রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৭ ধরনের আটা
ময়দার চাইতে অপরিশোধিত আটা বেশি স্বাস্থ্যোপকারী।
কেক, বিস্কুট, রুটি কিংবা বিভিন্ন মুখরোচক ভাজাপোড়া তৈরিতে রান্নাঘরে বেশি ব্যবহৃত উপাদান হল সাধারণ ‘অল-পারপাস ফ্লাওয়ার’ বা ময়দা।
তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত পরিশোধিত সাদা ময়দায় জরুরি আঁশ ও ভিটামিন থাকে না বললেই চলে, যা রক্তে শর্করা বাড়াতে এবং মেদ জমতে সাহায্য করে।
স্বাদের বিন্দুমাত্র আপস না করে বেইকিং ও দৈনিক রান্নাকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে বাজারে বেশ কিছু ধরনের আটা পাওয়া যায়।
‘হেলথ ডটকম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিবন্ধিত পুষ্টিবিদেরা জানিয়েছেন, আস্ত শস্য ও বাদামের তৈরি এই আটাগুলোতে সাধারণ ময়দার চেয়ে বেশি খনিজ উপাদান থাকে যা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
মার্কিন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য গবেষক মের্ভে চেলান ৭ ধরনের আটা এবং সেগুলোর পুষ্টিগুণ বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রতিবেদনে।
বাকহুইট বা তিলাই আটা
নামে ‘হুইট’ বা গম থাকলেও বাকহুইট আসলে কোনো গমের অংশ নয়, এটি সম্পূর্ণ আঠালো প্রোটিন বা গ্লুটেন-মুক্ত একটি শস্য। ফলে এটি গমের অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগীদের জন্য নিরাপদ।
মের্ভে চেলান বলেন, “এতে থাকা ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রধান খাদ্য বা প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে পরিপাকতন্ত্রের কড়া প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন দূর করে।”
লাল গমের আটা
সাধারণ সাদা ময়দার সহজলভ্য বিকল্প হল আস্ত লাল গমের আটা। পরিশোধিত ময়দার তুলনায় এতে আঁশ, সেলেনিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ থাকে প্রচুর পরিমাণে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম হওয়ায় এটি খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ করে করে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় না।
ওটস আটা
ওটস প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেন-মুক্ত এবং এতে ‘বিটা-গ্লুকান’ নামক এক বিশেষ দ্রবণীয় আঁশ থাকে, যা পরিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
কিনোয়া আটা
কিনোয়া আটাকে একটি ‘কমপ্লিট প্রোটিন’ বা পূর্ণাঙ্গ আমিষ বলা হয়, কারণ এতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি এসেনশল অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এর মধ্যে কালো রংয়ের কিনোয়া আটায় প্রোটিনের মান ও গুণগত হার বেশি।
স্পেল্ট আটা
স্পেল্ট হল গমের প্রাচীন গোত্রেরই একটি পুষ্টিকর শস্য, যার মধ্যে সাধারণ লাল গমের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণে প্রোটিন, জিঙ্ক, কপার ও আয়রন পাওয়া যায়। তবে এতে গ্লুটেন থাকায় গমের অ্যালার্জি থাকলে এটি বর্জন করা উচিত।
কাঠবাদামের আটা
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা কমাতে এবং উচ্চ প্রোটিন নিশ্চিত করতে আমন্ড বা কাঠবাদামের আটা ভালো পছন্দ হতে পারে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাদামের এই অসম্পৃক্ত চর্বি বা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ধমনী পরিষ্কার রেখে হৃদযন্ত্র দীর্ঘকাল সচল রাখে। তবে এতে ক্যালরির মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে।
নারিকেলের আটা
নারিকেলের শুকনা শাঁস গুঁড়া করে তৈরি এই আটায় কার্বোহাইড্রেইটের পরিমাণ কম, তবে আঁশের পরিমাণ বেশি। মাত্র ২৫ গ্রাম নারিকেলের আটা প্রতিদিনের আঁশের চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ করতে পারে। তবে এতে সম্পৃক্ত চর্বি বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় পরিমাপ বুঝে খাওয়া নিরাপদ।
আরও পড়ুন
