১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোন কিনতে গিয়ে ‘ওয়াটারপ্রুফ’ নাকি ‘ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট’?

পানিরোধী ফোন কেনার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের চটকদার ভাষায় মন ভোলানো যাবে না।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 May 2026, 04:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

ফোনের দোকানে বিক্রেতা উৎসাহ নিয়ে বললেন, “এই মডেলটা ওয়াটারপ্রুফ। পানিতে পড়লেও কিছু হবে না।”

খুশি মনে ফোন কিনলেন। কয়েক মাস পর বৃষ্টিতে ফোন বের করলেন বা একটু বেশিক্ষণ পানিতে পড়ে গেল। ফোন নষ্ট। ওয়ারেন্টি ক্লেইম করতে গেলেন। প্রতিষ্ঠান জানাল, পানির ক্ষতি ওয়ারেন্টির আওতায় পড়ে না।

লাখ টাকার ফোন পানিতে পড়লে নষ্ট হলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দেবে না— কারণটা জানলে অবাক হবেন।

‘ওয়াটারপ্রুফ’-এর মতো বড় দাবি না করে ‘ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট’ বলাটা আসলে বেশি ভালো। কারণ এটা স্পষ্ট করে বলছে— কিছুটা সুরক্ষা আছে, সীমার মধ্যে।

‘ওয়াটারপ্রুফ’ একটা মার্কেটিং শব্দ

ঢাকার ইস্টার্ন প্লাজার মোবাইল মেরামত প্রতিষ্ঠান সাইম প্লাসের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেন বলেন, “বাস্তবে শতভাগ ওয়াটারপ্রুফ ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রায় পাওয়াই যায় না।”

কারণটা প্রযুক্তিগত। যে কোনো স্মার্টফোনে চার্জিং পোর্ট আছে, সিম ট্রে আছে, স্পিকারের ছিদ্র আছে, মাইক্রোফোনের ছিদ্র আছে। এই জায়গাগুলো থেকে পানি ঢোকার সম্ভাবনা সব সময় থাকে।

তাহলে ‘ওয়াটারপ্রুফ’ কথাটা মূলত বিজ্ঞাপন। আকর্ষণীয় শোনায়, বিক্রি বাড়ে। তবে এই শব্দের কোনো সর্বজনীন প্রযুক্তিগত সংজ্ঞা নেই।

আবার একটা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াটারপ্রুফ' অন্য প্রতিষ্ঠানের 'ওয়াটারপ্রুফ' থেকে আলাদা হতে পারে।

“আর ঠিক এই কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ারেন্টিতে পানির ক্ষতি রাখে না” মন্তব্য করেন মো. কামাল।

ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট

মানে হল যন্ত্র বা ফোনটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত পানি সামলাতে পারে। তবে সব পরিস্থিতিতে নয়।

মো. কামাল বলেন, “হালকা বৃষ্টিতে ভিজলে, ঘাম লাগলে, হাত ধোয়ার সময় একটু ছিটে এলে— এই ধরনের পরিস্থিতিতে ‘ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ডিভাইস’ সাধারণত ঠিক থাকে।”

তবে পুকুরে পড়ে গেলে, সাঁতারের সময় নিয়ে গেলে বা দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলে, এই সুরক্ষা আর থাকে না।

'ওয়াটারপ্রুফ'-এর মতো বড় দাবি না করে 'ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট' বলাটা আসলে বেশি সৎ। কারণ এটা স্পষ্ট করে বলছে — কিছুটা সুরক্ষা আছে, সীমার মধ্যে।

 আইপি৬৭, আইপি৬৮, (IP67, IP68) — এই রেটিং দেখতে শিখুন

‘স্পেসিফিকেশনে’ আইপি রেটিং থাকলে সেটা বিশ্বাসযোগ্য। কারণ এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটা পরিমাপ।

আইপি৬৭ মানে ডিভাইসটি এক মিটার গভীরতায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত পানিতে থাকতে পারে। ল্যাবে পরীক্ষিত, স্থির পানিতে। আইপি৬৮ মানে আরও একটু বেশি গভীরতায়।

তবে এই পরীক্ষাগুলো হয় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। বাস্তব জীবনে সমুদ্রের ঢেউ, পুকুরের কাদা, লোনা পানি বা সুইমিংপুলের ক্লোরিন থাকে।

তাই আইপি৬৮ রেটিং আছে মানে নিশ্চিন্তে পানিতে ডুবিয়ে রাখুন — এটা ভুল বোঝা। মানে হল, হালকা থেকে মাঝারি পানির সংস্পর্শে সাধারণত ঠিক থাকবে।

 ব্যবহারের সঙ্গে ‘রেজিস্ট্যান্স’ কমে যায়— অনেকে এটা জানেন না

এটা আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা বিক্রেতারা বলেন না।

ফোনের পানিরোধী আবরণ স্থায়ী নয়। প্রতিদিনের ব্যবহারে হাত দিয়ে ধরা, পকেটে রাখা, পড়ে যাওয়া— এতে আবরণ ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়।

কেনার দিন যে আইপি৬৮ রেটিং ছিল, দুই বছর পর সেই সুরক্ষা একই থাকে না।

পুরানো ফোনকে নতুনের মতো পানিতে ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেশি। আর ফোন একবার পানিতে পড়লেও পরে ‘রেজিস্ট্যান্স’ কমে যায়।

 তাহলে কী করবেন?

“ফোনে আইপি রেটিং থাকলে হালকা পানির কাছে নিয়ে যেতে পারেন। বৃষ্টিতে, হাত ধোওয়ার সময়। তবে সাঁতার কাটার সময় বা ডুব দেওয়ার সময় না নেওয়াই ভালো”- বলেন মো. কামাল।

লোনা পানি বা ক্লোরিনযুক্ত পানি এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো ‘রেজিস্ট্যান্স’ দ্রুত নষ্ট করে।

পানির কাছে যাওয়ার পর পোর্টগুলো শুকনা আছে কি-না দেখুন। ভেজা পোর্টে চার্জ দেবেন না।

আর সবচেয়ে জরুরি হল- কোনো দোকানদার 'ওয়াটারপ্রুফ' বললে সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করুন আইপিরেটিং কত। যদি না থাকে বা বলতে না পারে — সেই দাবিকে বিজ্ঞাপনী ভাষা মনে করুন।

‘স্পেসিফিকেশন’ পড়ুন, বিজ্ঞাপন নয়

মো. কামাল বলেন, “ফোন কেনার সময় বাক্সের পেছনে বা ওয়েবসাইটে ‘স্পেসিফিকেশন’ দেখুন। আইপি রেটিং আছে কি না, থাকলে কত — এটুকু জানলেই বোঝা যাবে কতটুকু সুরক্ষা পাবেন।”

'ওয়াটারপ্রুফ' শব্দে আকৃষ্ট না হয়ে আইপি রেটিং দেখতে হবে। আর রেটিং থাকলেও সীমার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। জানা থাকলে ফোন বাঁচে, না জানলে শুধু অভিযোগ করার সুযোগ থাকে।

আরও পড়ুন

বৃষ্টিতে ফোন ভিজে গেছে? প্রথম পাঁচ মিনিট যা করবেন আর যা করবেন না

মনোযোগ হারানোর কারণ কি ফোন! না কি আপনি নিজেই?

ফোন হাতে না থাকলে বুক ধড়ফড় করে কি?