১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্বক্ষণ শ্রান্ত লাগার শারীরিক নানান কারণ

পর্যাপ্ত ঘুম না দিলেও সবসময় ক্লান্তি কাজ করে।

সর্বক্ষণ শ্রান্ত লাগার শারীরিক নানান কারণ
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Feb 2025, 02:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:54 AM

‘উফ! টায়ার্ড লাগছে! একটু চোখটা বন্ধ করি’- দিনের মধ্যভাগেই এমন মনে হতেই পারে।

তবে সারাক্ষণ ঘুমঘুমভাব কাজ করার নানান কারণ আছে। আর সেগুলো উদঘাটন করে সঠিক পদক্ষেপে ক্লান্তিভাব দূর করাও যায়।

মন অবসাদের কারণ হতে পারে- ঋতুগত পরিবর্তনের প্রভাব বা দৈনিক মানসিক চাপ অথবা অপর্যাপ্ত ঘুম।

এই তথ্য জানিয়ে সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ইউটাহ স্লিপ ওয়েক সেন্টার’য়ের ঘুম-বিষয়ক মনোবিজ্ঞানি ডা. জেনিফার মান্ডট বলেন, “যদি সর্বদা ক্লান্তি কাজ করে তবে চিকিসকের পরামর্শ নিয়ে জানার চেষ্টা করতে হবে, সেটা কি অপ্রতুল ঘুমের কারণে নাকি শারীরিক কোনো কারণে হচ্ছে।”

ঘুমের অভাব থেকে দেখা দেয় মনোযোগহীনতা। মানে সুযোগ পেলেই ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে বা দিনের সময় দেওয়া যেতে পারে স্বল্প ঘুম বা ‘ন্যাপ’।

অন্যদিকে ক্লান্তি হল, শক্তির অভাব। যা অপর্যাপ্ত ঘুম বা অন্য শারীরিক কারণেও হতে পারে।

ডা. মান্ডট বলেন, “এরফলে কাজকর্ম করতে সমস্যা হয়, সারাদিন মনে হয় গায়ে কোনো শক্তি নেই।”

চিকিসকের পরামর্শ নেওয়া

সারাক্ষণ ক্লান্তিবোধ কাজ করলে সেরা পন্থা হবে, চিকিসকের সঙ্গে জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি নিয়ে পরামর্শ নেওয়া।

“কী কারণে শক্তির ক্ষয় হচ্ছে সেটা একমাত্র স্বাস্থ্য-সেবাকর্মী পর্যবেক্ষণ করে ভালো মতো বুঝতে পারবেন”- একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন আটলান্টায় অবস্থিত ‘এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের ‘ফ্যামিলি অ্যান্ড প্রিভেনটিভ মেডিসিন’য়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. টিনা-অ্যান থম্পসন।

চিকিসক জানতে চাইবেন, ঠিক কবে কখন থেকে এমন অবসাদ কাজ করা শুরু হয়েছে। সারাদিনের কর্মকাণ্ড কী? যেমন- নতুন চাকরি, প্রিয় কোনো মানুষকে হারানো বা মানসিক চাপের অন্য কোনো কারণ।

খাদ্যা-তালিকায় যথেষ্ট প্রোটিন, লৌহ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকছে কি-না, সেসবও বিবেচনায় আসবে।

এছাড়া মনমেজাজের পরিবর্তন, ঘুমের অভ্যাস বা মানসিক অবস্থাও বিবেচ্য হবে। আর এসব কিছু গোনায় ধরেই বের করা সম্ভব হবে কোনো সর্বক্ষণ ক্লান্তি বোধ কাজ করছে।

শারীরিক সমস্যা

অবসাদগ্রস্ত হওয়ার একটি প্রধান কারণ হল ‘অ্যানিমিয়া’ বা রক্তশূন্যতা, মানে দেহে লৌহের অভাব বা লোহিত রক্ত কণিকার অপর্যাপ্ততা।

রক্তপাত, লৌহ গ্রহণে অপর্যাপ্ততা বা লৌহ শোষণে দেহের অক্ষমতা ইত্যাদি কারণ থাকতে পারে। আর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটা বোঝা সম্ভব।

যদিও হৃদরোগ সারাক্ষণ অবসাদ কাজ করার প্রধানন কারণ নয়। তারপরও ডা. থম্পসন হৃদসংক্রান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় হরনোর পরিবর্তনের কারণেও ক্লান্তি কাজ করতে পারে। তবে ‘প্রিমেনোপজ’য়ের সময় অবসাদ বোধ বেশি হয়।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে, হরমোন গ্রহণের বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

সবসময় ক্লান্তি কাজ করার আরেকটি কারণ হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো ভাইরাস বা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকা; যা দেহের শক্তি খরচ করে ফেলছে।

সাধারণ ক্লান্তি বোধ কাটাতে ব্যস্ত জীবনেও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন, ডা. থম্পসন। পাশাপশি ওপরের বিষয়গুলো কাজ করছে কিনা সেসব বুঝতে চিকিসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ঘুমের সমস্যা

যদি শরীরে অন্যান্য কোনো সমস্যা না থাকে, আর যদি ঘুমের অপর্যাপ্ততাই হয় ক্লান্তির কারণ তবে এই সমস্যা নিরসরে পদক্ষেপ নিতে হবে।

মান্ডট বলেন, “ঘুমঘুমভাব বা ক্লান্তি কাজ করার প্রধান তিন কারণ হল- অপর্যাপ্ত ঘুম, ইনসমনিয়া (অনিদ্রা অসুখ) এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে বারবার নিঃশ্বাস বন্ধ ও খোলা)।”

সম্পর্কিত প্রতিবেদন

অন্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে ‘নার্কোলেপ্সি’ বা নিদ্রারোগ।

ঘুম নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও, জীবনের নানান ঘটনার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম হতে পারে।

মান্ডট বলেন, “সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক নয় ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন হয়। তবে ব্যক্তি বিশেষে সেটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এই পরিমাণ ঘুম দেওয়ার পরও ক্লান্তিবোধ কাজ করলে অতিরিক্ত সময় ঘুমানোর জন্য সময় বের করতে হবে। শুনতে হবে শরীর কী বলতে চাচ্ছে।”

যদি ঘুম বেশি দিয়েও কাজ না হয়, তবে জীবনযাত্রার ধরন সমন্বয় করে ভালো ঘুম দিতে হবে।

মান্ডট বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ হল প্রতিদিন নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। বেশিরভাগ মানুষই কর্মদিনে সাত আট ঘণ্টা ঘুমায়। তবে সমস্যাটা হয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে, হয়ত রাত বেশি জেগে ছয় ঘণ্টা ঘুমাচ্ছে। ফলে দেখা যায় সেই ঘুমের অভাব কাটাতে অন্যান্য দিন বেশি ঘুমঘুম-ভাব কাজ করছে।”

আরেকিট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সূর্যালোক। যে কোনো কৃত্রিম আলোর চাইতে উজ্জ্বল হল প্রাকৃতিক আলো।

দেহে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো লাগলে চব্বিশ ঘণ্টার ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর সন্ধ্যার পর থেকে আলো কমিয়ে রাখলে দেহ সংকেত পেতে শুরু করবে এখন ঘুমিয়ে পড়ার সময় হচ্ছে।

আরও পড়ুন

যেসব কারণে ক্লান্তি কাজ করে

খাবার যখন অবসাদের কারণ

ক্লান্তি দূরে রাখার চার কৌশল

অবিরাম অবসাদের কারণ হতে পারে আঁশের ঘাটতি

সব সময় ক্লান্ত, অলস ও নির্জীব লাগার কারণ