Published : 15 Feb 2026, 05:25 PM
বাড়ি পরিষ্কার রাখার জন্য ঝাড়ু, মোছা, ধুলাবালি পরিষ্কার করা নিয়মিত কাজ। তবে অতিথি বাড়িতে এলে একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে— অতিথিকে কি জুতা খুলে ঘরে ঢুকতে বলা উচিত?
অনেকেই মনে করেন হয়তো এটি ভদ্রতার অংশ নয়। আবার অনেকে স্বাস্থ্যগত কারণে জুতা বাইরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “জুতার তলায় এমন অনেক জীবাণু ও দূষিত উপাদান থাকে, যা ঘরের ভেতরের পরিবেশ নষ্ট করে। এছাড়া বিষয়টি শুধু ভদ্রতা নয়, বরং স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেও যুক্ত।”
জুতার মাধ্যমে কী কী ঘরে ঢোকে?
জুতার তলায় লেগে থাকা জীবাণু তখনই সমস্যার কারণ হয়, যখন সরাসরি সেটা মেঝে স্পর্শ করে বা সেই ধুলাবালি হাতে লেগে মুখ, চোখ বা নাকে পৌঁছে যায়।
বিশেষ করে ছোট শিশু, যারা হামাগুড়ি দেয় বা মেঝেতে খেলাধুলা করে, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি। মেঝেতে চলাফেরার পর বিছানা বা সোফায় উঠলে দূষিত উপাদান সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
জুতায় লুকিয়ে থাকা জীবাণুর ঝুঁকি
‘ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি-পাজু ইউনিভার্সিটি ইন্ডিয়ানাপলিস’য়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ জুতার ভেতর ও বাইরে নানান ধরনের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া থাকে। এর মধ্যে এমন ব্যাকটেরিয়াও আছে- যা পেটের সংক্রমণ, প্রস্রাবনালির সংক্রমণ কিংবা নিউমোনিয়ার মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন
জুতা-স্যান্ডেল দরজার বাইরে রেখে ঘরে ঢুকে কোনো লাভ নেই, যদি না…
অনেক সময় হাত বা মেঝের তুলনায় জুতায় বেশি জীবাণু পাওয়া যায়।
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানও ঘরে ঢোকে
“শুধু জীবাণুই নয়, জুতার সঙ্গে বাইরে থাকা ধুলা এবং অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র কণাও ঘরে ঢুকে পড়ে” মন্তব্য করেন ‘হেল্থ এইড’ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আফিফ বাসার।
অনেকেই ঘরের জানালা বন্ধ রেখে বা বায়ু পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করেও অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন। এর একটি কারণ হতে পারে জুতার মাধ্যমে নানান অ্যালার্জি তৈরির উপাদানের ঘরে প্রবেশ।
জীবাণু কতদিন মেঝেতে টিকে থাকে?
অনেকে ভাবেন, জীবাণু কিছু সময় পর নিজে থেকেই নষ্ট হয়ে যায়। তবে অনেক ব্যাক্টেরিয়া কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। কিছু ভাইরাস তো আরও দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে।
মেঝেতে জমে থাকা ধুলা বা ময়লা নড়াচড়া করলে জীবাণুযুক্ত কণাগুলো আবার বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পরে শরীরে প্রবেশ করে অসুস্থতা তৈরি করে।
অতিথিকে জুতা খুলতে বলা কি অভদ্রতা?
অনেকেই দ্বিধায় থাকেন, অতিথিকে জুতা খুলতে বলা অশোভন হবে কি না।
গুলশান নাসরিন বলেন, “বিষয়টি ভদ্রভাবে জানালে সাধারণত কেউ বিরক্ত হন না।”
আমন্ত্রণ জানানোর সময় আগেই জানিয়ে দেওয়া যায় যে, ঘরে জুতা না পরার নিয়ম আছে। দরজার কাছে জুতা রাখার পরিষ্কার জায়গা রাখা এবং অতিথিদের জন্য ঘরের ভেতরের ব্যবহারের আলাদা স্যান্ডেল বা চটি রাখা গেলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তবে কারও শারীরিক সমস্যা থাকলে তাকে জুতা পরেই থাকতে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত।
যদি জুতা পরেই ঘরে ঢোকে অতিথি
অনেকে খালি পায়ে অন্যের বাড়িতে হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই তার সমাধান সহজ— অতিথি চলে যাওয়ার পর ভালোভাবে মেঝে পরিষ্কার করা।
প্রয়োজন হলে মেঝে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। তবে ঝাড়ু দেওয়ার সময় ধুলা যেন বেশি উড়তে না পারে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে কার্পেট পরিষ্কার রাখা তুলনামূলক কঠিন। কারণ ধুলা ও জীবাণু সহজে আটকে যায়। এক্ষেত্রে ভালো মানের ভ্যাকুয়াম যন্ত্র ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
পরিবারের জন্য যে অভ্যাসটি ভালো
অন্তত পরিবারের সদস্যরা যেন ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই জুতা খুলে ফেলেন সে অভ্যাস করা উচিত। এতে ঘরের ভেতরে দূষণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়।
গুলশান নাসরিন বলেন, “দরজার কাছেই জুতা খুলে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে জীবাণু পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে না। এতে ঘর পরিষ্কার রাখাও সহজ হয়।”
আরও পড়ুন
পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ ও সমাধান