Published : 02 Jan 2026, 11:55 PM
সিরাজ সিকদার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক আলোচিত চরিত্র। কারও কাছে তিনি একজন আজন্ম বিপ্লবী, কেউ তাকে অভিহিত করেন অত্যন্ত প্রখর মেধাবী কমিউনিস্ট হিসেবে, আবার কেউ কেউ তাকে বাংলাদেশে চরমপন্থা বা সর্বহারাদের রক্তাক্ত রাজনীতির প্রধান ব্যক্তি হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন। আজকাল তাকে ‘ডাকাত’ বলে ডাকতে দেখা যাচ্ছে।
যে যা-ই বলুক না কেন, সিরাজ সিকদারকে উপেক্ষা করা কঠিন। কারণ মাত্র ৩০ বছরের ছোট্ট জীবনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি যে গভীর ছাপ রেখেছিলেন তা সত্যিই উল্লেখযোগ্য। যে কারণে তার জন্ম ও মৃত্যু দিনে স্বাভাবিকভাবেই নানা ধরনের আলোচনা হয়।
সিরাজ সিকদারকে নিয়ে আমারও সামান্য আগ্রহ ছিল। গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের ‘লাল সন্ত্রাস: সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা রাজনীতি’ বইটিতে এই প্রভাবশালী বা অনেকের কাছে সম্মোহনী শক্তিসম্পন্ন রাজীনিতীবিদের উত্থান-পতনের বিস্তারিত আলোচনা আছে। বিশেষ করে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন গঠন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পেয়ারাবাগানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ, সর্বহারা পার্টি গঠনের নানা দিক যে কোন পাঠককে রোমাঞ্চিত করে। এছাড়া সর্বহারা পার্টির নানা ধরনের নাশকতা ও দলীয় কোন্দলে খুনোখুনির ঘটনাপ্রবাহও অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে আমার ধারণা।
এ কথা সবাই জানেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে প্রকাশ্যে সশস্ত্রভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন সিরাজ সিকদার ও তার দল। ১৯৭৩-৭৪ সাল জুড়ে সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি সারাদেশে অনেকটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এ সময় পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ ও অনেক ব্যাংক লুটের সঙ্গে তার দলের যোগসূত্র ছিল বলে অনেকেই উল্লেখ করেন। এছাড়া ১৯৭৪ সালের ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর হরতালের কর্মসূচিও দিয়েছিল সর্বহারা পার্টি। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজয় দিবসকে কালো দিবস আখ্যা দিয়ে হরতালের কর্মসূচি সিরাজ সিকদারের দল পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টিই দিয়েছিল। এ ছিল এক আশ্চর্য ও দুঃসাহসিক ঘটনাপ্রবাহ। যে হরতালের প্রভাব রাজধানী ঢাকাতেও পড়েছিল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম এই মোস্টওয়ানটেড ব্যক্তি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে। এরপর কিছু রাষ্ট্রীয় নাটকের পর তাকে ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। খুব সম্ভবত এটিই ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম হাইপ্রোফাইল রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। যাই হোক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষক হিসেবে সিরাজ সিকদার হত্যাকাণ্ডের খবরের প্রতি আমার একটু আগ্রহ ছিল। যা থেকে সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ডের পর ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, ‘দৈনিক বাংলা’, ‘দ্য বাংলাদেশ অবজারভার’ ও ‘দ্য বাংলাদেশ টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করার সুযোগ হয়েছিল। আসুন একটু সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক।
সাবধানী দৈনিক ইত্তেফাকে সর্বশেষ সংবাদে সিরাজ সিকদারের মৃত্যু খবর

১৯৭৫ সালে দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ছিল ইত্তেফাক। এ সময় সংবাদপত্রটির সম্পাদক ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এক সময় আওয়ামী লীগের মুখপত্র হলেও এই সংবাদপত্রটি শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের অনেক ক্ষেত্রেই ছিল সমালোচক। তবে সিরাজ সিকদারের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদপত্রটি বেশ সাবধানী ছিল বলে মনে হয়। ৩ জানুয়ারি ১৯৭৫ ইত্তেফাক সপ্তম ও অষ্টম কলামে ডান পাশের ওপরের দিকে ছাপে—‘গ্রেফতারের পর পলায়নকালে পুলিসের গুলীতে সিরাজ সিকদার নিহত’ শিরোনামের সংবাদ।
যাতে লেখা হয়, “গতকাল (বৃহস্পতিবার) শেষ রাত্রিতে প্রাপ্ত পুলিসের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয় যে, পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি নামে পরিচিত একটি গুপ্ত চরমপন্থী দলের প্রধান সিরাজুল হক সিকদার ওরফে সিরাজ সিকদারকে পুলিস ১লা জানুয়ারী চট্টগ্রামে গ্রেফতার করেন। একই দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁহাকে ঢাকা পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাসের সময় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক এক বিবৃতি দেন এবং তাঁহার পার্টি কর্মীদের কয়েকটি গোপন আস্তানা এবং তাহাদের বেআইনী অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার স্থানে পুলিশকে লইয়া যাইতে রাজী হন। সেইভাবে, ২রা জানুয়ারী রাত্রে একটি পুলিস ভ্যানে করিয়া তাঁহাকে ঐসব আস্তানার দিকে পুলিস দল কর্তৃক লইয়া যাইবার সময় তিনি সাভারের কাছে ভ্যান হইতে লাফাইয়া পড়িয়া পলায়ন করিতে চেষ্টা করেন। তাহার পলায়ন রোধ করার জন্য পুলিস দল গুলীবর্ষণ করিলে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলেই তাঁহার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে সাভারে একটি মামলা দায়ের করা হইয়াছে।
এখানে উল্লেখ করা যায় যে, সিরাজ সিকদার তাঁহার গুপ্ত দলে একদল দূর্বৃত্ত সংগ্রহ করিয়া তাহাদেদর সাহায্যে হিংস্র কার্যকলাপ, গুপ্তহত্যা, থানার উপর হামলা, বন অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ইত্যাদির উপর হামলা, ব্যাঙ্ক, হাট-বাজার লুট, লঞ্চ ও ট্রেন ডাকাতি, রেললাইন তুলিয়া ফেলার দরুন গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনা, লোক জনের কাছ হইতে জোর করিয়া অর্থ আদায়ের মত কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করিয়া আসিতেছিলেন।”
দৈনিক বাংলা সাত কলামের শিরোনামে প্রকাশ করে সিরাজ সিকদারের মৃত্যু খবর

১৯৭৫ সালে দৈনিক বাংলা ছিল সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদপত্র। তখন সংবাদপত্রটির সম্পাদক ছিলেন নুরুল ইসলাম পাটোয়ারি। সরকার নিয়ন্ত্রিত হলেও এই সংবাদপত্রটি সিরাজ সিকদার হত্যাকাণ্ডের খবর অনেক গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে। ৩ জানুয়ারি ১৯৭৫ দৈনিক বাংলার প্রধান শিরোনাম ছিল —‘সিরাজ শিকদার গ্রেফতারঃ পলায়নকালে নিহত’। এই খবরে বিস্তারিত লেখা হয়, “পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’নামে গোপন উগ্রপন্থী দলের প্রধান সিরাজুল হক শিকদার ওরফে সিরাজ শিকদারকে গত ১লা জানুয়ারী চট্টগ্রামে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঐ দিনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় পাঠান হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি একটি স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি দেন এবং তার দলীয় কর্মীদের ও অননুমোদিত অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার গোপন আড্ডায় পুলিশকে নিয়ে যেতে রাজী হন। তদনুযায়ী ২রা জানুয়ারী রাতে পুলিশের সঙ্গে একটি পুলিশ ভ্যানে এইসব গোপন আড্ডায় যাবার সময় তিনি সাভারের কাছে পুলিশ ভ্যান থেকে লাফিয়ে পড়েন এবং পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি যাতে পালাতে না পরেন সেজন্য পুলিশ গুলি চালনা করে। এর ফলে সিরাজ শিকদারের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু ঘটে। সাভার থানায় এ ব্যাপারে একট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, সিরাজ সিকদার তার গোপন দলের জন্য একদল ডাকাতকে সংগ্রহ করেছিলেন যাঁদের নিয়ে তিনি হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে সারা দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করেছিলেন। গোপন হত্যাকান্ড চালাচ্ছিলেন, থানা, বন অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আক্রমণ, ব্যাংক, হাটবাজার লুট করেছিলেন, লঞ্চ ও ট্রেনে ডাকাতি করেছিলেন। রেললাইন তুলে ফেলে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছিলেন এবং লোকজনের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করেছিলেন। ঢাকায় পুলিশ সুপারের এক প্রেস রিলিজে এই খবর জানান হয়েছে।”
দৈনিক ইত্তেফাক সরকারি ভাষ্যের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে ক্ষ্যান্ত দিলেও দৈনিক বাংলা সিরাজ সিকদারের দাফনেরর সংবাদও প্রকাশ করে ৪ জানুয়ারি ১৯৭৫। সেই সংবাদের প্রধান শিরোনাম ছিল—‘সিরাজ শিকদারের দাফন সম্পন্ন’। এই সংবাদে বিস্তারিত বলা হয়—“ময়না তদন্তের পর পুলিশের গুলিতে নিহত সিরাজ সিকদারের লাশ শুক্রবার তার পিতা জনাব আদুর রাজ্জাক সিকদারের হাতে অর্পণ করা হয়েছে। পরে আত্মীয় স্বজন তাকে ঢাকার একটি বেসরকারী কবরস্থানে দাফন করেন। ঢাকার পুলিশ সুপার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর দেন।
ময়না তদন্তের স্থলে পুলিশ দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিকে মৌখিকভাবে জানান যে, ২রা জানুয়ারী দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নিহত সিরাজ সিকদারের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে আনা হয়।
উল্লেখ্য যে, গোপন উগ্রপন্থী দল পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজুল হক সিকদার ওরফে সিরাজ সিকদার পহেলা জানুয়ারী চট্টগ্রামে গ্রেফতার হন। ঐদিন তাকে ঢাকায় পাঠান হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি তার দলের কর্মীদের, অননুমোদিত অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের আড্ডায় পুলিশকে নিয়ে যেতে রাজী হন। তদনুযায়ী ২রা জানুয়ারী রাতে পুলিশের সঙ্গে একটি ভ্যানে এসব গোপন আড্ডায় যাবার সময় তিনি ঢাকার সাভারেরর কাছে পুলিশ ভ্যান থেকে লাফিয়ে পড়েন এবং পালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।”
দ্য বাংলাদেশ অবজারভারের প্রধান শিরেনামে সিরাজ সিকদারের মৃত্যু সংবাদ

১৯৭৫ সালের আরেকটি প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য বাংলাদেশ অবজারভার। এ সময় সংবাদপত্রটির সম্পাদক ছিলেন ওবায়দুল হক। ৩ জানুয়ারি ১৯৭৫ সংবাদপত্রটি প্রধান শিরোনাম ছিল ‘Seraj Sikder dead’. যে সংবাদে বিস্তারিত বলা হয়, “Serajul Huq Sikder (Seraj Sikder) Chief of an under-ground extremist party styled Purba Bangla Sarbahara Party was arrested by Police at Chittagong on January 1. He was sent to Dacca for interrogation on the same day, says a police Press release issued at 1 a.m. Friday.
The Press release further says; During interrogation he made a confessional statement and agreed to accompany police to point of his party workers and their unauthorized arms and ammunition. Accordingly on January 2 night while being taken to these hideouts in a Police van by Police party, he jumped out from the van near Savar and tried to escape. The Police party opened fire to prevent the escape resulting in the instantaneous death of Seraj Sikder. A case has been registered at Savar P.S. in this connection.
It may be mentioned that Seraj Sikder had collected a gang of bandits in his under-ground party with whom he had been disturbing the peace and tranquility in the country by resorting to violent crimes, such as, secret killings, raids on police stations, forest offices, telephone exchanges etc. looting of banks, hats and bazars, launch and train dacoities, removal of Railway tracks resulting is serious train accident and extortion of money from people.”
দ্য বাংলাদেশ অবজারভার ৪ জানুয়ারিও সিরাজ সিকদারকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। সেদিনের সংবাদ শিরোনাম ছিল ‘Siraj Sikders body handed over to his father’. এই সংবাদটি খুবই ছোট্ট ছিল। যাতে বলা হয়, ‘The body of Siraj Sikder who was killed in police firing on night of January 2 near Savar while attempting to escape from custody was handed over to his father Mr. Abdur Razzaque Sikder after post-mortem examination according to a Press release Issued by the SP of Dacca.
The body was buried on Friday by his father and other near relations in a public graveyard in Dacca City.’
শেখ মনির সংবাদপত্র দ্য বাংলাদেশ টাইমস্ও সিরাজ সিকদার হত্যাকাণ্ডে খবরে গুরুত্ব দিয়েছিল

সাংবাদিকতার পরিভাষায় কোন সংবাদকে খুব গুরুত্ব সহকারে প্রকাশকে বিশেষ বা যথাযথ ট্রিটমেন্ট বলা হয়ে থাকে। সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে খুব সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ ট্রিটমেন্ট দিয়েছিল দ্য বাংলাদেশ টাইমস্। এখানে একটি বিষয় খুবই কৌতূহল-উদ্দীপক যে, সে সময় দ্য বাংলাদেশ টাইমস্ পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ও যুব নেতা শেখ ফজলুল হক মনি। দ্য বাংলাদেশ টাইমস্ ৩ জানুয়ারির সংবাদপত্রে সিরাজ সিকদারের মৃত্যু সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘IN HIS ESCAPE BID: Siraj Sikder dies in firing’. এই সংবাদে লেখা হয়, “Serajul Huq Sikder alias Seraj Sikder, Chief of an underground extremist party styled Purba Banglar Sarbahara Party was arrested by Police at Chittagong on January 1, says a Press release issued in Dacca city by the Superintendent of Police, Dacca on Thursday.
The Press release said: He was sent to Dacca for interrogation on the same day. During interrogation he made a confessional statement and agreed to accompany Police to point out some of the hideouts of his party-workers and their unauthorized arms and ammunition.
Accordingly, on 2.1.75 night while being taken to the hideouts in a Police van by Police party, he jumped out from the van near Savar and tried to escape. The Police party opened fire to prevent the escape resulting in the instantaneous death of Seraj Sikder. A case has been registered at Savar P.S in this connection, it further said.
The Press release said: It may be mentioned that Seraj Sikder had collected a gang of bandits in his underground party with whom he had been disturbing the peace and tranquality in the country by resorting to violent crimes, such as, secret killings, raids on police stations, forest offices, telephone exchanges etc. looting of banks, hats and bazars, launch and train dacoities, removal of Railway tracks resulting is serious train accident and extortion of money from people.”
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ৩ জানুয়ারি সংবাদটি ছাপা হয়েছিল ছবিসহ। এরপর ৪ জানুয়ারিও সিরাজ সিকদারের দাফনের খবর ছাপা হয় ছবিসহ। তবে এই ছবিটি ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই ছবিতে দেখা যায়, সিরাজ সিকদারের পিতা সিরাজ সিকদারের মরদেহ স্পর্শ করে আছেন। এই সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘Siraj Sikder buried at Mohammadpur’. যাতে বলা হয়, “The body of Sirajul Haque Sikder alias Siraj Sikder was buried at the Mohammadpur graveyard on Friday evening. Among those present at the burial and Namaz-e-Janaja of the deceased were his father, his four brothers and other relations. His mother is away from Dacca at their village home. Of two sisters of Siraj Sikder one is now at Chittagong. Nothing could be known about the whereabouts of Sirajs own family- his wife and three children. Siraj Sikder, Chief of an underground extremist party styled Purbo Banglar Sarbahara Party was killed while trying to escape from police custody on Thursday night at Savar.
Mr. Abdur Razzak Sikder, the father of late Siraj Sikder identified the body of his son at the morgue of the Dacca Medical College Hospital at about 1-15 p.m. on Friday.
A Press release issued by police on Friday night said that the body of the deceased was made over to his father after post mortem examination.
The fater of late Siraj sikder also told the Times that he had approached the Government to hand over the body of his son for burial.
The Government handed over the body to him after post mortem and extended all possible cooperation for the burial. At first, the Azimpur Graveyard but as there was no plot available for sale, the burial took place at the Mohammadpur graveyard after Maghrib prayer on Friday.
About Siraj Sikder background his younger brother Mr. Nurul Haque Sikder told the Times that Siraj Sikder, second son of his father was born in 1941 at village Lakatta. P.S. Bhedarganj in Faridpur district. His father, Mr. Abdur Razzak Sikder who was a Circle Officer (Dev) at Rupganj P.S. under Narayanganj sub-division is now on leave preparatory to retirement.” (সংক্ষেপিত)
প্রেস রিলিজ-ভিত্তিক সংবাদে সাহসী ছবি

এই চারটি সংবাদপত্রে সিরাজ সিকদারের হত্যা সংবাদ পর্যালোচনা করে বলা যায়—এই সংবাদের প্রধান সূত্র ছিল বাংলাদেশ পুলিশ। বাহিনীটির পক্ষ থেকে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটাকে মূল ধরে সংবাদ প্রকাশ করেছিল সেই সময়ের সংবাদপত্রগুলো। তবে নানাদিক বিশ্লেষণ করে সেই সময়ের কিছু ছবি বেশ সাহসী ছিল। বিশেষ করে দ্য বাংলাদেশ টাইমস্ ও দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত সিরাজ সিকদারের পিতা মর্গে সন্তানের মরদেহ দেখছেন—এমন সংবাদ ছবিটি বেশ সাহসী ছিল। এছাড়া জানাজার ছবিও প্রকাশ করেছিল দ্য বাংলাদেশ অবজারভার ও দৈনিক বাংলা।
তবে সার্বিকভাবে সিরাজ সিকদারের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশে সবচেয়ে রক্ষণশীল ও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত ভূমিকা ছিল দৈনিক ইত্তেফাকের।