২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বাতের যাতনা দূর করার পানীয়

পরিচিত এই চায়ের নির্যাস গ্রহণে মিলবে হাড়ের সুস্থতা।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 04:10 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

হাড়ের জোড় বা জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এবং বাতের ব্যথা যেকোনো বয়সেই দৈনন্দিন চলাফেরাকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ভেতরের পিচ্ছিল তরল বা ‘কার্টিলেজ’ ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে হাড়ের জোড়ে তীব্র প্রদাহ ও যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।

অনেকেই এই ব্যথার জন্য অবহেলা করে কেবল ব্যথানাশক ওষুধ খান, যা সাময়িক আরাম দিলেও হাড়ের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধ করতে পারে না।

তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে একটি বিশেষ পানীয় যোগ করলে, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই হাড়ের জোড়ের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ দূর করতে ভূমিকা পালন করে।

‘রিয়েল সিম্পল ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিবন্ধিত মার্কিন পুষ্টিবিদ লরেন ম্যানাকার জানিয়েছেন, হাড়ের ক্ষয় রোধ এবং বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের পছন্দ হল ‘গ্রিন টি’।

প্রদাহ দূর করার ক্ষমতা

লরেন ম্যানাকার বলেন, “গ্রিন টির মধ্যে ‘এপিগ্যালোকাটেচিন গ্যালেট’ বা ‘ইজিসিজি’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এই ইজিসিজি মূলত শরীরের ক্ষতিকর ‘সাইটোকাইনস’ নামক প্রদাহের প্রোটিন অণুগুলোকে উৎপন্ন হতে বাধা দেয়, যা হাড়ের জোড়ের টিস্যু ধ্বংস করার জন্য প্রধানত দায়ী।”

পোল্যান্ডের ‘পোমেরানিয়ান মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইন শেনচিন’-এর করা বৈজ্ঞানিক রিভিউ অনুযায়ী, গ্রিন টির এই উপাদান বাতের মূল লক্ষণ, অর্থাৎ হাড়ের প্রতিরক্ষামূলক কুশন বা কার্টিলেজ ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে হাড়ে জোড়ে এক ধরনের বর্ম সরবরাহ করে।

বাতের তীব্র ব্যথা হ্রাস: ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

ইরানের ‘ফাসা ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্স’-এর বিজ্ঞানীরা, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের রোগীদের ওপর করা এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পান, যারা একটানা চার সপ্তাহ বা এক মাস নিয়মিত গ্রিন টির নির্যাস গ্রহণ করেছিলেন, তাদের হাঁটুর তীব্র বাতের ব্যথা ও ফোলাভাব কমে এসেছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিশিগান ইউনিভার্সিটি’র করা সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়, পুরুষদের মধ্যে নিয়মিত সবুজ চা পানের অভ্যাসের সঙ্গে হাঁটু ব্যথা ও বাতের ঝুঁকি প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কম লক্ষ্য করা যায়।

শারীরিক সুফল

গ্রিন টি কেবল হাড়ের জোড়ের যত্ন নেয় না, এটি সামগ্রিক দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার ভেষজ রস।

লরেন ম্যানাকার উল্লেখ করেন, “এটি শরীরের মেটাবলিজম বা হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখে, ক্ষতিকর চর্বি কমায় এবং হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে। এতে থাকা ‘এল-থেনাইন’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিস্কের স্নায়ুকে শান্ত করে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমায় এবং কফি বা সাধারণ চায়ের মতো কোনো ক্ষতিকর ‘স্পাইক’ ছাড়াই শরীরকে সতেজ ও স্নিগ্ধ শক্তি প্রদান করে।

এর শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখে।

‘মাচা’ গ্রিন টির উচ্চতর কার্যকারিতা

যারা সাধারণ গ্রিন টির চেয়েও দ্রুত এবং বেশি পুষ্টি উপাদান পেতে চান, তাদের জন্য ‘মাচা টি’ হতে পারে ভালো বিকল্প।

মাচা মূলত সবুজ চায়ের কচি পাতাকে সরাসরি গুঁড়া করে তৈরি করা হয়, ফলে এটি সাধারণ লিকার চায়ের তুলনায় বেশি ঘনীভূত হয়।

মাত্র এক কাপ মাচা চা শরীরকে বিপুল পরিমাণ পলিফেনল সরবরাহ করে, যা ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ থেকে হাড়ের কোষকে বাঁচায়।

পুষ্টির মাত্রা দ্বিগুণ করার ৩টি ঘরোয়া পন্থা

গ্রিন টির স্বাদ বাড়াতে এবং হাড়ের সুরক্ষায় পুষ্টিবিদেরা ৩টি উপায় জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ লরেন ম্যানাকার।

লেবু ও মধুর সংমিশ্রণ: গ্রিন টি তৈরির পর তাতে সামান্য লেবুর রস ও খাঁটি মধু মিশিয়ে নিলে লেবুর ভিটামিন-সি গ্রিন টির অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলোকে মস্তিস্ক ও হাড়ে আরও সহজে শোষণ হতে সাহায্য করে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্মুদি: আইসড গ্রিন টি-র সঙ্গে তাজা স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরি মিশিয়ে স্মুদি বানিয়ে খেলে তা বাতের প্রদাহের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ বর্ম হিসেবে কাজ করে।

মাচা ও টক দইয়ের পুষ্টি: গুঁড়া মাচা গ্রিন টি সরাসরি সাধারণ টক দই বা ইয়োগার্টের সঙ্গে ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে, সকালের নাস্তায় ওটসের সঙ্গে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

আরও পড়ুন

মাচা কি গ্রিন টি থেকে স্বাস্থ্যকর?

'খারাপ' কোলেস্টেরল কমায় গ্রিন টি

মাসিকে চা নয়