পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ না করলে যা হয়

বেশিরভাগ সময় খাওয়া ইচ্ছা, মনযোগের অভাব কিংবা কাটাছেড়া সহজে না শুকানোর কারণ হতে পারে প্রোটিন কম গ্রহণ।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Sept 2019, 01:03 PM
Updated : 4 Jan 2020, 11:30 AM

শরীরে সব কিছুই পর্যান্ত পরিমাণে চাই। তবে খাদ্যতালিকায় কয়েকটি উপাদান ঠিক মতো না থাকলে ঘটতে পারে বিপত্তি।

প্রোটিন এমনই একটি উপাদান যা শরীর গঠনে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ না করা হলে কী কী সমস্যা হতে পারে তা জানানো হল খাদ্য ও পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।

খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যাওয়া: দুই বেলার খাবারের মধ্যের সময়ে মাঝে মধ্যে নাস্তা খাওয়ার ইচ্ছে জাগতেই পারে। তবে এই ‘খাই খাই ভাব’ যদি চলতেই থাকে তাহলে বুঝতে হবে যা খাচ্ছেন তাতে ক্ষুধা মিটছে না।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লাইফস্টাইল’ বিশেষজ্ঞ ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ লিসা ডিফাজিও বলেন, “রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন। কার্বোহাইড্রেইট বা শর্করার শোষণ ধীর করে, অর্থাৎ রক্তে শর্করার মা্ত্রা ধীর করে।”

তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করা হলে অনেক্ষণ ধরে পেট ভরা থাকে। ফলে মন মেজাজ খারাপ হয় কম।

নিউট্রশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, যারা সকালের নাস্তায় বেশি প্রোটিন-যুক্ত খাবার গ্রহণ করেন তাদের মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে।  

বিপাক প্রক্রিয়া ধীর করে: কম প্রোটিন-যুক্ত খাবার মানে পেশির ক্ষয়, ফলাফল ধীর বিপাকক্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বস্টন মেডিকেল সেন্টার’য়ের ‘নিউট্রিশন অ্যান্ড ওয়েইট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’য়ের চিকিৎসক এবং পরিচালক ক্যারোলিন অ্যাপোভিয়ান বলেন, “পেশির পরিমাণ বা ঘনত্বের ওপর ‘রেস্টিং এনার্জি এক্সপেনডিচার (আরইই)’ অর্থাৎ বিশ্রামের সময় একজন কতটা শক্তি ক্ষয় করে সেটা নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ মেডিসিন’য়ের তথ্যানুসারে শারীরিক কর্মকাণ্ড বিহীন বা ক্যালোরি গ্রহণ করা ছাড়া শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য ০.৮ থেকে ১.১ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

মনযোগ কমে যাওয়া: প্রোটিন কম হলে চিন্তা ও মনযোগের অভাব কমে যেতে পারে, জানালেন নিউ ইয়র্কের নিবন্ধিত হৃদবিশেষজ্ঞ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লুইজা পেটরে।

তিনি আরও বলেন, “হরমোন এবং এনজাইম তৈরিতে সাহায্য করে প্রোটিন, যা আমাদের মস্তিষ্ক সচল রাখে। অ্যামিনো অ্যাসিড, টাইরোসিন শোষণে সাহায্য করে পর্যাপ্ত প্রোটিন। এই দুটি উপাদান ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ অর্থাৎ স্নায়ুর সংকেত আদান প্রদান পন্থাকে উজ্জীবিত রাখে। ফলে মনযোগ ও চিন্তভাবনায় ভাটা দেখা দেয় না।

কাটাছেড়া সহজে ভালো হবে না: ডা. অ্যাপোভিয়ান জানান, বিভিন্ন খনিজ উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ভিটামিনের সমন্বয়ে প্রোটেন কোষের ক্ষয় পূরণ করে বৃদ্ধি ঘটায়। যদিও রক্তে থাকা অক্সিজেনের জন্য প্রোটিন ঝুঁকিপূর্ণ তারপরও যারা কম প্রোটিন গ্রহণ করেন তাদের কাটাছেড়া ভালো হতে সময় লাগে।

ওয়াশিংটনের অবস্থিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেইশন কাউন্সিল ফাউন্ডেশন’য়ের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ এবং সহযোগী পরিচালক ড. আলি ওয়েবস্টার বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, প্রোটিনের অভাবে হাড় ফাটা রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের হাড় ক্ষয় রোগ হয় তারা হয়ত সবসময় কম প্রোটিন গ্রহণ করেছেন।

হতে পারে রক্তশূন্যতা: পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্ত কণিকার অভাবে রক্ত সঠিকভাবে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না। এই সমস্যাকেই বলা হয় ‘অ্যানিমিয়া’ বা রক্তশূন্যতা। আর এর রয়েছে ভিন্নতা।

পর্যাপ্ত প্রোটিন নির্ভর খাবার না খাওয়ার ফলে কমে যেতে পারে ভিটামিন বি টুয়েল্ভ বা ফলাটের মাত্রা। আবার বেশি প্রোটিন গ্রহণ করেও রক্তশূন্যতা হতে পারে যদি না সঠিক প্রোটিন গ্রহণ না করা হয়।

ডা. অ্যাপোভিয়ান বলেন, “নিরামিষাশী এবং যারা প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ করেন না তাদের ভিটামিন বি টুয়েল্ভের অভাব হতে পারে। কারণ এটা শুধু মাত্রা প্রাণিজ খাবারেই থাকে। তাই পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের পরারমর্শে আলাদ করে ভিটামিন ট্যাবেলেট খাওয়া যেতে পারে।”

শরীরে পানি জমা: প্রোটিনের পরিমাণ কম হওয়ার একটি লক্ষণ হতে পারে শরীরে পানি জমা। বিশেষ করে পায়ে। আর এই সমস্যা হওয়ার অন্যতম কারণ অ্যালবুমিনের অভাব। রক্তের এই প্রোটিন উপাদান শরীরে তরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডা. অ্যাপোভিয়ান বলেন, “শরীরে পানি জমার অনেক রকম কারণ থাকতে পারে। তবে অন্যতম কারণ হল যখন পর্যাপ্ত ক্যালোরি গ্রহণ করার পরও পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করা না হয়।

নখ নরম ও ভঙ্গুর হওয়া: সঠিক মাত্রায় পুষ্টি না পেলে জরুরি বিষয়গুলো ছাড়া শরীরের বাকি অংশে কাজ থামিয়ে দিতে থাকবে। আর এভাবেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে দেহ।

এর অন্যতম উদাহরণ হল প্রোটিনের অভাব হলে নখ নরম হওয়া যাওয়া, অর্থাৎ শরীরে যতটুকু প্রোটিন আছে তা নখ গড়ার কাজে ব্যবহার না করে অন্য জরুরি কাজে ব্যবহার করছে শরীর। জানালেন ডা. অ্যাপোভিয়ান।

ডা. পিটার এই বিষয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে আরও বলেন, “একই বিষয় ঘটে কেরাটিনের অভাবে। এটা হল গঠনমূলক একটি প্রোটিন যা চুল, ত্বক ও নখ তৈরিতে সহায়তা করে। যেহেতু শরীরে এই উপাদান তৈরি হয় না সেহেতু পর্যাপ্ত প্রোটিন ধরনের খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই এর চাহিদা মেটানো সম্ভব।”

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক