Published : 02 May 2026, 07:39 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলাকালে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ভোটের ফল গণনার আগে এই সহিংসতাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়েই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ৪টি বুথে আজ সকাল থেকে পুনর্নির্বাচন শুরু হয়। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কমিশন এ বুথগুলোতে ফের ভোট নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত মগরাহাট পশ্চিমে ৫৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ডায়মন্ড হারবারে ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
এ বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় সংঘর্ষ বাধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে একদল লোক বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছে এবং ভোট দিতে বাধা দিয়েছে।
শুক্রবার থেকেই ফলতার হাশিম নগর এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। হামলার প্রতিবাদে সেখানকার বাসিন্দারা মহাসড়কও অবরোধ করেন।
স্থানীয় এক নারী বার্তা সংস্থা এএনআই-কে বলেন, “তৃণমূলের ইসরাফিল চৌকিদার আমাদের হুমকি দিয়েছে, বলেছে তাদের প্রতিপক্ষ (বিজেপি) জিতলে তারা আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবে ও রক্তপাতের বন্যা বইয়ে দেবে।”
নিজেকে তৃণমূলের ভোটার দাবি করা আরেক নারী বলেন, “আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, অথচ তারাই আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা ওই নেতার গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা চাই।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ইসরাফিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ফলতার বিতর্কিত বুথগুলোতেও পুনর্নির্বাচন দিতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। ফলতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বর্তমানে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। এদিকে ফলতার বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ তুললেও পুলিশ লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
দুই দফা ভোটের পর ইভিএম রাখা ‘স্ট্রং রুমগুলোতে’ অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যজুড়ে নতুন বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের এক রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে পোস্টাল ব্যালট খোলার অভিযোগ এনেছে তৃণমূল।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও অনুমতি ছাড়া স্ট্রং রুম খোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: 'স্ট্রংরুম' ঘিরে উত্তেজনা, পালা করে পাহারা
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বুথ ফেরত চারটি জরিপে বিজেপি'র জয়ের আভাস