Published : 22 Oct 2022, 08:14 PM
খাওয়ার পরে গোসল না করার বিষয়টা নিছক প্রচলিত কোনো পরামর্শ নয়।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও এই পদ্ধতি সমর্থন করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেবল গোসল নয় বরং গোসলের সময় কিছু সাধারণ অভ্যাস, পরিপাকতন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
ইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস ডটকম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় পুষ্টিবিদ ডা. গরিমা গয়াল বলেন, “শরীর জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আর আমাদের প্রতিটা কাজ দেহে প্রভাব রাখে। গোসল এর মধ্যে অন্যতম।”
গোসলে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করা উচিত
বিশেষজ্ঞরা গোসলের আগে কুসুম গরম বা সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান করতে বলেন। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যাখ্যা করে গয়াল বলেন, “কুসুম গরম পানি পান শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ করে। ফলে রক্তনালী প্রশস্ত হয় এবং রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। যে কারণে রক্তচাপ কমে। এর ফলে ত্বকের উপরিভাগে একইভাবে সংবহন তন্ত্রের প্রসারণ ঘটে।”
ভারী খাবার খাওয়ার পরে গোসল নয়
পাকস্থলী ও অন্ত্র উষ্ণতা এবং শক্তি বাড়িয়ে হজম, শোষণ ও পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করে। তবে খাবার খাওয়ার পরে গোসল করলে হজমগ্রন্থি দুর্বল হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা করে গয়াল বলেন, “খাওয়ার পরে শরীর হজমক্রিয়ায় সাহায্য করার জন্য পাচনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহিত করে। তবে এই সময় গোসল করলে এই কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং রক্ত পাকস্থলীর পরিবর্তে ত্বকের উপরিভাগে নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ভারী খাবারের পরে গোসল করা অনেক ক্ষেত্রে পেশির টান, হজমে সমস্যা বা ফোলাভাবের সৃষ্টি করে।”
তার মতে, “এই সমস্যা সমাধানে খাওয়ার কমপক্ষে এক ঘন্টা পরে গোসল করা উচিত। অন্যদিকে খাবারে আগে গোসল করা দেহে শক্তি বৃদ্ধি পায় ও মেজাজ চনমনে থাকে।”
সূর্যাস্তের পরে গোসল না করা
সূর্যাস্তের পরে আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে।
ব্যাখ্যা করে গয়াল বলেন, “ঘুমানোর আগে গোসল করা লোমকূপে তাপ আটকে ফেলে। ফলে দেহের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায় এবং রাতে ঘুমের ব্যঘ্যাত ঘটাতে পারে।
গোসলের সময়ে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো
এতে হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। গোসলের সময়ে বুকের নিচের অংশ থেকে হালকা গরম পানি ঢালা এবং মুখের জন্য সাধারণ তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা ভালো। এতে সংবেদনশীল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক থাকে।
কেবল শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের জন্য সামান্য গরম পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে।
ঠাণ্ডা পানিতে গোসল
অথবা মাঝে মধ্যে বরফ পানিতে গোসল ক্ষত সারাতে বা আঘাত থেকে সেরে ওঠার সময় ভালো কাজ করে। বরফ ফোলাভাব কমায়, শরীর থেকে ‘ল্যাকটিক অ্যাসিড’ দূর করে এবং রক্তনালীকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন
গোসলের সময় মুখ ধোয়ার ক্ষেত্রে যা করণীয়