Published : 08 Jul 2025, 06:35 PM
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে ‘ভিউ সাংবাদিকতা’। অনেকে এটাকে বলেন ‘ভাইরাল রোগ’। বিভ্রান্তিকর ও চটকদার শিরোনাম দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ‘বিস্তারিত কমেন্টে দেখুন’ কিংবা কোনো একটি বিষয়ে একটি বাক্য লিখে ‘যা জানা গেলো’ শিরোনাম দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করার এক অদ্ভুত কৌশল চালু হয়েছে।
মূলত সংবাদমাধ্যমপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে অনেক বেশি সক্রিয় হওয়ার পরে সংবাদ ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্টকে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তথা রিচ বাড়াতে এমন সব কৌশল অবলম্বন করছে, যা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন প্লাটফর্মে একটি হাস্যকর শিরোনাম দেখে ওই টেলিভিশনের একজন নিউজ এডিটরকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম এটা কী ধরনের শিরোনাম? তিনি অনেকটা অসহায়ত্বের সুরে বলেছেন, ‘ভাই এটা তো আমরা দেখি না। ডিজিটাল টিম করেছে।’ তার মানে টেলিভিশনের মূল গেটকিপার নিউজ এডিটররা জানেন না তাদের টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন বা ডিজিটাল প্লাটফর্মে কী যাচ্ছে! কী খবর দিচ্ছে আর কী তার শিরোনাম!
প্রশ্ন হলো, টেলিভিশন বা পত্রিকার ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো কি প্রতিষ্ঠানের আলাদা সত্তা? অথচ ডিজিটাল প্লাটফর্মে ওই টেলিভিশন বা পত্রিকার লোগো থাকে। সুতরাং একজন সাধারণ পাঠকের এটা জানার কোনো সুযোগ নেই যে, ডিজিটাল প্লাটফর্মের খবর, কনটেন্ট বা শিরোনামে নিউজ এডিটরদের কোনো এখতিয়ার নেই। তার মানে কর্তৃপক্ষও মনে করছে যে, ডিজিটাল প্লাটফর্মে যা খুশি দেওয়া যাবে। এমন একটি অদ্ভুত ও নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যম আরও বেশি জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে, সেদিকে কারো খেয়াল নেই।
তারা চটকদার ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়ে, ‘যা জানা গেলো’ কিংবা ‘বিস্তারিত কমেন্টে’ দেখার জন্য প্ররোচনা দিয়ে ভেতরে গার্বেজ কনটেন্ট ভরে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে টাকা আয় করছে ঠিকই, বিপরীতে সংবাদমাধ্যমের যে স্ট্যান্ডার্ড, তার যে দায়বদ্ধতা ও রীতি-নীতি—তার গলায় ছুরি চালাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আখেরে যে সাংবাদিকতাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং এই ধরনের কৌশল যে দিন শেষে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতি করছে, সেদিকে কারো খেয়াল নেই।
এ এক অদ্ভুত ইঁদুর দৌড়। খুব জনপ্রিয় ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটিকে এই দৌড়ে যুক্ত হতে দেখে নিজেই হতাশ হয়ে পড়ি। এই প্রবণতা সামগ্রিকভাবে যে সংবাদমাধ্যমেরই ক্ষতি করছে, সেটি হয়তো কেউ উপলব্ধি করছেন না। যে কারণে এখন এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও প্রোপাগান্ডামূলক সাংবাদিকতার বিপরীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া লোকজন আরও বেশি হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে—যেখানে কোনো খবর নেই। বরং আছে রসিকতা।
অনেক সাধারণ মানুষ ধরতে পারছেন না এই রকম রসিকতা। তারা ফটোকার্ডে পত্রিকা বা টেলিভিশনের লোগো দেখে ভাবছেন এটাই বোধ হয় সঠিক। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর দেখে অভ্যস্ত মানুষের বিরাট অংশেরই ডিজিটাল লিটারেসি না থাকায় তারা কোনটি খবর আর কোনটি খবরের নামে ব্যঙ্গ ফটোকার্ড—সেটি বুঝতে পারছেন না। পারছেন না বলে তারা সেগুলোকে খবর হিসেবে বিশ্বাস করছেন।
যেমন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনির ছবি দিয়ে একটি ফটোকার্ড বানিয়ে তার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে: ‘গোলাম মওলা রনির পায়ুপথের কোলন ক্যান্সার নিয়ে যা জানা গেলো।’ ওপরে একটি জাতীয় দৈনিকের লোগো। এটা এমনভাবে বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণভাবে একজন পাঠকের পক্ষে এটা বোঝার উপায় নেই যে, এটা আসলে ওই পত্রিকার ফটোকার্ড নয়। বরং অন্য কেউ এটা ব্যঙ্গ করার জন্য বানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্দিষ্ট দুয়েকটি সংবাদমাধ্যমপ্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে এই ধরনের ফটোকার্ড বানানো হচ্ছে সবচেয়ে বেশি, যারা আসলে নিজেরাও উদ্ভট ফটোকার্ড বানিয়ে ভিউ বাণিজ্য বাড়াচ্ছেন। তাদের লোগো ব্যবহার করে ফটোকার্ড বানাচ্ছেন যারা, তারা ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু সংবাদ বা ফটোকার্ড দ্বারা হয় ভিকটিম হয়েছেন না হয় সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। অর্থাৎ বিভ্রান্তিকর, ভিউ ও ভাইরাল সাংবাদিকতার প্রতিবাদ হিসেবে কেউ কেউ এরকম কাউন্টার ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন—যা মানুষকে আরও বিভ্রান্ত করছে।
কোনো কোনো পত্রিকা এর প্রতিবাদও করছে। যেমন সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের লোগো ব্যবহার করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতা ডা. তাসনিম জারাকে নিয়ে একটি ফটোকার্ডের প্রতিবাদ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ওই ফটোকার্ডটি নকল। এরকম ভুয়া ফটোকার্ডে বিভ্রান্ত না হয়ে তাদের ভেরিফায়েড পেজের সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অপতথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্যও এমনটা করা হচ্ছে। যেমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের লোগো ব্যবহার করে গত কিছুদিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে ভুয়া সাইটে খবর প্রচার এবং সেই সব খবরের এমন ফটোকার্ড বানাতে দেখা গেছে। অনলাইন এই সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের সাইটে নিউজ করে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, কেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং দায়িত্বশীল পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকেও কেন এই ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামতে হলো?
একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলের ডিজিটাল প্লাটফর্মে একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম: ‘সংসার ভাঙলো মাহির। বিস্তারিত কমেন্টে।’ বাংলাদেশের যেকোনো সাধারণ পাঠক এই খবরটি পড়ে শুরুতেই ধরে নেবেন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সংসার ভেঙেছে। স্বভাবতই তারা কমেন্টে গিয়ে লিংকে ক্লিক করবেন। কিন্তু লিংকে ক্লিক করে দেখা গেলো, যে মাহির কথা বলা হয়েছে, তিনি মুম্বাইয়ের একজন অখ্যাত অভিনেত্রী। এমনও হতে পারত, খবরটি মাহিয়া মাহি সর্বশেষ যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন, সেই চরিত্রের সংসার ভাঙার গল্প।
সম্প্রতি একটি দায়িত্বশীল পত্রিকার ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল: ‘এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যা জানা গেলো।’ লিংকে ক্লিক করে খবরের গিয়ে দেখা গেলো সেখানে লেখা আছে, ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে। অথচ তার আগেই অনেক টেলিভিশন চ্যানেলের টিকারে এবং একাধিক পত্রিকার খবরে এটা বলা হয়েছে যে, ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে। প্রশ্ন হলো, ‘যা জানা গেলো’—জাতীয় শিরোনাম না করে যদি শিরোনামেই বলে দেওয়া হতো যে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ জুলাই, তাহলে কি পাঠক ওই খবরটি পড়ত না? পাঠককে খবরের ভেতরে যেতে বাধ্য করার জন্য অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও চটকদার শিরোনাম দিতে হবে কেন? নিজেদের খবর ও কনটেন্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি? কেন এই ঘাটতি তৈরি হলো, সেটি কি প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচনা করে দেখেছে?
এরকম অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও চটকদার শিরোনাম করে বিস্তারিত কমেন্টে দেখুন—এটা কি মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি নাকি নিজেদের পণ্যের মান নিয়ে নিজেরাই সন্দিহান বলে পাঠক আকৃষ্ট করার কৌশল? এই কৌশল কি কোনো ভালো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিতে পারে?
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে যে গতিতে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ হয়েছে, সেই গতিতে এখানে মানুষের শিক্ষা ও সচেতনতা, বিশেষ করে ডিজিটাল লিটারেসি তৈরি হয়নি। অসংখ্য মানুষ ফেইসবুককে সংবাদমাধ্যম মনে করে। তারা পরস্পরের আলাপচারিতায় বলে: ‘দেখেন তো খবরটা ফেইসবুকে দিছে কি না’। অথচ ফেইসবুক যে খবরের জায়গা নয়, এই সাধারণ জ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান তৈরির আগেই মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে ইন্টারন্টে সংযুক্ত স্মার্টফোন ও ফেইসবুক।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করা তথা দৃশ্যত শিক্ষিত মানুষজনও কোনটা খবর, কোনটা বেখবর, কোনটা প্রোপাগান্ডা, কোনটা গুজব—সেটি বুঝতে পারে না। পারার কথাও নয়। কারণ এই শিক্ষাটা তিনি পাননি। যে কারণে ফেইসবুকে কে কী লিখলেন, কে প্রোফাইল লাল বা কালো করলেন, কে কার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করলেন—এসব দিয়েই একজন মানুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অথচ ফেইসবুক পোস্ট বা কমেন্টই যে একজন মানুষকে বোঝা বা তাকে বিচার করার একমাত্র উপায় নয়; বরং ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও যে প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবন রয়েছে; ফেইসবুকের বাইরেও যে তিনি আরেকজন স্বতন্ত্র মানুষ—সেই চিন্তাটা অনেকেই করেন না। করতে চান না। বরং আপনি জুলাই আন্দোলনের সময়ে কী লিখেছিলেন অথবা লেখেননি; না লিখে কেন চুপ ছিলেন—এরকম অদ্ভুত সব যুক্তি দিয়ে ‘ফ্যাসিস্টের দালাল’ কিংবা ‘ষড়যন্ত্রকারী’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। অথচ ফেইসবুকের বাইরে তার আরও অনেক কাজ আছে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও তার একটা রিয়েল দুনিয়া আছে। কিন্তু আমরা এখন ব্যক্তির রিয়েলিটিকে বাদ দিয়ে তার ভার্চুয়াল উপস্থিতির দ্বারাই তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছি।
সংবাদমাধ্যম মূলত মানুষের এই বিভ্রান্ত হওয়া তথা ভার্চুয়াল দুনিয়াকেই আসল দুনিয়া ভাবার প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে তার খবর ও কনটেন্ট দেখতে বাধ্য করার জন্য এমন সব কৌশল নিচ্ছে—যা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এখানে আরেকটি বড় সংকট তৈরি করেছে বিজ্ঞাপনের বাজার। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া বিকশিত হওয়ার পরে মানুষের তথ্য ও বিনোদন চলে গেছের হাতের মুঠোয়। সে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনেই সংবাদপত্রের খবর যেমন পড়ে, তেমনি টেলিভিশনের খবরও দেখে। যে কারণে বাসায় পত্রিকা রাখা এবং ড্রয়িংরুমে বসে খবর দেখার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। নাগরিক মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে। ফলে সে রাস্তায়, গাড়িতে, বাজারে, অফিসের কাজে—যেখানেই থাকুক, সারাক্ষণ মোবাইল ফোনেই দেশ-বিদেশের আপডেট পায়।
সোমবার সন্ধ্যায় রিকশায় বাসায় ফেরার পথে সাতরাস্তার মোড়ে সিগন্যালে আটকে থাকার সময় খেয়াল করলাম একজন রিকশাচালক আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছেন: ‘মমতাজের কী হইছে?’ আরেকজন উত্তর দিলেন, ‘অসুস্থ। ফেইসবুকে দেখলাম।’
একজন রিকশাচালকেরও ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থাকাটা নিঃসন্দেহে বিরাট অগ্রগতি। তিনিও মনে করেন ফেইসবুকই হচ্ছে খবর জানার উৎস। যদিও মমতাজের ওই খবরটি হয়তো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনের—যেটি ফেইসবুকে শেয়ার করা হয়েছে। তার মানে খুব সাধারণ বা কম পড়ালেখা জানা মানুষও যে তাদের নিত্যদিনের তথ্য ও বিনোদনের জন্য স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছেন, সেই সুযোগটা নিয়েছে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা। তারাও বুঝতে পারছে, সবচেয়ে বেশি জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত পৌঁছানোর একমাত্র পথ হচ্ছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম বা অনলাইন মিডিয়া। অতএব তারা এখানে বিনিয়োগ বাড়াল। ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিনিয়োগের বিরাট অংশ চলে যাওয়ার ধাক্কাটা পড়ল সংবাদমাধ্যমের মূল চ্যানেলে। মূল পত্রিকায়। মালিকপক্ষও বুঝে গেল, তাদের টিকে থাকতে হলে অনলাইন প্লাটফর্মকে জনপ্রিয় করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু জনপ্রিয় করার শর্টকাট পথ কী? সেটি হলো, সংবাদ বা কনটেন্টকে ভাইরাল করা। কোনো একটি খবর বা কনটেন্ট মিলিয়ন ভিউ হয়ে গেলেই, অর্থাৎ ১০ লাখ মানুষ দেখলেই তাদের গ্রাহক তথা সাবস্ক্রাইবার বেড়ে গেল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য খবর ও কনটেন্টেরও ভিউ বাড়তে থাকল। যত বেশি ভিউ তত বেশি পয়সা।
কিন্তু যারা এই ভিউ ও ভাইরালের নেশায় ছুটল না; যারা সাংবাদিকতা বা সংবাদমাধ্যমের নীতি-নৈতিকতা মেনে চলার পথে থাকল; যারা চটকদার, বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ ও প্রোপাগান্ডামূলক খবর ও কনটেন্ট বানানোর দৌড়ে নাম লেখাল না, তারা পিছিয়ে থাকল। ফলে তারাও ভাবতে শুরু করল, টাকা আয়ের জন্য বোধ হয় এই কৌশলই নিতে হবে। ফলে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা মেনে সংবাদ বা শিরোনাম নয়, বরং তারাও স্রোতে গা ভাসালে। এই গা ভাসানোর মধ্য দিয়ে যে জনবিচ্ছিন্ন সংবাদমাধ্যম অধিকতর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে; মিথ্যা, ভুল, প্রোপাগান্ডা, অর্ধসত্য জিনিসগুলোকেই মানুষ বিশ্বাস করছে বা ‘খাচ্ছে’—সেই নির্মম সত্যটিও এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। একটি গুজবনির্ভর, দলকানা, একচোখা জনগোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে—যারা দেশ ও বিদেশের নানা সংকটকে ফেইসবুকের চোখ দিয়ে দেখছে—যার আড়ালে থেকে যাচ্ছে প্রকৃত সত্য।