১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কনসিলার ব্যবহারে ভুল নয়

গাঢ় ত্বকে যে রং ভালো কাজ করবে, উজ্জ্বল ত্বকে একই রং একই ফল নাও দিতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 05:17 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

মুখের ক্লান্তি, চোখের নিচের কালচেভাব বা ত্বকের ছোটখাটো দাগ ঢাকতে কনসিলার সাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে দাগ ঢাকতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যায়।

বিশেষ করে চোখের নিচে কনসিলার লাগানোর সময়, পুরো জায়গা মোটা করে ঢেকে দিলে মুখ উজ্জ্বল দেখানোর বদলে সাজ ভারী হয়ে যায়।

এছাড়া চামড়ার সূক্ষ্ম রেখার ভেতর প্রসাধনী জমে গিয়ে, ত্বক আরও শুষ্ক ও বয়স্ক দেখা যায়।

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির মতে, “কনসিলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কম ব্যবহার করা এবং ঠিক যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই লাগানো।”

স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ঢেকে না রেখে সামান্য প্রসাধনীর মাধ্যমেই মুখকে সতেজ করে তোলা যায়। অতিরিক্ত প্রসাধনী বদলে ত্বকের স্বাভাবিক গঠনকে দৃশ্যমান রাখার পরামর্শ দেন, তিনি।

তার কথায়, “চোখের নিচের কালচে অংশ পুরোপুরি মোটা করে ঢেকে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং আগে বুঝতে হবে কোথায় আসলে কালচে দাগ বেশি এবং সেই অংশটুকুতেই প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।”

আগে রংয়ের ভারসাম্য ঠিক করা

এই রূপবিশারদের পরামর্শ হল, “সরাসরি কনসিলার ব্যবহারের আগে ত্বকের বিবর্ণতা বা কালচে অংশের রং কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ করে নেওয়া উচিত”

এজন্য ব্যবহার করা যায় রং সংশোধনকারী প্রসাধনী বা ‘কালার কারেক্টর’। এটি ত্বকের নির্দিষ্ট রংয়ের সমস্যা সাময়িকভাবে সামঞ্জস্য করতে সাহায্য করে। যাতে পরে কম কনসিলারেই ভালো ফল পাওয়া যায়।

ত্বকের বিবর্ণতার ধরন অনুযায়ী এই রং সংশোধনকারী প্রসাধনী বা কালার কারেক্টরের রংও আলাদা হতে পারে।

বেগুনি আভা নিস্তেজ ও হলদেটে ত্বককে কিছুটা উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে। হলুদ রং নীলচে বা বেগুনি ধরনের কালচে দাগ কমাতে কাজ করতে পারে।

সবুজ রং লালচেভাব কম দৃশ্যমান করতে ভালো। আর পিচ রং চোখের নিচের কালচে অংশ ঢাকতে বেশ কার্যকর হতে পারে।

শারমিন কচি বলেন, “সবার ত্বকের রং এক নয়। তাই সংশোধনকারী প্রসাধনী বেছে নেওয়ার সময় নিজের ত্বকের রং এবং দাগের ধরণ বিবেচনা করা জরুরি।”

গাঢ় ত্বকে যে রং ভালো কাজ করবে, উজ্জ্বল ত্বকে একই রং একই ফল নাও দিতে পারে।

চোখের নিচে যেখানে কালচেভাব বেশি এবং অংশটি কিছুটা বসে গেছে, প্রথমে সেখানেই সংশোধনকারী প্রসাধনী লাগানো ভালো।

এরপর মুখের প্রসাধনীর চেয়ে সামান্য হালকা রংয়ের কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চোখের নিচের অংশ উজ্জ্বল দেখাবে, তবে অতিরিক্ত প্রসাধনীর স্তরও তৈরি হবে না।

পুরো চোখের নিচে কনসিলার নয়

কনসিলার ব্যবহারের প্রচলিত ভুলগুলোর একটি হল, চোখের নিচের পুরো অংশে লাগানো।

নানান ধরনের আঁকার মতো করে কনসিলার লাগানোর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কখনও অর্ধচন্দ্রাকৃতি, কখনও বড় দাগ, আবার কখনও চোখের নিচ থেকে গাল পর্যন্ত বিস্তৃত করে কনসিলার লাগানো হয়।

এই রূপচর্চাকরের মতে, “এমনটা করার প্রয়োজন নেই। চোখের নিচের সব ত্বক সমানভাবে কালচে নয়। কোথাও যদি দাগ না থাকে, সেখানে কনসিলার লাগিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ঢেকে ফেলার কোনো কারণ নেই।”

তার পরামর্শ হল, “প্রথমে দেখতে হবে ঠিক কোন জায়গায় কালচেভাব রয়েছে। এরপর কেবল সেই অংশে অল্প পরিমাণ কনসিলার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক অংশ খোলা থাকবে এবং মুখও বেশি স্বাভাবিক দেখাবে।”

এই পদ্ধতির আরেকটি সুবিধা হল, কম প্রসাধনী ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের সূক্ষ্ম রেখায় কনসিলার জমে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

আঙুল দিয়ে মিশিয়ে নেওয়া

কনসিলার লাগানোর ক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতি হল, আঙুলের সাহায্যে কনসিলার ত্বকে মিশিয়ে নেওয়া। কারণ আঙুলের স্বাভাবিক উষ্ণতা প্রসাধনীকে ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যেতে সাহায্য করে।

কনসিলার সরাসরি ত্বকের ওপর মোটা করে রেখে দিলে সেটি আলাদা একটি স্তরের মতো দেখা যেতে পারে। তবে অল্প পরিমাণ প্রসাধনী আঙুলের সাহায্যে ধীরে ধীরে মিশিয়ে দিলে ত্বকের সঙ্গে তার পার্থক্য কমে যায়।

আঙুল দিয়ে কনসিলার লাগানোর সময় ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে চাপ দিয়ে মিশিয়ে নেওয়া ভালো। চোখের চারপাশের ত্বক খুব কোমল হওয়ায় সেখানে বেশি চাপ দেওয়াও ঠিক নয়।

কম প্রসাধনীতেই সতেজ মুখ

মুখে পানি দিয়ে ত্বক সতেজ করে কনসিলার ব্যবহার করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।

তাই কনসিলার ব্যবহারের পরে মুখে একাধিক স্তরে প্রসাধনী না দিয়েও পরিপাটি দেখানো সম্ভব।

বেশি ঢাকাই বেশি সুন্দর নয়

মুখের যত বেশি দাগ ঢেকে ফেলা যাবে, সাজ তত সুন্দর হবে মনে হলেও অতিরিক্ত কনসিলার বরং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও গঠন ঢেকে ফেলে।

বিশেষ করে চোখের নিচে বেশি কনসিলার ব্যবহার করলে সূক্ষ্ম রেখা আরও স্পষ্ট হয়ে কিছুক্ষণ পর প্রসাধনী শুকিয়ে গিয়ে ছোট ছোট রেখায় জমে যায়।

আরও পড়ুন

মেইকআপের নিখুঁত বেইজ তৈরির উপায়

যেভাবে বুঝবেন মেইকআপ সামগ্রীর মেয়াদ শেষ

মেইকআপ ঠিক রাখার সাধারণ পন্থা

লাল লিপস্টিক ব্যবহারের খুঁটিনাটি