Published : 14 Dec 2022, 06:28 PM
ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কিছু কারণ এড়ানো যায়, কিছু কারণ এড়ানো না গেলেও আগেভাগে সাবধান হওয়া যায়।
ক্যান্সারের হাত থেকে মানুষের বেঁচে ফিরে আসার মাত্রা বাড়ছে ঠিক। তবে আজও তা মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত ‘হেমাটোলজি-অনকোলজি ক্রসঅন ক্যান্সার ইন্সটিটিউট অ্যাট প্রভিডেন্স সেইন্ট. জুড মেডিকাল সেন্টার’য়ের বিশেষজ্ঞ ইয়ং লিউ ‘ইট দিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শরীরের যে অঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং অস্ত্রোপচার, ‘রেডিয়েশন ট্রিটমেন্ট’ আর ওষুধ দিয়ে তা সারিয়ে তোলা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “তবে ‘লেট স্টেজ’য়ে বা ক্যান্সার যখন তীব্র আকার ধারণ করে তখন রোগ ধরা পড়লে দেখা যায় একাধিক অঙ্গে তা ছড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতেও রোগীকে সুস্থ করা যায়। কিন্তু ক্যান্সার শরীর থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। ফলে আবার রোগ ফিরে আসে।”
ক্যান্সার নিয়ে যা জানা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য মেসোথেলিওমা সেন্টার’য়ের পুষ্টিবিদ ও সেবক শন মার্চেজ বলেন একই প্রতিবেদনে, “ক্যান্সার হল শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়াতে কোনো গোলমাল। এই জৈবিক প্রক্রিয়া শরীরে প্রতিদিন হাজারবার ঘটে। ডিএনএ যখন নষ্ট হয় বা কোষ বিভাজনের সময় জিনগত বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে অনুলিপন না হলে কোষ বাড়তে থাকে অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায়। সেটা পরিণত হয় টিউমার’য়ে। আর যে অঙ্গে টিউমার হয় তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন তার জীবদ্দশায় ক্যান্সারের শিকার হন; যা বেশ আতঙ্কের। আতঙ্ক এড়াতে সবার জানা উচিত কখন ক্যান্সারের সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, লক্ষণগুলো কী।
ঝুঁকি কমাতে পারেন নিজেই
ডা. লিউ বলেন, “ম্যামোগ্রাম’, ‘কোলোনোস্কপি’ ইত্যাদি পরীক্ষায় ক্যান্সারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য আদর্শ। ধূমপান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম। তাই সেটা বাদ দিতে হবে। জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, বংশগত দিক, বিষক্রিয়ার সংস্পর্শে আসা ইত্যাদি বিবেচনা করে কোন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি তা জানা জরুরি।”
যে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে
যুক্তরাষ্ট্রের ‘হলিস্টিক ওয়েলনেস স্ট্যাটেজিস’য়ের সনদস্বীকৃত ‘ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান’ টমি মিচেল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “ক্যান্সার যার হয়েছে সেই জানে এই রোগ কতটা অনিশ্চিত আচরণ করে। জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যা আমাদের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
তবে কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
টমি বলেন, “প্রথমত বয়স, যা অন্যতম প্রধান কারণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার। বয়স ৫০ পার হলেই এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় লাফ দিয়ে। লিঙ্গ এমনই আরেকটি দিক, নারীদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা পুরুষের থেকে বেশি। বংশে কারও ক্যান্সার থাকলে সেটাও এমন একটি ঝুঁকি বাড়ায় কারণ যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
এই ঝুঁকিগুলো আমরা এড়াতে পারি না ঠিক, তবে সচেতন থাকলে রোগ এড়ানো অসম্ভব নয়।
যে লক্ষণগুলো চেনা যায় না
ডা. মিচেল জানান, “অন্যান্য সবদিনের মতোই আপনার দৈনন্দিন কাজ করে যাচ্ছেন। হঠাৎ মনে হলে পাকস্থলীর ভেতর থেকে একটা দুর্গন্ধের অনুভূতি হচ্ছে। প্রথমে আপনি ব্যাপারটা উড়িয়ে দেবেন। তবে অনুভূতিটা রয়ে গেছে, খুঁচিয়ে যাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের কাছে যান। হয়ত কিছুই হয়নি, না হলেই ভালো, নিশ্চিন্ত হওয়া গেলো।”
যদি চিকিৎসকের কাছে না যান, তবে কিছু হয়ত হয়েছে এই সম্ভাবনাটাও রয়ে যায়।
ডা. লিউ বলেন, “কোলন’ বা মলাশয়ে ক্যান্সারের সাধারণ একটি লক্ষণ হল মলের সঙ্গে রক্ত আসা। এমনটা যদি হয় তবে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করুন দ্রুত, ব্যথা বা অস্বস্তি না থাকলেও।”
হঠাৎ করে অস্বাভাবিক মাত্রায় ওজন কমে যাওয়া, কোনো কারণ ছাড়াই বমিভাব ও বমি, প্রচণ্ড অবসাদ, দীর্ঘদিন খাবারে অরুচি, অসহনীয় মাথাব্যথা, শরীর টালমাটাল হওয়া ইত্যাদির পেছনেও ক্যান্সার দায়ী হতে পারে।
আরও পড়ুন
পুরানো খবর:
যেসব কারণে হতে পারে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারপুরানো খবর:
স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ জানা থাকা ভালোপুরানো খবর:
মলাশয়ে ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ