Published : 24 Jul 2024, 07:48 PM
ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে, মেয়ে তার বাবাকে ফোন দিয়ে বলছে, ‘বাবা তাড়াতাড়ি বাসায় আস, নেট আসছে।’ সেটা শুনে মেয়ের বাবা, তড়িঘড়ি করে বাসায় ফিরে দেখতে পান নেট আসেনি।
বাবা যেন বাসায় তাড়াতাড়ি চলে আসেন সেজন্য ছয় বছরের মেয়ের এই বুদ্ধি।
ইন্টারনিট বিহীন বাংলাদেশে, দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সহকর্মীর জীবনের কাহিনী হাসতে হাসতে জানালেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামছুন নাহার।
বিল পরিশোধ, অফিসে কাজ, কিংবা বিনোদন- প্রায় সব কাজের নির্ভরতা যখন এই ইন্টারনেট, সেখানে কীভাবে কাটল এ কটা দিন?
নাহার বলেন, “বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করতে দেরি হয়ে গেল। আমার মেয়েরও ক্লাস রুটিনসহ নানান বিষয়ের তথ্য নিতে পারিনি। বাসায় মা মেয়ে বসে অনেক দিন পর টেলিভিশন দেখে আর বই পড়ে সময় কাটিয়েছি।”
প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার ব্যক্ত করেছেন, বুটিক ‘ট্রাইবাল ক্র্যাফ্টস’য়ের কর্ণধার কুঁড়ি চিজম।
তার কথায়, “আমাদের ব্যবসায়ের কাজই চলে ফেইসবুকে। সেখানে ইন্টারনেট না থাকায় নানা সমস্যা হয়েছে। এখন জানি না কবে ফেইসবুক আসবে! যত তাড়াতাড়ি ফিরবে ততই আমাদের কাজের জন্য মঙ্গল।”
ইন্টারনেট ছাড়া জীবন কোনোভাবে কেটে গেলেও ভালো যায়নি ‘ট্রিপোভেল ডটকম’য়ের এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমআই সাতিলের জীবন।
তিনি বলেন, “আমার বাসা রামপুরা বাড্ডা এলাকায়। অফিস ধানমন্ডি। এই কদিন অফিসে যেতে পারিনি। বাসার দিকে একদিন বের হয়ে আড্ডা দিয়েছি পাড়ায়। তবে এখনও পুরোদমে ইন্টারনেট শুরু হয়নি বলে অফিস বন্ধ।”
তিনি আফসোস করে বলেন, “একদিনে যে ক্ষতি হয়েছে তা সামলিয়ে উঠতে অন্তত তিন মাস লাগবে আমাদের।”
পুরান ঢাকার জর্জ কোর্ট এলাকার বাসিন্দা মাসুদুল হাসান জায়েদী। বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই সহ-সভাপতি ভ্রমণ পছন্দ করলেও বর্তমান পরিস্থিতে বাসায় থিতু হয়ে বসেছেন।
গত কয়েকদিনে ইন্টারনেট বিহীন জীবন কেমন গেল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সময় কাটাতে তিনটা বই পড়ে শেষ করেছি। আমি তো ভেবেছিলাম পড়ার অভ্যাসটাই চলে গেছে। এখন ইন্টারনেট না থাকায় সেই নব্বই সালের মত টিভি দেখে আর বই পড়ে সময় পার করে দিয়েছি।
“এভাবে ইন্টারনেটবিহীন সময় কাটানো গেলেও কোনোভাবেই আর এই ‘অন্ধকার জগত’ যাতে ফিরে না আসে।”
জায়েদী বলেন, “টুরিজম সেক্টরের উন্নতিতে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা খুবই প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের তাণ্ডব এই সরকার খুব দ্রুত সামাল দিয়েছে। আমি আশা রাখি এরকম পরিস্থিতির শিকার আর আমাদের হতে হবে না।”