২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কর্মক্ষেত্রে কাজে মন বসছে না? হতে পারে ভুগছেন কর্মবিমুখতায়

শুধু মানসিক অবসাদ থেকে কাজের প্রতি তীব্র অনীহা বা ক্লান্তি কাজ করে না।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 01:00 PM

Updated : 27 Sep 2026, 01:00 PM

কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি বা অনুপ্রেরণার অভাবকে অনেকেই ‘বার্নআউট’ বা মানসিক অবসাদ হিসেবে ধরে নেন।

তবে কর্মঘণ্টায় কাজের প্রতি তীব্র অনীহা বা মনোযোগহীনতার পেছনে সবসময় ‘বার্নআউট’ দায়ী থাকে না।

জীবনধারা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সাময়িকী ওয়েবসাইট রিয়েলসিম্পল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপের পরিবর্তে যখন কোনও কর্মী নিজেকে কম চ্যালেঞ্জিং, অবমূল্যায়িত বা একঘেয়ে পরিবেশের মধ্যে আবিষ্কার করেন, তখন অবচেতনভাবেই এক ধরনের মানসিক জড়তা তৈরি হয়। মনস্তত্ত্বের ভাষায় একে ‘রাস্ট আউট’ বা ‘কর্মবিমুখতা’ বলা হয়।

২০২৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালআপ সার্ভে’র জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে মাত্র ৩১ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের সঙ্গে মানসিকভাবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন, যা এই সমস্যার গভীরতা নির্দেশ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েলকোর হিলিং’-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার অ্যালেক্সিস ভার্বিন, তার মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখিয়েছেন, রাস্ট আউটের কোনও নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল সংজ্ঞা না থাকলেও এটি মূলত কর্মীর কাজের অনুপ্রেরণা এবং সম্পৃক্ততা কমে যাওয়ার একটি চরম পর্যায়।

সাধারণত যখন কোনও ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেওয়া না হয়, তখনই এই মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ এইচজে চো রাস্ট আউটের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলেন, “বার্নআউট’ হল অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তির ফল। অন্যদিকে, ‘রাস্ট আউট’ হল জীবনে ইতিবাচক বা গঠনমূলক মানসিক চাপের অভাব।”

দীর্ঘদিন ধরে একই কাজ রোবটের মতো করতে থাকলে, মানুষের সৃজনশীল দক্ষতা কমে যায়। যেটা ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস ও আত্মপরিচয়কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এই মনস্তত্ত্ববিদের মতে, “রাস্ট আউটের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে চরম একঘেয়েমি অনুভব করা, মিটিংয়ে কথা বলা কমিয়ে দেওয়া, নতুন কোনও প্রজেক্ট বা দায়িত্ব নেওয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা এবং ক্রমাগত কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বা অবহেলা করা।”

এই মানসিক জড়তা কাটিয়ে উঠতে বিশেষজ্ঞরা কর্মীর অবহেলা বা অলসতাকে দায়ী না করে, একে জীবনযাত্রার পরিবর্তন করার একটি সংকেত হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন।

অ্যালেক্সিস ভার্বিনের মতে, “কর্মক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে নতুন কোনও দায়িত্ব নেওয়া, অন্য বিভাগে বদলি হওয়া বা কোনও নতুন কাজের মেন্টরশিপ বা অনুপ্রেরণাকারী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে একঘেয়েমি দূর করা সম্ভব।”

এছাড়া কাজের বাইরে নতুন কোনও শখ বা সৃজনশীল অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হলে, মনের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

পুরানো খবর:

অলসতার চাদরে মানসিক ক্লান্তি
মধ্যবয়সের মানসিক সংকট সামলানোর তিন পন্থা
সারাদিনই ক্লান্ত লাগার কারণ