দুঃশ্চিন্তা নেই, এড়ানো যায় মেনোপজের আগে ও পরের ভোগান্তি

হঠাৎ করে ঘেমে নেয়ে অস্থির। আবার কখনও কখনও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে বের হচ্ছে গরম হল্কা, যেন গায়ে জ্বালা ধরে গেল; এই সমস্যার নাম ‘হট ফ্ল্যাশ অনুভূতি; যা হয়ে থাকে শুধুমাত্র নারীদের, মেনোপজের কারণে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 April 2022, 02:30 PM
Updated : 2 April 2022, 02:48 PM

অথবা যদি সামান্য উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে বা সামান্য আঘাতে মেরুদণ্ড, কব্জি, কুঁচকি বা পাঁজড়ের হাড় ভেঙে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি অস্টিওপোরোসি, হাড় ক্ষয়জনিত রোগ। নারীরা এই রোগটিতেও ভোগেন সাধারণত মেনোপজ পরবর্তী জীবনে।

এই হট ফ্ল্যাশ, অস্টিওপোরোসি ছাড়াও মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির কারণে একটি নির্দিষ্ট বয়সের নারীর শরীর-মনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে দুঃশ্চিন্তার মেঘ সরালেন চিকিৎকসা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন এই স্পর্শকাতর সময়টির সমস্যা নিয়ে আপনজন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা প্রয়োজন। এ ছাড়া পরিবারের সদস্য, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক জিইয়ে রাখা ওই সময়ে নারীর জন্য খুবই জরুরি।

পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, যোগাসন-মেডিটেশনের মাধ্যমেও মেনোপজের আগে ও পরের ভোগান্তিও এড়ানো সম্ভব।

মুম্বাই হাসপাতালের গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ আনাঘা ছত্রপতি, মুম্বাই মাসিনা হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ডা. ভাবানি শাহ বালাকৃষ্ণান এবং স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের পরিচালক ডা. আশা দালাল মেনোপজের আগে-পরের শারীরিক পরিবর্তন-জটিলতার ধরন, কারণ এবং সেসব এড়াতে কিছু উপায় বাতলেছেন।

মেনোপজকে এই তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ‘নারীর প্রজনন চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ হিসেবে দেখছেন।

‌এছাড়া ওষুধ সেবন ছাড়াই রজঃনিবৃত্তির সঙ্গে কীভাবে শরীর ও মনকে মানিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়েও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন।

মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি কী?

নারীর শরীরের হরমোনের প্রতিক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ এই মেনোপজ। আরেকটু ব্যাখ্যায় বলা যায়, মেয়েদের ওভারিতে (ডিম্বাশয়) নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম্বানু থাকে। ঋতুমতি হওয়ার পর সময়ের নির্দিষ্ট চক্র মেনে প্রতিমাসে ডিম্বানু নিঃসৃত হয়।

বয়স ৫০ থেকে ৫২ পেরুলেই ডিম্বানু তৈরির কার্যক্ষমতা শেষও হয়ে যায়। তখন শরীরে হরমোনের কম বা বেশি নিঃসরণের কারণে মাসিক (মেনস্ট্রুয়েশন) বন্ধ হয়ে যায়। এটাই হল মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি।

অকাল মেনোপজ

কারও কারও ক্ষেত্রে সময়ের আগে অর্থাৎ ৫২ বা ৫০ বছর বয়সের আগেই মেনোপজ হতে পারে। বিশেষ শারীরিক সমস্যা যেমন ডিম্বাশন বা জরায়ুতে কোনো জটিলতা বা অস্ত্রোপচার করে জরায়ু বাদ দেওয়া হলে অকাল রজঃনিবৃত্তির শিকার হন নারীরা।

আবার জৈবিকভাবেও অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশের কোষ এবং বিভিন্ন প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতায় বার্ধক্য দেখা দেয়; এই কারণের সঙ্গে অকাল মেনোপজের সম্পর্ক আছে।

মুম্বাই হাসপাতালে গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ আনাঘা ছত্রপতি হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, “মেনোপজে আসা মানে নারীর ডিম্বাশয় আর ডিম্বাণু তৈরি করছে না। আর এ সময় হরমোনের নিঃসরণ মাত্রার এত কমবেশ হয় যে তা পরিশেষে নারীর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে।”

এই বক্তব্যের সঙ্গে যোগ করে স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের পরিচালক আশা দালাল বলেন, “যদি বছর খানেক মাসিক বা পিরিয়ড বন্ধ থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে মেনোপজ ঘটেছে।

“তবে এটা কিন্তু হঠাৎ করেই হয় না। নানা উপসর্গ বেশ আগে থেকেই দেখা যায়, ওই পিরিয়ড কালকে পেরি মেনোপজ বলে।”

কী কী উপসর্গ

>  হট ফ্ল্যাশ

>  নাইট সোয়েট

>  রাতে ঘুম ভাঙার পর আবার ঘুম আসতে দেরি হওয়া

>  মন-মেজাজের ঘনঘন পরিবর্তন

>  তিরিক্ষি মেজাজ

>  অস্টিওপোরোসি বা হাড় ক্ষয়

>  জননাঙ্গে শুষ্ক ভাব

>  যৌন সম্পর্কে অনীহা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মেনোপজকে কোনো অসুখ বলে ধরে নেওয়া যাবে না। এই শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনকে তারা হরমোনের প্রতিক্রিয়ার একটি ধাপ হিসেবে বর্ণনা  করেছেন।

মুম্বাই মাসিনা হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভাবানি শাহ বালাকৃষ্ণানের ভাষ্যে, অল্প সময়ের মধ্যে বা হুট করে মেনোপজ হওয়া সম্ভব নয়। কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।  

“নারীর রজঃনিবৃত্তি ধাপে ধাপে ঘটে। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের হরমোন ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে। পেরিমেনোপজ ধাপ দুই থেকে আট বছর ধরেও চলতে পারে।”

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ডা. আশা দালাল এবং  গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ আনাঘা ছত্রপতি জানান, মেনোপজের আগে হট ফ্লাশ অর্থাৎ হঠাৎ করে নারীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে গরম হল্কা বের হওয়ার অনুভূতি দেখা দিতে পারে।  

রাতে ঘুম ভেঙে সারা শরীর ভিজে জবজবে হয়েছে, এমনও দেখা যেতে পারে বলে জানান ডা. আশা দালাল।

“নাইট সোয়েট বা মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে সারা শরীরে ঘাম হতে পারে, তিরিক্ষি মেজাজ, মুড সুইং হয় আর ঘুমে ব্যাঘাতও হয়ে থাকে।”

তবে এসবের কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হয় না জানিয়ে আশা দালাল বলেন, “ শুরুতে বছর দুয়েক এগুলো বেশি বেশি ঘটে থাকে। তারপর দুই-তিন বছর সহনীয় মাত্রায় হয়। এরপর কমে আসতে থাকে।"

হট ফ্ল্যাশের স্থায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞ ডা. ভাবানি শাহ বালাকৃষ্ণানও।

“এটি বিশ্বাস করতে কারো দারুণ লাগতে পারে যে মেনোপজ কালের হট ফ্লাশ হৃদস্পন্দনের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাবে। হট ফ্লাশ ছয় মাস থেকে দুই বছরও ধরেও চলতে পারে; কারো কারো বেলায় আরও বেশিদিন।"

স্বস্তিবোধ করার উপায় দেখিয়ে তিনি বলেন, “অনেক গবেষণাই বলছে যোগাসন ও মেডিটেশন নারীর হট ফ্লাশের অস্বস্তি কাটাতে সহায়ক হয়েছে। এতে করে পেরিমেনোপজ ধাপেও মানসিক প্রশান্তি ফিরে পেয়েছেন তারা।”

এই সময়ে আরেকটি উপসর্গ সম্পর্কে ভাবানি শাহ বালাকৃষ্ণান বলেন, “রাতে ঘুম ভেঙে ঘাম হওয়া হতে পারে, আবার ঘুম না আসাও হতে পারে।”

সেই সঙ্গে নারীর জননাঙ্গে শুষ্ক ভাব, যৌন সম্পর্কে অনীহা এবং মাত্রাতিরিক্ত মুড সুইং (মন-মেজাজের ঘনঘন পরিবর্তন) দেখা দিতে পারে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। 

মেনোপজের কারণে আরেকটি সমস্যা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ অস্টিওপোরোসিসে ভোগেন নারীরা।

ডা. ভাবানি শাহ বালাকৃষ্ণানের অস্টিওপোরোসিসের কারণ দেখিয়েছেন ‘ইস্ট্রোজেন হরমোন’, এর নিরাময় সম্পর্কেও কথা বলেছেন তিনি।

“মেয়েদের ইস্ট্রোজেন হরমোন হাড় ক্ষয় কমিয়ে রাখে। মেনোপজে ইস্ট্রোজেন কমে যায় বলে হাড় ক্ষয় বেড়ে যায়। চল্লিশের পর ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নেওয়া তাই খুব জরুরি হয়ে ওঠে ক্ষয়ে যাওয়া হাড়ের পুনর্গঠনে।”

হরমোনের তারতম্যের পেছনের কারণকে ইস্ট্রোজেনের অভাব হিসাবে দেখান আনাঘা ছত্রপতি।  

তিনি বলেন, ওভ্যুলেশন বা নারী যখন গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত থাকে অর্থাৎ নারীর প্রজনন বয়সে শরীরে এই হরমোনের উপস্থিতি যথেষ্ট পরিমাণে থাকে আর কম ইস্ট্রোজেন মুড সুইং, বিরক্তি আর অবসাদে ভোগায় নারীকে।

মেনোপজের পরে অস্টিওপোরোসিস অথবা হাড়ের দুর্বল হওয়ার কারণে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

‘বোন মিনারেল ডেনসিটি’ বা বিএমডি গবেষণা অনুসারে হাড় মজবুতে যথাযথ চিকিৎসা এবং ইস্ট্রোজেনের অভাব মেটাতে ‘টিবোলোন ও ক্যালসিয়াম’ ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. ছত্রপতি। 

ইস্ট্রোজেনের ঘাটতিতে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরির শঙ্কার কথাও জানান তিনি।

“মেনোপজের অন্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে করোনারি এথেরোসক্লেরোসিস ও কার্ডিওভাস্কুলারজনিত কারণে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক হতে পারে। এটা ইস্ট্রোজেনের ঘাটতিতেও হতে পারে।”

প্রতিক্রিয়ার ধরন এবং করণীয়

> পিঠে, মাথায় কখনও কখনও সারা গায়ে ব্যথা

>  সাইকোসোমাটিক মেনিফেস্টেশন বা মনোদৈহিক ব্যাধি

অনেক ক্ষেত্রে নারীর সাইকোসোমাটিক মেনিফেস্টেশন বা মনোদৈহিক ব্যাধি হতে পারে বলে জানান গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ আনাঘা ছত্রপতি।

“এরকম হলে পিঠে ব্যথা, গায়ে ব্যথা এবং মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।”

মেনোপজ হওয়ার দুয়েক বছরের মধ্যে এসব উপসর্গ কমে আসে জানিয়ে আনাঘা ছত্রপতি 'স্পর্শকাতর' এ সময়ে করণীয় কিছু বিষয় তুলে এনেছেন।

“সমস্যা নিয়ে কথা বলা, পরিবারের সাথে হার্দিক সম্পর্ক রাখা এই স্পর্শকাতর সময়ে নারীর জন্য খুব জরুরি হয়ে ওঠে।”

এছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে মনোযোগ দেওয়া, জীবনযাপনে বদল আনার সঙ্গে চর্বির মাত্রা কমাতে সঠিক ওষুধ সেবন কাজে দিতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

তবে চল্লিশের আগে অকাল মেনোপজ হয়ে গেলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এড়াতে ইস্ট্রোজেন সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে বলেও জানান তারা।

মেনোপজের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সারবে কি?

মেনোপজের উপসর্গ নিরাময় করতে পারে ‘মেনোপজাল হরমোনাল থেরাপি’ বা ‘এমএইচটি’। এটি ছাড়াও ব্যায়াম বা শরীর চর্চা, খাদ্যাভাস এবং যাপিত জীবনে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, যোগাসন, মেডিটেশন এবং মন প্রফুল্ল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজন বুঝে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ এসেছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে।

‘মেনোপজাল হরমোনাল থেরাপি’ সম্পর্কে ডা. আশা দালাল বলেন, “এতে অল্প সময়ের জন্য সামান্য পরিমাণে হরমোন প্রয়োগ করা হয় শরীরে। তবে এই চিকিৎসা তখনই করা হয় যদি পারিবারিকভাবে কারো স্তন, ডিম্বাশয় বা জরায়ুতে ক্যান্সার না হয়ে থাকে।

“প্যাপ স্মিয়ার, ম্যামোগ্রাফি এবং পেলভিক ইউএসজি পরীক্ষার রিপোর্ট ঠিক আছে কি না তাও দেখা হয়। যদি কেউ ইস্ট্রোজেন নিতে না পারেন তাহলে উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন কিংবা হরমোনের বাইরে অন্য ওষুধও সেবন করতে পারেন।”

মেনোপজের পর প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যেতে পারে। নারীর এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও নিতে হবে।

“অনেকেরই ধারণা এ সময় ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের বেলায় এ সমস্যা দেখা যায় না।”

সতর্ক করে আশা দালাল বলেন, “যদি মনোপজের পরও রক্তপাত হয় কখনও তা ক্যান্সারের লক্ষণ কি না বুঝতে অবশ্যই ডাক্তারি পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

“আর মেনোপজের এই যাত্রায় নারীকে শরীর চর্চা করতে হবে, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত হতে হবে।”

সেই সঙ্গে ঘুম, সূর্যর আলো গায়ে লাগানো, মন প্রফুল্ল রাখা আর বন্ধু সঙ্গেও জোর দিলেন এই চিকিৎসক।

নারীর ত্বকের টানটান থাকা কমে আসতে শুরু করলে ভাঁজ পড়া শুরু হয় মেনোপজের আগে ও পরের সময়ে। আর এ থেকে জননাঙ্গ শুষ্ক হয়ে সহবাসে ব্যথা অনুভবও করতে পারেন নারী, বলেন আনাঘা ছাত্রাপাতি।

“এমন হলে যে কোনো ভ্যাজাইনাল ইস্ট্রোজেন ক্রিম ব্যবহারে সুফল পেতে পারেন নারী।”

আনাঘা ছত্রপতি বলেন, মেনোপজের এই সময়টা ক্যান্সার দেখা দেওয়ার ঝুঁকির সময়ও বটে।

“তাই বছরে একবার ম্যামোগ্রাফি, প্রতি তিন বছরে একবার প্যাপ স্মিয়ার ও পেলভিক আলট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে আর জীবন যাপনের ভালো অভ্যাসের বিকল্প নেই এসব ক্ষেত্রে।”

মেনোপজের আগে ও পরে সব ধরনের উপসর্গের জন্যই চিকিৎসা রয়েছে, আশ্বস্ত করতে বললেন ভাবানি শাহ বালাকৃষ্ণান।

এর সঙ্গে তিনিও নিয়মিত শরীরচর্চা ও জীবন যাপনে বদল আনায় জোর দিয়ে বলেন, যোগাসন ও মেডিটেশনের উপকারিতা একদম প্রমাণিত।

তবে স্মৃতিভ্রংশ, অস্থিরতা, অবসাদের মত উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করতে হবে।  

এই চিকিৎসকের মতে, ওষুধ সেবন ছাড়াও করে শরীরচর্চা, যোগাসন, কাজ ও জীবনে ভারসাম্য, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ভালো থাকা সম্ভব।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক