Published : 13 Oct 2025, 02:13 PM
ড্রইংরুম বা বসার ঘরে নাস্তা দেওয়ার টেবিলটা শোভা বর্ধন ছাড়াও নিজের রুচি, ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন ঘটায়।
তবে অনেক সময় সেখানে এমন কিছু রাখা হয় যা সৌন্দর্য কমিয়ে দেয়, এমনকি ঘরের পরিপাটি ভাবকেও নষ্ট করে ফেলে।
গৃ্হসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, "সুন্দর কফি টেবিল মানে অগণিত সাজসজ্জা নয়, বরং ভারসাম্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয়।"
অতিরিক্ত সাজসজ্জা মানেই বিশৃঙ্খলা
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হল- কফি টেবিলে বেশি জিনিসে ভরিয়ে ফেলা। ফলে সেখানে এক কাপ চা রাখার জায়গাও থাকে না।
টেবিলের মূল উদ্দেশ্য হল কার্যকারিতা। যখন অনেক কিছু রাখা হয়, পুরো ঘরটাই যেন ভরাট আর বিশৃঙ্খল দেখায়। বরং টেবিলে এমন কিছু রাখা উচিত যা একই সঙ্গে সুন্দর এবং অর্থবহ।
গুলশান নাসরিন বলেন, “সাধারণত দু’তিনটি প্রিয় ভ্রমণ বা ডিজাইনবিষয়ক বই, একটি মনোরম ঘ্রাণের মোমবাতি এবং তাজা ফুলে ভরা ছোট ফুলদানিতে টেবিল সাজানো যায়। এতে ঘরে প্রাণ আসে।”
কৃত্রিম ফুল নয়, প্রাকৃতিক ছোঁয়া
কফি টেবিল হল ঘরের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে নকল ফুল রাখলে তা কেবল ধুলো জমিয়ে কৃত্রিম দেখাবে।
যদি প্রতি সপ্তাহে তাজা ফুল কেনা সম্ভব না হয়, তাহলে মৌসুমি গাছের ডাল বা পাতাও রাখা যায়। এতে একদিকে প্রকৃতির ছোঁয়া আসবে, অন্যদিকে ঘরে মৌসুমি আবহও তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, “বসন্তে কুঁড়ি ফোটা ডাল, গ্রীষ্মে ছোট বুনো ফুল, শরতে পাতা বা কাশ, আর শীতে সে সময়ে ফুল ও গাছের শাখা রাখলে সারা বছর ঘরকে নতুন রূপে পাওয়া যাবে।”
উঁচু সাজসজ্জা দৃষ্টির পথে বাধা
কফি টেবিল সাধারণত টেলিভিশন বা সোফার মাঝামাঝি স্থানে থাকে। তাই সেখানে বড় ফুলদানি, অতিরিক্ত উঁচু গাছ বা বড় শোপিস রাখলে দৃষ্টি আটকে যায় এবং আলাপচারিতার সময় বিরক্তি তৈরি করে।
এই টেবিলের সৌন্দর্য হল খোলামেলা ভাব। তাই এমন কিছু বাছতে হবে যা চোখে ভারসাম্য আনে, বাধা নয়।
রিমোট কন্ট্রোল খোলা অবস্থায়
ঘরে নানান প্রযুক্তিপণ্য থাকে যেমন- টেলিভিশন, সাউন্ডবার, এসি, সিকিউরিটি সিস্টেম। আর প্রতিটির সঙ্গেই রিমোট থাকে।
সব রিমোট কফি টেবিলে ফেলে রাখলে টেবিল অগোছালো দেখায়।
একটি ছোট ডেকোরেটিভ বক্স ব্যবহার করা যায়। তাতে রিমোটগুলো রাখলে জায়গাও পরিষ্কার দেখাবে, আর প্রয়োজনের সময় খুঁজে পেতেও সুবিধা হবে।
বিরক্তিকর বা সবার মতো বই
কফি টেবিলে বই রাখা যায়, তবে তা যেন নিজের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটায়।
একই ধরনের বই যা প্রায় সব ঘরে থাকে তা কফি টেবিলে রাখা যাবে না। কারণ সেগুলো আকর্ষণীয় লাগে না।
নিজের পছন্দের শিল্প, ভ্রমণ বা প্রিয় বিষয়ের বই রাখতে হবে। যা নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরবে। কারণ কফি টেবিলের বই হল ঘরের গল্প বলার মাধ্যম।
কাচের টেবিলে ভারী বস্তু নয়
যাদের কফি টেবিল কাচের তৈরি, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
গুলশান নাসরিন বলেন “কাচের টেবিলে শক্ত বা ভারী বস্তু রাখলে সহজেই স্ক্র্যাচ পড়ে বা ভেঙে যেতে পারে।”
তার পরামর্শ, “পাথর বা কাঠের বস্তু রাখতে হলে তা বইয়ের ওপর রাখতে হবে। এতে টেবিলের কাচ সুরক্ষিত থাকবে এবং। ছোট ফেল্ট প্যাড লাগালে আরও নিরাপদ।”
ফেল্ট কাপড় দিয়ে তৈরি হয় নরম এই প্যাড বা স্তর, যা সাধারণত কোনো পৃষ্ঠকে স্ক্র্যাচ, ঘর্ষণ বা শব্দ থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
জোড় সংখ্যার জিনিস নয়
গুলশান নাসরিন বলেন, "সাজসজ্জায় একটি ছোট কৌশল হল বিজোড় সংখ্যায় জিনিস সাজানো। তিন বা পাঁচটি জিনিস একসাথে রাখলে চোখে ভারসাম্যপূর্ণ লাগে।”
তার মতে, “টেবিলের মাঝখানে এই সাজসজ্জা রাখতে হবে আর পাশে কিছু খালি জায়গা থাকা চাই। যাতে পানীয় বা খাবার রাখার জায়গা থাকে। এতে সৌন্দর্য ও ব্যবহারিকতা দুই-ই বজায় থাকে।”
ছোট জিনিস ছড়িয়ে নয়, একত্রে রাখা
ছোট ছোট জিনিস, যেমন- মোমবাতি, শোপিস যদি টেবিলে ছড়িয়ে রাখা হয়, তাহলে তা এলোমেলো দেখায়।
ছোট জিনিসগুলো একটি ট্রের মধ্যে রাখা যায়। এতে টেবিল পরিপাটি দেখাবে, জিনিসগুলোও আলাদা গুরুত্ব পাবে।
আরও পড়ুন