০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছয় দিনের বদলে ৩ দিনেই সেবা চালু করল কিউ ক্যাশ

দ্রুত সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিদের্শনার পর মঙ্গলবার রাত থেকেই বেশির ভাগ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সচল হতে শুরু করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 11:44 PM

Updated : 07 Oct 2026, 11:44 PM

সরকারি-বেসরকারি ৩১ ব্যাংকের কার্ড লেনদেনসহ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় বিঘ্নের ঘটনায় গ্রাহক ভোগান্তি দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে পরে তিন দিনেই ‘প্রযুক্তিগত উন্নয়নের’ কাজ শেষ করেছে ইনফরমেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড-আইটিসি।

ছয় দিন সেবা বন্ধের ঘোষণা দিলেও বুধবার থেকে পুরোদমে এটিএম বুথ, কার্সহ ডিজিটাল সব ব্যাংকিং সেবা চালু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

আইটিসি ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ৩১টি ব্যাংকের এটিএম বুথসহ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা দেয়। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য ৪ থেকে ১০ অক্টোবর বেলা ১২টা পর্যন্ত সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল কোম্পানিটি।

বন্ধের কারণ ব্যাখ্যায় তারা বলেছিল, ‘‘কিউ ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ করতে এই সময় লাগবে।’’

এ নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ সংবাদমাধ্যমে খবর এলে আগের দিন গভর্নর তলব করে আইটিসি কর্তৃপক্ষকে।

দ্রুত সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিদের্শনার পর মঙ্গলবার রাত থেকেই বেশির ভাগ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সচল হতে শুরু করে। বুধবার সকাল থেকে সব ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পুরো দমে সচল হয় বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ওয়েব্সাইটে পুরনো নোটিস সরিয়ে নতুন নোটিস দিয়েছে আইটিসি। বলেছে, ‘‘কিউ ক্যাশ এর সকল সেবা পুরোদমে সচল হয়েছে।’’

এ বিষয়ে কোম্পানিটির সহায়ক বিভাগের কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘সদস্য সব ব্যাংকের সেবা চালু করা হয়েছে। সফটওয়্যার শতভাগ কাজ করছে।’’

সেবা বন্ধের জন্য আইটিসি কারণ হিসেবে বলেছিল, প্রযুক্তির উন্নয়নজনিত বিষয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পেয়েছে মূল প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্স নবায়ন না করায় সফটওয়্যার অকার্যকর হয় আইটিসির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘চীনা বিনিয়োগের আইটিসি বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তি সেবা দিলেও তাদের মূল প্রযুক্তি নেয় রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন জটিলতার কারণে তারা সফটওয়্যার লাইসেন্স নবায়ন করেনি। তাতেই বিকল হয়ে পড়ে আইটিসির সব সফটওয়্যার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবারের মধ্যে সমাধানের নির্দেশ দেয়।’’

এরপরই রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিটমাট করলে সচল হয় আইটিসির কিউ ক্যাশ নেটওয়ার্ক।

সমস্যা মিটমাটের নির্দেশনা দিয়ে আগের দিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছিল, ‘‘ইতোমধ্যে কিউ ক্যাশের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। শিগগির সুইচিং কার্ডসংশ্লিষ্ট সব সেবা আবার চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমস্যা পুরোদমে মিটেছে কি না তা জানতে আইটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সাইফুদ্দিন মুনিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ছয় দিন সেবা বন্ধ থাকার ঘোষণা দেওয়ায় আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউ ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত কমপক্ষে ৩১টি ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেনসহ ডিজিটাল পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছিল। একাধিক ব্যাংকের পুরো ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাই বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে এসব ব্যাংকের কার্ডধারীদের কেউ এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারছিলেন না, তেমনি টাকা স্থানান্তর, ই–কমার্স লেনদেন, বিদেশে লেনদেনসহ কোনো সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

দেশের ৩১টি ব্যাংক কিউ ক্যাশের সুইচ ব্যবহার করে এটিএম সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে যেসব ব্যাংকের কিউ ক্যাশের পাশাপাশি নিজস্ব সুইচ ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলো বিদ্যমান আগের মতই কার্ডভিত্তিক লেনদেনসেবা চালিয়ে নিতে পারছে।

যাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেই সেগুলোর এটিএমসহ কার্ডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেন সেবা বন্ধ ছিল।