২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হজম স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আঁশ নাকি প্রোবায়োটিক?

যেটা মনে করছেন, সেটার চাইতেও বেশি দরকার অন্য উপাদানটি।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 04:17 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে আঁশ এবং প্রোবায়োটিক, দুটাই প্রয়োজন।

তবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা 'গাট হেলথ' ভালো রাখার আসল চাবিকাঠি কার হাতে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়শই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ পরিপাকতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তুলতে আঁশের ভূমিকা, প্রোবায়োটিকের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর।

আঁশের বহুমাত্রিক উপকারিতা

উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে প্রাপ্ত আঁশ মূলত এক ধরনের কার্বোহাইড্রেইট, যা মানুষের শরীর সরাসরি হজম করতে পারে না। তবে এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রধান খাদ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. উইল বুলসিউইচ সেল্ফ ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “বৈচিত্র্যময় খাদ্য আঁশ যখন মলাশয়ে পৌঁছায়, তখন সেখানকার ব্যাকটেরিয়ায় গাঁজন বা ফারমেন্টেইশন প্রক্রিয়া ঘটে। এর ফলে ‘শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড’ তৈরি হয়, যা অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীর মজবুতের মাধ্যমে রোগজীবাণু থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

পুষ্টিবিষয়ক মার্কিন গবেষণা সংস্থা 'জোই'-এর প্রধান পুষ্টিবিদ ডা. ফেডেরিকা আমাতি একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “আঁশ রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল ব্যবস্থাপনা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি কাজ করে।।”

আঁশ প্রধানত দুই প্রকার

দ্রবণীয় বা সলিউবল আঁশ: এটি পানিতে গলে যায় এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ডায়রিয়া প্রতিরোধে কার্যকর।

অদ্রবণীয় বা ইনসলিউবল আঁশ: এটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না। এটি মল নরম ও ভারী করে অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

প্রোবায়োটিকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা

প্রোবায়োটিক হল কিছু জীবিত অণুজীব বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. ফেলিস শ্নল-সুসম্যান প্রতিবেদনে বলেন, “ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা তীব্র ডায়রিয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রোবায়োটিক ভালো কাজ করে।”

বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর, অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাকটেরিয়া পুনরায় ফিরিয়ে আনতে এটি সহায়ক।

তবে ডা. বুলসিউইচ সতর্ক করে বলেন, “প্রোবায়োটিক হল সাময়িক ‘ব্যাকআপ’ সৈন্যের মতো; দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো অন্ত্রে টিকে থাকে না। আঁশের পর্যাপ্ত উপস্থিতি ছাড়া প্রোবায়োটিক অন্ত্রে ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। একটি পুষ্টিহীন ও অনাহারী অন্ত্রে প্রোবায়োটিক প্রবেশ করালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।”

তাহলে কোনটা বেশি কার্যকর?

এই বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত রায় অনুযায়ী, অন্ত্রের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য আঁশই প্রথম এবং প্রধান মৌলিক উপাদান।

প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা মানুষের শরীরের ধরন, পরিমাণ এবং ‘স্ট্রেইনের’ ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে।

তবে আঁশের উপকারিতা সবার জন্য সমানভাবে প্রমাণিত ও টেকসই।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও ওটস ধরনের বৈচিত্র্যময় আঁশযুক্ত খাবার রাখা উচিত।

তবে হঠাৎ করে আঁশের পরিমাণ না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত, অন্যথায় পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা বাধ্যতামূলক।

চূড়ান্ত কৌশল হিসেবে প্রথমে আঁশ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা উচিত। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করা যেতে পারে।

পরিপাকতন্ত্র যদি একটি বাগান হয়, তবে আঁশ হল মাটির সার এবং প্রোবায়োটিক হল তার বীজ; তাই আগে মাটির উর্বরতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন

যকৃতে চর্বি জমছে? ‘ফ্যাটি লিভার’ তাড়াতে পাতে রাখতে পারেন আঁশ সমৃদ্ধ খাবার

ইনজেকশন ছাড়াই কমবে ওজন

পেট ফোলাভাব কমাতে এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার