ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, যুগে যুগে বসন্ত এসেছে শীতের শেষে নতুনের বারতা নিয়ে।
Published : 13 Feb 2015, 11:02 AM
নতুন প্রজন্ম এখন ফাল্গুন বরণ করছে বেশ জাকজমকের সঙ্গেই। ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুনে রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়বে বাসন্তী, হলুদ আর সবুজের সমারহ।
অথচ প্রায় বিশ বছর আগেও ফাল্গুন উৎসবের চিত্র ছিল ভিন্ন।
দেশীয় ফ্যাশন ঘর ‘সাদা-কালো’র কর্ণধার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী তাহসীনা শাহীন জানান তাদের সময়ের ফাল্গুন উৎসব আর বর্তমান যুগের ফাল্গুন আয়োজনে বেশ পার্থক্য আছে।
শাহীন বলেন, “এখন ফাল্গুনকে বলা যায় বর্তমান বাংলার ভ্যালেনটাইন ডে। পাশ্চাত্যে যেভাবে ভালোবাসা দিবস পালন হয়ে থাকে সেভাবে আমাদের দেশে ওই দিনটি এখনও প্রচলিত হয়ে ওঠেনি। তাই ফাল্গুনের প্রথম দিনটি ধরে নেওয়া যেতে পারে বাংলার ভালোবাসা দিবস হিসেবে।”
“এখন যতটা জমজমাটভাবে ফাল্গুন বরণ করা হয়, আমাদের সময়ে তেমনটা হত না। তখন ছায়ানট বসন্ত বরণের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো আর চারুকলার বকুল তলায় বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান হত। এছাড়া আর তেমন কিছু হত না।”
“আর আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছিলাম, শাড়ি পরে মাথায় ফুল দিতাম— এই আরকি। কিন্তু এছাড়া আর তেমন কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান বা আয়োজন হতো না তখন।” বললেন শাহীন।
শাহীন আরও জানান, এখন এতোটাই বড় করে ফাল্গুন আয়োজন হয়ে থাকে যে কেউ যদি ভুলেও যায় তাহলে রাস্তায় বের হলেই যে কারও মনে পড়বে, আজ পহেলা ফাল্গুন।
ষড়ঋতুর শেষ ঋতু বসন্ত। আর শীতের তীব্রতার পর বসন্ত যেন স্বস্তি নিয়ে আসে এদেশের মানুষের জীবনে। বসন্ত হল রংয়ের ঋতু। তাই এই ঋতুর প্রথম দিনটি পালনও করা হয় দারুণ আনন্দের সঙ্গে।
শুধু মেয়েরাই নয়, বসন্ত পালনে পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। পাঞ্জাবী পরে তারাও উদযাপন করছে বসন্ত।
ইতিহাস
প্রাচীন আমল থেকেই বাংলার এই অঞ্চলে বসন্ত উৎসব পালিত হচ্ছে।
আর এই উৎসব বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন: দোল, দোলপূর্ণিমা, হোলি।
বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়।
শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে।
আর বাংলাদেশে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপনব করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপনব পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে।
এছাড়া তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্ত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ধানমণ্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারাদিন।
আজ দিনভর চলবে বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেইসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়।