাষা। অর্থাৎ, একদিকে এটি রাজনীতিকীকৃত পৌরাণিকতা, অন্যদিকে এটি শিল্পের প্রতিবাদী রূপ। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন এই প্রতীক ব্যবহার হয়ে ওঠে বিদ্বেষের প্রচারমাধ্যম। তখন দেবী-মাহাত্ম্যের সার্বজনীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
সমাজমনস্তত্ত্বের দিক: ‘শত্রুর মুখ’ নির্মাণ
মানুষের সমাজে ‘অসুর’ বা ‘শত্রু’ ধারণাটি চিরন্তন। প্রতিটি যুগে মানুষ তার ভয়, দমন বা অপরাধবোধকে ‘অন্যের মুখে’ স্থানান্তরিত করে দেয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে Projection। আদি যুগে অসুর ছিল প্রকৃতির ভয়—ঝড়, অন্ধকার, মৃত্যু। পরে সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে ‘অসুর’ হয়ে উঠল শত্রু জাতি, বা প্রতিবেশী সম্প্রদায়। আর আজকের বিশ্বে অসুর হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা মতবিরোধী ব্যক্তি।
যখন কোনও মণ্ডপে অসুরের মুখ মুসলমান বা নির্দিষ্ট নেতার মতো বানানো হয়, তখন তা আসলে সেই সমাজের ভিতরকার ভয়, রাগ, ঘৃণা ও বিভাজনের বহিঃপ্রকাশ। মানুষ নিজের ভিতরের ‘অসুর’কে চিহ্নিত করতে না পেরে, তাকে বাইরের এক ব্যক্তির মুখে আরোপ করে। এভাবেই জন্ম নেয় ‘শত্রুর মুখ’—যা একটি সমাজকে সাময়িক ঐক্য দেয় যার ভিত্তি ঘৃণা, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আবার ভয়ের রাজনীতি তৈরি করে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ: দেবী-তত্ত্বের বিপরীতে বিভাজন
হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে দেবী দুর্গা কেবল যুদ্ধের দেবী নন; তিনি শক্তি, করুণা ও সমতার প্রতীক। তিনি সকল জীবের রক্ষাকারী, যিনি ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করেন। তার অসুরবধ কখনোই কোনও মানবগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। তিনি বধ করেন অন্যায়, অহংকার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে। অতএব, যখন আধুনিক সময়ে কেউ কোনও ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীকে অসুররূপে চিত্রিত করে, তখন তা দেবী-তত্ত্বের মূল ভাবনার পরিপন্থী হয়ে ওঠে। দেবীর মহিমা তখন সংকীর্ণ রাজনীতির মধ্যে আটকে যায়, এবং সর্বজনীন মাতৃরূপ রূপান্তরিত হয় বিভাজনের অস্ত্রে। দেবী দুর্গার মূল মন্ত্র হলো—
“যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ প্রতিষ্ঠান”–অর্থাৎ, “যিনি সকল জীবের মধ্যে শক্তিরূপে বিরাজমান”— তার পূজা কখনোই কারও মুখে ঘৃণার প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারে না।
নন্দনতত্ত্বের দিক: প্রতিবাদের শিল্প বনাম ঘৃণার শিল্প
দুর্গাপূজা এখন শিল্প ও সমাজবোধের উৎসব। বহু শিল্পী ও কিউরেটর তাদের মণ্ডপের মাধ্যমে সমসাময়িক বার্তা দিতে চান। কখনও এটি পরিবেশের বার্তা, কখনও সমাজের অন্যায় বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সমালোচনা। এই প্রেক্ষাপটে কিছু শিল্পী আধুনিক রাজনৈতিক মুখ ব্যবহার করেন—যেমন ট্রাম্প বা অন্য নেতাদের মুখে অসুর চিত্রায়ণ। এই ধরণের শিল্প অনেক সময় ব্যঙ্গাত্মক বা সামাজিক মন্তব্যের ভাষা। এটিকে একধরনের ‘সামাজিক কমেন্টারি আর্ট’ বলা যায়—যেখানে পুরাণ ব্যবহৃত হয় প্রতিরোধ বা সচেতনতার প্রতীক হিসেবে। কিন্তু যখন একই শিল্পকর্ম ধর্মীয় ঘৃণা বা সম্প্রদায়বিরোধী বার্তা দিতে শুরু করে, তখন সেটি শিল্প নয়, প্রচার হয়ে ওঠে।
শিল্প তখন তার নন্দনগত স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে রাজনৈতিক প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়। এই জায়গায় শিল্পীর দায়িত্ব খুব বড়—তিনি দেবীকে ব্যবহার করবেন না কারও বিরুদ্ধে, বরং দেবীর শক্তিকে ব্যবহার করবেন সত্য, সমতা ও মানবিকতার পক্ষে।
মহিষাসুরের পৌরাণিক আখ্যান
মহাভারতে আছে, স্কন্দ বা কার্তিকেয় হলেন সহস্রশীর্ষ, অনন্তরূপ, ঋতস্য কর্তা ও সনাতনানামপি শাশ্বত—যে শব্দগুলো পরমব্রহ্মেরই বাচক। স্কন্দ শুধু তারকাসুরকে নয়, মহিষাসুরকেও বধ করেছিলেন। অথচ আমরা দেবী দুর্গার পদতলে মহিষাসুরকে দেখি। কালিকাপুরাণে কাত্যায়ন মুনির শাপে নারী দুর্গার হাতে মহিষ নিহত হন। কার্তিক নয়, তাকে বধ করছেন দেবী দুর্গাই। এক্ষেত্রে মহাভারত নয়, কালিকাপুরাণকে মানেন আপামর বাঙালি। মণ্ডপে তাই মহিষাসুরকে দুর্গা বধ করছেন, এই চিত্রে দেখা যায়—পাশে মিটিমিটি হাসছেন মহাভারতে মহিষাসুরবধকারী কার্তিক। কে এই মহিষরূপী অসুর?
‘অসুর’ শব্দটি অত্যন্ত ভারি ও সমৃদ্ধ। সাধারণত সুরবিরোধী বা দেববিরোধীদের অসুর বলা হয়। দেবাসুরের যুদ্ধে দেখা যায়, অসুররা মৃতকে বাঁচিয়ে তুলতে পারতেন। তাদের সেই মন্ত্র শিখিয়েছিলেন দেবযানীর পিতা শুক্রাচার্য। দেবগুরু বৃহস্পতিপুত্র কচের সঙ্গে দেবযানীর বিবাহ হয় না, ক্ষত্রিয়রাজা যযাতি ব্রাহ্মণকন্যা দেবযানীর পাণিগ্রহণ করেন। দেবযানীর সঙ্গে যযাতির অনুগমন করেন অসুররাজ বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠাও। শর্মিষ্ঠার সন্তান থেকে যাদব, পৌরব-কৌরবদের উৎপত্তি। অসুর মানেই খারাপ, এমন সাধারণীকরণ না করাই ভাল। ঋগ্বেদে ‘অসুর’ শব্দের অর্থ প্রাণবান, বলবান এবং ক্ষেপ্তা। জেন্দাবেস্তায় ‘অহুর’ হল The Life giver and the Omniscient, God। ঋগ্বেদও বলছেন, অসুরঃ সর্ব্বেষাং প্রাণদঃ (১.৩৫.৭)।
আমরা জানি, মহিষ হল পশু। কিন্তু মহিষের অন্তর্গত যে ধাতু ‘মহ্’, তার অর্থ হল পূজা। রম্ভ মহিষের পিতা। মহাভারতে আছে, অনুহ্রাদ বা অনুহ্লাদ হলেন মহিষের পিতা। অনুহ্রাদ হিরণ্যকশিপুর তৃতীয় পুত্র। দেবীভাগবত অনুযায়ী, মহাদেবের বরে রম্ভ নামক অসুরের এক ত্রিলোক-জয়ী পুত্র জন্মান। তিনিই দুর্দান্ত মহিষাসুর। দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গ অধিকার করেন। তখন দেবতারা বিষ্ণুর শরণ নেন। বিষ্ণু জানান, এই দুর্দান্ত মহিষকে কোনও পুরুষ হত্যা করতে পারবেন না। দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে এক দেবীর উৎপত্তি হয়। সেই দেবীকে বিবাহ করার জন্য মহিষ দূত পাঠান। দূতকে তিরস্কার করে দেবী মহিষের বিরুদ্ধে অভিযান করেন এবং তাকে হত্যা করেন। কালিকাপুরাণে অবশ্য ভিন্ন কথা আছে। মহিষ দেবীর পূজা করতে আরম্ভ করেন। একদিন দেবী তার কাছে আবির্ভূত হলে মহিষ বলেন, তিনি যেন সর্বযজ্ঞে পূজিত হন এবং দেবীর পদসেবা করার অধিকার পান। দেবী উত্তরে জানান, সমস্ত যজ্ঞভাগ দেবতাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে, আর কিছুই অবশিষ্ট পড়ে নেই; তবে তুমি আমার পদসেবায় নিযুক্ত থাকবে এবং যেখানে আমার পূজা হবে, সেখানে তুমিও পূজা পাবে।
ছান্দোগ্য উপনিষদে প্রজাপতি ও ইন্দ্রবিরোচন সংবাদে আছে, প্রজাপতির কাছে দেবগণের প্রতিনিধি হয়ে ইন্দ্র এবং অসুরদের হয়ে বিরোচন গেলেন আত্মা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে। সমস্ত কিছু শুনে দুজনেই যখন প্রস্থান করছেন, প্রজাপতি মনে মনে বললেন, আত্মাকে উপলব্ধি না করেই দুজনে চলে গেল। এদের মধ্যে যে একেই উপনিষদ বা গুহ্যজ্ঞান বলে গ্রহণ করবে সে দেব হোক বা অসুর, বিনাশপ্রাপ্ত হবে। সেই বিরোচনের উত্তরসূরি হলেন মহিষাসুর আর দেবগণের সম্মিলিত তেজের নাম দুর্গা।
তাই দেবী দুর্গার পাশাপাশি অসুরও পূজা পান। কেউ কেউ বলেন, মহিষাসুর কোনও অশুভ শক্তি নন, তিনি পরাজিত মাত্র। বিপথগামী দেবতাদের শিক্ষা দিতেই নাকি ভক্ত ও নিষ্ঠাবান মহিষাসুরকে বেছে নিয়েছিলেন দেবী। তাই মহিষাসুর আজও জীবিত ও প্রাণবন্ত। দেবী দুর্গার পূজার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও পূজিত হন। যারা এই অসুরের জায়গায় মুহাম্মদ ইউনূস, ডনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য কোনো রূপকে রাখছেন, তারা কি ভেবে দেখেছেন, দেবীর সঙ্গে ওরাও পূজা পাচ্ছেন ভক্তদের কাছ থেকে।