Published : 01 May 2026, 08:00 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটযন্ত্র (ইভিএম) ও ভোটবাক্স রাখার একটি ‘স্ট্রংরুমের’ সামনে বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অবস্থান ঘিরে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও বিক্ষোভের পর বিভিন্ন জেলায় থাকা ‘স্ট্রংরুম’ এবং ভোট গণনাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আনন্দবাজার পত্রিকার তথ্য বলছে, রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা ‘স্ট্রংরুমগুলোর’ ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা (ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা বিএনএসএস, যা বাংলাদেশের ১৪৪ ধারার সমতুল্য)। রাতের ঘটনার পর বিক্ষোভ, জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাজ্যের রাজধানীর কলকাতার সাতটি জায়গায়। প্রতিটি স্ট্রংরুমের সামনে থাকছে স্বশস্ত্র সেনা।
কলকাতার সাতটি জায়গায় ‘স্ট্রংরুম’ রয়েছে। সেগুলো হল- ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল, হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স, যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ, ডায়মন্ড হারবার রোডের সেন্ট টমাস বয়েজ স্কুল, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল এবং বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি।
রাজ্য পুলিশ বলেছে, এসব জায়গায় ‘বেআইনি জমায়েত’ বা বিক্ষোভ করা যাবে না। পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের সমাগমকে ‘বেআইনি জমায়েত’ হিসাবে দেখা হবে। আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠি বা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কোনো জিনিস, বিস্ফোরক বা আতশবাজি, দাহ্য পদার্থ, ইট-পাথরের মতো জিনিস এসব এলাকায় নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। আইন ভাঙলেই নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
তারপরও ইভিএম ও ভোটবাক্স ‘আগলাতে’ পালা করে বিভিন্ন স্ট্রংরুমের আশপাশে পাহারা দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকরা। অনেক জায়গায় প্রশাসন অনুমোদিত সিসিটিভি ভিডিওর ডিসপ্লেতে সরাসরি নজর রাখছেন বিজেপি, তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেস কর্মীরা।
আনন্দবাজার লিখেছে, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট শেষ হওয়ার থেকেই স্ট্রংরুমের বাইরে ‘নজরদারি’ শুরু করেছিল রাজনৈতিক দলগুলো।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’অভিযোগ তোলে তৃণমূল। স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। তারই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা যান দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। চার ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি।

স্ট্রংরুমের সামনে মমতার অবস্থানের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই রাত থেকে জেলায় জেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। বহু জায়গায় ঝড়বৃষ্টি উপক্ষো করে ‘স্ট্রংরুমের’ সামনে হাজির হন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পাল্টা জমায়েত করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও।
এমন পরিস্থিতিতে স্ট্রংরুমের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে বিধিগত প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল। তারপর রাতেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে বলা হয়, কলকাতা পুলিশের অধীনে যে কটি ‘স্ট্রংরুম’ রয়েছে, সেসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্ট্রংরুমের সামনে থেকে বেরিয়ে মমতা দাবি করেন, ভোট কারচুপির আশঙ্কায় তিনি স্ট্রংরুম ‘পাহারা’দিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেন, মানুষের দেওয়া ভোট লুট করার চেষ্টা হলে তিনি ‘জান দিয়ে’ লড়বেন।
এর পাল্টা হিসেবে শুক্রবার সকালে এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন রাজ্য বিজেপির প্রধান নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি দাবি করেন, স্ট্রংরুমে কোনো ‘নিয়ম বহির্ভূত কাজ’করতে পারেননি মমতা। তাকে ‘বাড়তি সুবিধা’ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তার নির্বাচনী এজেন্ট সারাক্ষণ মমতাকে কড়া নজরদারিতে রেখেছিলেন।