স্তন ক্যান্সার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তে জোর, স্বাস্থ্য বাজেটের ৪০% বরাদ্দের দাবি
দিবসটি ঘিরে সামাজিক লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে নারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যান্সার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সামাজিক লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের ওপর জোর দিয়েছেন ক্যান্সার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেশে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শনিবার পালিত হয়েছে ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডা. মিলন হলে ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করা হয়। পরে বের করা হয় ‘গোলাপি শোভাযাত্রা’।
বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে বলেন, “স্তন ক্যান্সার কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্যতম বড় হুমকি। প্রতি বছর আমাদের দেশে হাজার হাজার নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো, স্তন ক্যান্সার কোনো অসাধ্য রোগ নয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শতভাগ নিরাময় সম্ভব।”
সামাজিক লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে নারীদের স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, “এই প্রথম সরকার প্রধান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রোগ প্রতিরোধের ওপর প্রাধান্য দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলছেন। তাই আমরা আশাবাদী হতে চাই।”
রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের কার্যক্রম জোরদার করতে স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রাসকিন।
দেশের বিত্তবানদের অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার পরামর্শও দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, “দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সংকট থাকা সত্ত্বেও সীমিত সুবিধার মধ্যেই সচেতনতার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে বেশি সংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
রাসকিনের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তারা সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়ার জন্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন চালু, নিয়মিত রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম এবং দেশের সর্বত্র চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদের মধ্যে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বিএমইউর গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হিলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের বক্তব্য দেন।
সংলাপ শেষে ডা. মিলন হলের সামনে থেকে গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যায়। এ সময় পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে।
