Published : 22 Jun 2026, 04:22 PM
সাধারণ অবস্থায় ফ্রিজ চালু থাকলে হালকা কম্পনের মতো শব্দ শোনা স্বাভাবিক।
তবে হঠাৎ করেই যদি জোড়ে ঝাঁকুনির মতো শব্দ, ভোঁ ভোঁ আওয়াজ কিংবা অস্বাভাবিক কম্পন শুরু হয়, তাহলে সেটির কারণ অনেকেই বুঝতে পারেন না।
আবার শব্দ মানেই যে, ফ্রিজে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে, সেটাও ঠিক নয়।
বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি প্রতিষ্ঠান স্যামসং-পণ্য সার্ভিসিং বিভাগের কর্মী দীপক সরদার বলেন, “অনেক সময় শুধুমাত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবেও এমন সমস্যা দেখা দেয়।”
ফ্রিজের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষ্কার রাখলে শুধু শব্দই কমে না, বরং যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্বও বাড়ে।
কোন শব্দ স্বাভাবিক, কোনটি সতর্কবার্তা?
ফ্রিজ চলার সময় হালকা কম্পনের মতো শব্দ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। কারণ এর ভেতরে থাকা শীতলীকরণ ব্যবস্থা একটানা কাজ করে।
তবে যদি শব্দের ধরন হঠাৎ বদলে যায়, যেমন কাঁপুনি, ধাতব ঘর্ষণের শব্দ, ভোঁ ভোঁ আওয়াজ বা অনিয়মিত কম্পন শোনা যায়, তাহলে সেটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অনেক সময় ধুলাবালি জমে যাওয়া বা বরফ তৈরির অংশে ময়লা আটকে থাকাই এমন সমস্যার কারণ হতে পারে।
প্রথমেই পানি ও বরফ তৈরির অংশ পরীক্ষা
ফ্রিজে পানি এবং বরফ তৈরির জায়গায় অস্বাভাবিক শব্দের হতে পারে, এই অংশের অপর্যাপ্ত পরিচর্যার কারণে।
দীপক বলেন, “বরফ তৈরির পাত্র দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে সেখানে ময়লা, বা জমে থাকা বরফের কারণে শব্দ তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরানো বরফ ফেলে, বা গলিয়ে পাত্রটি সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত।”
একই সঙ্গে পানি পরিশোধনের ছাঁকনি নিয়মিত পরিবর্তন করাও জরুরি। পুরানো ছাঁকনি শুধু পানির মানই নষ্ট করে না, বরং পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে ফ্রিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যেতে পারে।
ফ্রিজের পেছনের অংশ পরিষ্কার রাখা জরুরি
অনেকেই ফ্রিজের ভেতর নিয়মিত পরিষ্কার করলেও পেছনের অংশের দিকে নজর দেন না। অথচ এই অংশেই থাকে গুরুত্বপূর্ণ শীতলীকরণ ব্যবস্থা, যা ধুলাবালিতে ঢেকে গেলে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।
ফ্রিজের পেছনে থাকা পাখা এবং তাপ ছাড়ার অংশে ধুলা জমে গেলে বাতাস চলাচল বাধা পায়। তখন পাখাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং সেই অতিরিক্ত চাপ থেকেই শব্দ তৈরি হতে পারে।
তাই পেছনের অংশও সামনের অংশের মতো সমানভাবে পরিষ্কার রাখা উচিত।
ধুলাবালি জমলে বাড়ে বিদ্যুৎ খরচও
শুধু শব্দ নয়, ধুলাবালি জমে থাকলে ফ্রিজকে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখতেও বেশি শক্তি ব্যবহার করে। ফলে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যেতে পারে।
দীপক সরদারের মতে, “নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে শীতলীকরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। এতে যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে এবং দীর্ঘদিন ভালো অবস্থায় ব্যবহার করা সম্ভব হয়।”
যেভাবে পরিষ্কার করবেন
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত এর ভাষ্য, “ফ্রিজ পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে ফ্রিজ দেয়াল থেকে কিছুটা সরিয়ে নিতে হবে।”
পেছনের অংশে জমে থাকা ধুলাবালি নরম ব্রাশযুক্ত পরিষ্কার করার যন্ত্র দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। খুব জোরে ঘষা বা ধারালো কিছু ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে ফ্রিজের নিচের অংশও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ সেখানে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ধুলা, চুল কিংবা অন্যান্য ময়লা পরে আবার পেছনের পাখার মাধ্যমে ভেতরে টেনে নেওয়া হতে পারে।
কতদিন পরপর পরিষ্কার করা উচিত?
ফ্রিজের ভেতরের অংশ সপ্তাহে অন্তত একবার মুছে নেওয়া ভালো। বরফ তৈরির পাত্র মাসে একবার পরিষ্কার করা যেতে পারে।
“অন্যদিকে ফ্রিজের পেছন ও নিচের অংশ অন্তত তিন থেকে ছয় মাস পরপর পরিষ্কার করলে ধুলাবালি জমার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়”, বলেন তাসমিয়া জান্নাত।
সব সমস্যা পরিষ্কার করলেই মিটবে না
যদিও অনেক ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়, তবে সব সময় তা যথেষ্ট নয়।
যদি পরিষ্কার করার পরও একই ধরনের শব্দ থেকে যায়, তাহলে বরফ তৈরির যন্ত্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পাখা অথবা অন্য কোনো যান্ত্রিক অংশে ত্রুটি থাকতে পারে।
এক্ষেত্রে নিজে মেরামতের চেষ্টা না করে, কারিগরের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।
ফ্রিজ দেয়ালের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখা একেবারেই উচিত নয়। কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকলে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।
পাশাপাশি ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত জিনিস গাদাগাদি করে রাখা যাবে না। এতে বাতাসের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় চাপ পড়ে।
এছাড়া দরজার রবার ঠিকমতো লেগে আছে কি-না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ দরজা ঠিকভাবে বন্ধ না হলে যন্ত্রটিকে বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয়, যা শব্দের একটি কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন
ভুলভাবে পরিষ্কারে কাচের চুলায় পড়তে পারে দাগ