Published : 17 Mar 2026, 11:50 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অনৈক্য তথা সাংবিধানিক জটিলতার সৃষ্টি হবে, সেটি অবধারিতই ছিল। জুলাই সনদের ওপরে যখন গণভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই এরকম শঙ্কার কথা বলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যে প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হলো এবং যে প্রক্রিয়ায় ও যেসব প্রশ্নে গণভোট নেওয়া হলো, সেখানে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। কিন্তু এসব ত্রুটি নিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি খুব বেশি আলোচনা করতে চায়নি বা করেনি এই কারণে যে, তাতে পুরো নির্বাচনটিই ভণ্ডুল বা দীর্ঘ সময়ের জন্য ঝুলে যেতে পারত। বিএনপি বরং যেকোনো মূল্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি চেয়েছে। তার সঙ্গে একই দিনে গণভোট ইস্যুতেও তাদের অবস্থান ছিল ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’। গণভোটে হ্যাঁ তথা জুলাই সনদের পক্ষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট চেয়েছে একেবারে শেষদিকে। তবে গণভোট ইস্যুতে বিএনপির এই অবস্থানও ছিল বেশ কৌশলী। কেননা তারা জানত, গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়ে যাবে না। কারণ সেখানে ‘সাংবিধানিক ফ্যাকরা’ আছে—যা এখন সামনে আসছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার। এদিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন তথা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছিল বিরোধী দল তথা জামায়াত ও এনসিপির জোট। অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবস শুরুর আগের দিন শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ হুঁশিয়ারি দেন, যদি বিএনপি তথা সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রশ্নে ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণ না করে তাহলে রবিবারই হবে ত্রয়োদশ সংসদের শেষদিন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক আহ্বানের দাবিতে রাজপথে ১১ দলীয় জোট আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও জানান তিনি।
পরদিন রবিবার সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এবারের সংসদ সদস্যরা দুটি আলাদা ভোটের মাধ্যমে দুটি ‘ক্যাপাসিটিতে’ নির্বাচিত হয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ আদেশ অনুসারে তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চান।
তার বক্তব্য শেষ হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ট্রেজারি বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ—যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রশ্নে নিজেদের যুক্তিতর্ক ও দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন, তিনি বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জবাব দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আবারও তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিদ্যমান সংবিধানে যেহেতু সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কোনো বিধান নেই, অতএব সংবিধান সংশোধন করে আগে এই বিধানটি সংবিধানে যুক্ত করতে হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকবেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশটিকে ‘আরোপিত’ আদেশ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ বাদে সবগুলো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এই সংসদের আহ্বানও তিনি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সেটা রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না বিধায় তা করেননি।
বিরোধী দলের ব্যাখ্যা হচ্ছে, সংবিধানে না থাকলেও রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকতে পারেন। কেননা গণভোটে জনগণ যে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেখানেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান রয়েছে। আর এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়েছে স্বয়ং রাষ্ট্রপতির নামে। জনগণের অভিপ্রায়ের কথা বলে।
পরিহাস হলো, যে বিরোধী দল সংসদের প্রথম দিনে সাংবিধানিক রীতি মেনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে গেল; তারা যে রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং গ্রেপ্তার দাবি করছে; যে রাষ্ট্রপতিকে তারা ফ্যাসিস্টের দোসর বলে আখ্যা দিয়েছে—সেই রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে উল্লিখিত বিধানের বাস্তবায়ন চায়। এটি তাদের দ্বিচারিতা কি না, জনমনে সেই প্রশ্ন আছে।
এখানে তাদের জবাব হয়তো এই যে, তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা করছে না, বরং এই চেয়ারে বসা ব্যক্তি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরোধিতা করছে। তর্কের খাতিরে এটা মেনে নিলেও যে জনগণের অভিপ্রায়ের কথা বলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়েছে, সেখানে আসলেই জনগণের অভিপ্রায় কতটুকু ছিল, সেটি কে নির্ধারণ করবে? জনগণ বলতে দেশের কত শতাংশ মানুষ? যে জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়ায় বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপির অনেক জায়গায় নোট অফ ডিসেন্ট বা আপত্তি ছিল এবং এই নোট অব ডিসেন্টগুলো বাদ দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের চূড়ান্ত ডকুমেন্টটি অনুমোদনের জন্য যখন সরকারকে হস্তান্তর করল, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হল এটি প্রতারণা। তার মানে এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল যে ডকুমেন্টকে প্রতারণা বলছে বা যেটি বিনা শর্তে মেনে নেয়নি, সেটি জনগণের অভিপ্রায়ে প্রকাশিত হয়েছে, এই কথা বলার কোনো সুযোগ থাকে কি না, সেটি আরেকটি প্রশ্ন। অর্থাৎ যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে এমন একটি সনদ চূড়ান্ত করা, যেখানে সবাই একমত হবে, তা হয়নি। জুলাই সনদের যে চূড়ান্ত ভার্সনটি এখন আছে, রাষ্ট্রপতির নামে যে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়েছে, সেখানে অনেক রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে বিএনপির আপত্তি আছে। সুতরাং এই সনদটি বিনা বিতর্কে সংসদে পাস হয়ে যাবে এটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন হলো, তাহলে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ কী এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক আহ্বান ছাড়া কি এই সনদ নিয়ে আলোচনা করা যাবে না? গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে মানেই কি সংসদ জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে বা এর ওপর আলোচনা করতে বাধ্য? নাকি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি চাইলেই পুরো সনদ বাতিল করে দিতে পারবে?
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে (ক) জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যারা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং সেটি সম্পন্ন হওয়ার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
অর্থাৎ যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তারা প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন এবং এই সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, সনদের কোন কোন বিধানের কতটুকু তারা রাখবেন বা রাখবেন না। কিন্তু এই কাজটি করতে হলে আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সেটি কি সংবিধান সংশোধন না করেই সম্ভব? আপাদৃষ্টিতে সম্ভব নয়। সেজন্য আগে সংবিধানে এই বিধানটি যুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করেও জুলাই সনদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। যেমন বর্তমান সংসদেই কোনো একজন সদস্য সংসদের কার্যপ্রণালিবিধি অনুসরণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাব আনতে পারেন। প্রস্তাবটি বিরোধী দলীয় নেতাই আনতে পারেন। তারপর স্পিকার তার এখতিয়ার বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। তখন সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদের প্রতিটি প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও বিতর্ক করতে পারেন। এরপর সনদের একমত হওয়া বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করার জন্য সংবিধান সংশোধন করা যায়।
তৃতীয় বিকল্প হলো, সরকারি ও বিরোধী দল আগে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধন বিল (এর আগে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধন হয়েছ) আকারে প্রস্তাবগুলো সংসদে তুলতে পারে। বিল দুইভাবে সংসদে উত্থাপন করা যায়। একটি হলো সরকারি বিল, যেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী উত্থাপন করেন। সংবিধান সংশোধন বিল আনতে হবে আইনমন্ত্রীকে। আরেকটি পদ্ধতি হলো বেসরকারি সদস্য বিল। মন্ত্রী বাদে সরকারি বা বিরোধী দলের যেকোনো সংসদ সদস্য বিলটি উত্থাপন করতে পারেন। যেমন নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ বিলটি ছিল বেসরকারি সদস্য বিল, যেটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি তখন মন্ত্রী ছিলেন না। যদিও সংবিধান সংশোধন বিল আইনমন্ত্রীর বাইরে অন্য কোনো সদস্য আনলে সেটি সংসদ অনুমোদন করবে কি না, সেটি অন্য তর্ক রয়েছে। কিন্তু এটিও একটি পদ্ধতি। অর্থাৎ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করলেও জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো সংবিধান সংশোধন বিল আকারে উত্থাপন করে সে বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে সংসদ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি স্বভাবতই বিশেষ সুবিধা পাবে। কিন্তু তারা যদি জুলাই সনদের ব্যাপারে আন্তরিক হয় এবং সনদের যেসব প্রস্তাব তাদের ৩১ দফা এবং নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে মেলে, সেসব প্রস্তাব অনুমোদনের পক্ষে হ্যাঁ বলতেই পারে।
সর্বোপরি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন কিংবা গঠন না করেই বিদ্যমান সংসদে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ রয়েছে। এখানে বিরোধী দল যদি মনে করে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতেই হবে এবং গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে বলে সংসদ এটা করতে বাধ্য, সেটি ভুল। কেননা পূর্ববর্তী সংসদ বা সরকার পরবর্তী সংসদের কাজ ও এখতিয়ার ঠিক করে দিতে পারে না। ত্রয়োদশ সংসদে কী হবে না হবে, সেটি এই সংসদই ঠিক করবে। বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি কী আদেশ জারি করেছেন, সেটি মানতে সংসদ বাধ্য নয়।
তবে এটা ঠিক যে, জুলাই সনদে যেসব প্রস্তাব আনা হয়েছে, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য তার অনেকগুলো প্রস্তাব সংবিধানে যুক্ত করা প্রয়োজন। সেজন্য সরকারি ও বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য জরুরি। সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পুরো জুলাই সনদ বাতিল করে দেবে, এটি যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে মানে জুলাই সনদে যা আছে তার সবটুকু সংসদ মেনে নিতে বাধ্য—তাও নয়।