১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইফতারি কালচে বা গাঢ় বাদামি করে ভাজলে যা হয়

ভাজার ক্ষেত্রে একই তেল কয়েকবার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2026, 04:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

ইফতারের সময় ভাজাপোড়া খাবারের কদর সবচেয়ে বেশি। পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, সমুচা কিংবা বিভিন্ন ধরনের পাকোড়া- এসব ছাড়া যেন অনেকের ইফতার পূর্ণ হয় না।

তবে প্রায়ই এ খাবারগুলো এত বেশি ভাজা হয় যে সেগুলো কালচে বা গাঢ় বাদামি রং ধারণ করে। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয় এভাবে ভাজলে খাবার বেশি মচমচে হয়।

অথচ পুষ্টিবিদেরা বলছেন, অতিরিক্ত ভাজা খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ইফতারের খাবার যত কম ভাজা তত ভালো।

অতিরিক্ত ভাজা খাবারের ঝুঁকি

খাবার দীর্ঘ সময় ধরে বা অতিরিক্ত তাপে ভাজলে, এর পুষ্টিগুণ কমে যায়। শুধু তাই নয়, খাবারের রং কালো বা গাঢ় বাদামি হয়ে গেলে সেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলোর মতে, “বারবার ভাজা হয়েছে এমন তেলে বা বেশি সময় ধরে তেলে ভাজা খাবারে এমন কিছু উপাদান তৈরি হতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।“

এই বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটি বলছে, “অতিরিক্ত ভাজাপোড়ায় খাদ্যে ক্যান্সারের উপাদান তৈরি হয়। খাদ্য অল্প ভাজুন। খাদ্য যেন কালো-বাদামি রং ধারণ না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।”

অর্থাৎ খাবার ভাজার সময় এমনভাবে ভাজা উচিত যাতে তা হালকা সোনালি রং ধারণ করে, তবে কালচে বা পুড়ে না যায়।

যে কারণে কালচে হয়ে যায় খাবার

খাবার যখন অনেক বেশি সময় ধরে তেলে ভাজা হয়, তখন উচ্চ তাপমাত্রায় খাদ্যের ভেতরের উপাদানগুলো পরিবর্তিত হতে থাকে। বিশেষ করে ময়দা, আলু বা ডালজাতীয় উপাদানে থাকা শর্করা ও প্রোটিন তাপে বিক্রিয়া করে খাবারের রং গাঢ় করে ফেলে।

“এই বিক্রিয়ার ফলে অনেক সময় এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয় যা শরীরের জন্য ভালো নয়” বলেন আখতারুন নাহার আলো।

তাই ইফতারের সময় অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার নিয়মিত খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো। ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে।

তবে এগুলো কম খাওয়া এবং সঠিকভাবে ভাজাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

“খাবার ভাজার সময় মাঝারি তাপমাত্রা ব্যবহার করা উচিত। তেল খুব বেশি গরম হয়ে গেলে খাবার দ্রুত পুড়ে যায় এবং কালচে হয়ে পড়ে। আবার একই তেল বারবার ব্যবহার করাও ঠিক নয়” পরামর্শ দেন এই পুষ্টিবিদ।

তিনি আরও বলেন, ইফতারে যদি ভাজা খাবার রাখা হয়, তবে সঙ্গে পর্যাপ্ত ফল, সালাদ ও পানীয় রাখা উচিত। এতে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।

একই তেল বারবার ব্যবহার করা ঠিক নয়

ভাজাপোড়া খাবার তৈরিতে অনেক পরিবারেই একই তেল বারবার ব্যবহার করা হয়। একদিনের ভাজা তেল পরের দিন আবার ব্যবহার করা হয়। তবে এই পুষ্টিবিদ বলছেন, এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

তেল বারবার গরম করলে এর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে। ফলে সেই তেলে ভাজা খাবার শরীরের জন্য ভালো থাকে না।

তাই সম্ভব হলে প্রতিবার ভাজার সময় নতুন তেল ব্যবহার করাই ভালো।

স্বাস্থ্যকর ইফতারের অভ্যাস

রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের জন্য পুষ্টিকর খাবারই প্রয়োজন। তাই ইফতারের তালিকায় শুধু ভাজাপোড়া খাবারের ওপর নির্ভর না করে অন্য খাবারও রাখা জরুরি।

যেমন- খেজুর, ফল, সালাদ, ডাল, ছোলা, দই কিংবা লেবুর শরবত। এসব খাবার শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। ভাজা খাবার থাকলেও তা সীমিত পরিমাণই ভালো ইফতার।

আরও পড়ুন

ভাজার তেল পুনরায় ব্যবহার করার নিয়ম

ইফতারের পর মাথাব্যথা? জেনে নিন এড়ানোর উপায়

এয়ার ফ্রায়ারে যেসব ইফতারি তৈরি করা যাবে না

ইফতারের পর যে কারণে ক্লান্তি লাগে