Published : 31 May 2026, 09:41 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনে বাধা দেওয়াকে ‘মববাজিরই’ আরেকটি রূপ হিসেবে অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
বেসরকারি সংস্থাটি বলেছে, “বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি মিশ্র, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে কিছু সূচকে সাময়িক উন্নতি থাকলেও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও তীব্র হচ্ছে।
“যেমন ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনে বাধা দেওয়া হয়েছে। এটি আইনের শাসনের পরিপন্থি ও মববাজিরই আরেকটি রূপ, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
রোববার প্রকাশিত সংস্থাটির মে মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এমন মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, “এপ্রিল থেকে মে সময়কালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উদ্বেগজনক অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মব ভায়োলেন্স ও সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর চাপ এবং বিচারবহির্ভূত প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “মে মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২১ থেকে বেড়ে ৩২ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৪৯ থেকে বেড়ে ৭১ জনে ঠেকেছে, যা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
“একইভাবে সীমান্ত এলাকায় নিহত, নির্যাতন ও ‘পুশইন’ বেড়ে যাওয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিকে নির্দেশ করে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তে নিহতের সংখ্যা এপ্রিলে ছিল আটজন, মে মাসে প্রাণ হারায় ১০ জন। এপ্রিলে কোন পুশ ইনের ঘটনা না থাকলেও মে মাসে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে পুশইনের বিষয়ে জানা যায়। এসব ঘটনা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকার সুরক্ষার ঘাটতি নির্দেশ করে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্তে নির্যাতন ও পুশ-ইন বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।