Published : 31 Mar 2023, 07:33 PM
যে প্রতিবেদনের জেরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনে 'রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা' দেখতে পাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
শুক্রবার শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এর প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে বিবৃতিতে প্রথম আলোর নাম না নিয়ে একটি দৈনিকের খবরের কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে দেশের একটি দৈনিক পত্রিকায় মহান স্বাধীনতা দিবসে সংবাদ প্রকাশের নামে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।
"প্রতিবেদনটিতে মূলত একজন শিশুর ছবির নিচে ক্যাপশনের পরিবর্তে একজন দিনমজুরের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, যে বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। এছাড়া, ক্যাপশনে একজন দিনমজুরের বক্তব্য হিসেবে উক্ত মন্তব্য প্রকাশ করা হলেও ছবিতে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে দেখা যাচ্ছে না।"
বিবৃতিতে একাত্তর টিভির নাম না নিয়ে এও বলা হয়, “অন্য একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওই শিশুকে তার দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে উৎকোচের বিনিময়ে প্রলুব্ধ করে ছবিটি তোলা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে একাধিক পক্ষ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বক্তব্য না নেওয়া, অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া এবং অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ছবি তোলা কিংবা তার বক্তব্য ধারণ করা সংবাদপত্রের নীতিমালা পরিপন্থি।
"একজনের ছবির সঙ্গে আরেকজনের উদ্ধৃতি প্রকাশ, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর ছবি ও বক্তব্য প্রকাশ পাঠকের সাথে প্রতারণার শামিল। অথচ আলোচিত সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে এ সকল রীতি-নীতি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।"
স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়, যেখানে একজন শ্রমজীবী মানুষকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব।”
ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে গত বুধবার ভোরে তার সাভারের বাসা থেকে সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পুলিশ তাকে আটক বা গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার না করলেও প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করে পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর মধ্যে এক যুবলীগ নেতা এবং একজন আইনজীবী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করেন শামসের বিরুদ্ধে, যাতে ‘মিথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার’ অভিযোগ আনা হয়। এর একটি মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে, “সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ কোনো কোনো মহল প্রচার করছে যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সংবাদ প্রকাশ করায় সরকার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
"যদিও বাস্তবতা হল, প্রকৃতপক্ষে অসৎ উদ্দেশে উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে একজন শিশুকে সংবাদের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"
বিবৃতিতে বলা হয়, “এ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে বাসন্তী নামের একজনকে জাল পরিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। উক্ত বাসন্তীকাণ্ড যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাজানো হয়েছিল তা পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে।
"উক্ত সংবাদপত্র ইতোপূর্বে ২০০৭ সালে সামরিক স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।"
অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া ও অধ্যাপক জিনাত হুদা সরকারের প্রশংসা করে বিবৃতিতে বলেন, “কোভিড এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সংকট মোকাবেলা করে যে মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, সেই মুহূর্তে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে সরকারের বিরোধিতার নামে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
"এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে উক্ত সংবাদপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।"
পুরানো খবর:
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাংবাদিক শামসপুরানো খবর:
সাংবাদিক শামসের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি সিপিজে’রপুরানো খবর:
প্রথম আলোর সাংবাদিক শামস কোর্ট হাজতে