Published : 18 Sep 2025, 01:21 AM
মৃত্যুহার অনেক বেশি এমন মস্তিষ্কে সংক্রমণজনিত রোগ প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিসে (পিএএম) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর সতর্কাবস্থায় রয়েছে কেরালার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এই সংক্রমণ ঘটে ‘নেগলারিয়া ফাউলেরি’র কারণে, যা সাধারণভাবে ‘ব্রেইন-ইটিং অ্যামিবা বা মগজখেকো অ্যামিবা’ নামে পরিচিত।
এ বছর ভারতের দক্ষিণের রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত পিএএমে আক্রান্ত ৬১ জনের খোঁজ মিলেছে, তার মধ্যে ১৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যুর বেশিরভাগই গত কয়েক সপ্তাহে হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ বলেছেন, রাজ্যটি জনস্বাস্থ্যজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগে কোঝিকোড ও মালাপ্পুরমের মতো জেলাগুলোতে সংক্রমণ দেখা গেলেও এবার বিচ্ছিন্নভাবে জেলার প্রায় সর্বত্রই আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। আক্রান্তদের বয়সেরও কোনো সীমারেখা নেই, তিন মাস থেকে শুরু করে ৯১ বছর পর্যন্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে।
“গত বছরের মতো এবার কোনো একটি নির্দিষ্ট পানির উৎসকে কেন্দ্র করে সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলো একক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং যে কারণে রোগ সংক্রান্ত অনুসন্ধান জটিল হয়ে পড়েছে,” বলেন তিনি।
যেভাবে ছড়ায়
কেরালা সরকারের নথি অনুযায়ী, মগজখেকো এই অ্যামিবা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। এতে মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস হয়ে যায়, তৈরি হয় তীব্র ফোলাভাব এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঘটে। পিএম খুবই বিরল রোগ, তুলনামূলক সুস্থ দেহের শিশু, কিশোর ও তরুণরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে।
এই মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার বাহক উষ্ণ, বিশেষ করে বদ্ধ জলাশয়ের পরিষ্কার পানি। নাক দিয়ে মস্তিষ্কে গেলে এই অ্যামিবা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, কিন্তু পাকস্থলীর এসিড এককোষী অনুজীবকে মেরে ফেলায় সেখানে এটি বিপজ্জনক হতে পারে না।
যারা ওই অ্যামিবাযুক্ত পানিতে সাঁতার, ডাইভিং বা গোসল করবেন, তাদেরই আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকি থাকে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পানির তাপমাত্রা বাড়ছে। এদিকে গরমে জলাশয়ে নামা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে, যা এ ধরনের সংক্রমণের পরিমাণও বাড়াচ্ছে, বলা হয়েছে নথিতে।
তবে এই সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়। এক জনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়ায় না।
উপসর্গ কী কী?
প্রাথমিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। পিএএমের উপসর্গ ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসের মতোই—মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব, বমি। উপসর্গ দেখা দেয় এক থেকে নয় দিনের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে এক-দুদিনেই পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে ওঠে।
গত ছয় দশকে যেসব রোগী প্রাণে বেঁচেছেন, তাদের প্রায় সবার রোগ খুব প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গিয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত শনাক্তকরণ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ককটেল প্রাণ বাঁচাতে পারে।
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা বলেছেন, “শুরুতেই শনাক্ত করতে পারাটাই আসল। দেরি হলে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো যায় না।”
রাজ্যটির সরকার নদী, সমুদ্রের বাইরে তুলনামূলক বদ্ধ জলাশয়ের পানিতে সাঁতার বা গোসলের পর পিএএমের কোনো উপসর্গ ধরা পড়া মাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
কেরালায় এই মগজখেকো অ্যামিবা প্রথম ধরা পড়ে ২০১৬ সালে। এরপর ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৮জন রোগী পায় তারা। কিন্তু গত বছর রোগীর উল্লম্ফন দেখা যায়। ৩৬ জনের দেহে মগজখেকো অ্যামিবার উপস্থিতি শনাক্ত হয়, ৯ জনের মৃত্যু হয়। এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৬৯ জনে দাঁড়িয়ে আছে, এর মধ্যে ১৯ জন মারা গেছেন।
সংক্রমণ এড়াতে কর্তৃপক্ষ জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হয় না এমন বদ্ধ জলাশয়ে সাঁতার, ডুব বা গোসল এড়িয়ে চলতে, সাঁতারুদের ক্ষেত্রে নোজ ক্লিপ ব্যবহার, কূপ ও পানির ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ও ক্লোরিনেশন করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।