Published : 29 May 2025, 06:55 PM
ঘুমানোর আগে টিভি দেখা নয়- এই নিয়ম সবারই হয়ত জানা। তবে কোনো কিছু শুনতে শুনতে ঘুমানো যেতেই পারে।
সত্যি বলতে অনেকের সংগীত ছেড়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস আছে।
তাইওয়ানের ‘আই-শো ইউনিভার্সিটি’র নার্সিং বিভাগের ২০১৮ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সমস্যায় সংগীত ওষুধের মতো কাজ করে। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরই এই ওষুধে কাজ হয়েছে।
এই তথ্য জানিয়ে সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ঘুমের সময় ফোন ‘স্ক্রল’ করা বা কোনো অনুষ্ঠান দেখা বাজে অভ্যাস। তবে শুধু শোনা এই ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
বাল্টিমোর’য়ের ‘জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. র্যাচেল সালাস এই বিষয়ে সিএনএন’কে বলেন, “কোনটা কাজ করছে সেটাই আসল বিষয়। রাতের ঘুমের রুটিন শুধু অভ্যাসের ওপর নয়, আশপাশের পরিবেশ এবং অন্যান্য অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।”
“সবাই আলাদা। কেউ হয়ত কিছু শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যান। তারপরও কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত যাতে এই অভ্যাস থেকে পূর্ণ মাত্রায় লাভ পাওয়া যায়। আর কমানো যায় ক্ষতির মাত্রা”- বলেন ডা. সালাস।
চিন্তার ঘোড়ায় লাগাম টানা
“অডিওবুকস’, ‘পডকাস্ট’ বা ‘সংগীত’- শোনার ক্ষেত্রে প্রধান বিষয় মাথায় রাখতে হবে- এগুলো যেন জাগিয়ে না রাখে। বরং ঘুমের মধ্যে যেন নিয়ে যায়”- মন্তব্য করেন সেন্ট লুইসে অবস্থিত ‘জন কে, ককর্যান ভেটেরান্স হসপিটাল’য়ের স্লিপ মেডিসিনের চিকিৎসক ডা. শালিনি পারুথি।
তিনি বলেন, “যদি কোনো কিছু শুনলে ঘুমিয়ে পড়ার পরিবর্তে আরও বেশি জাগিয়ে রাখে তবে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে।”
সুস্থ থাকার জন্য একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের নিয়মিত টানা সাত ঘণ্টা ঘুমানোর সুপারিশ করা হয়।
“অন্য দিকে অভ্যস্ত শব্দ ঘুম আনতে সাহায্য করতে পারে”- বলেন ডা. সালাস।
তার কথায়, “যদি দেখতে পান, এই ধরনের রুটিন আপনার রাতের ঘুম নিয়ে আসছে, তাহলে তো বেশ ভালো।”
যুক্তরাজ্যের বার্কশা’র ঘুম বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানী ডা. লিন্ডসে ব্রাউনিং পরামর্শ দেন, “শোনার জন্য এমন কিছু বেছে নিন যা আপনাকে ঘুমের মধ্যে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।”
এক ইমেইল বার্তায় তিনি আরও বলেন, “এমন কিছু বেছে নেওয়া উচিত হবে না যাতে মস্তিষ্ক সেটা শুনে অতি সক্রিয় হয়ে যায় আর ঘুমাতে সমস্যা হয়।”
অনলাইনে গল্প, অডিওবুক এমনকি কোনো পডকাস্ট শুনতে শুনতেও ঘুমিয়ে পড়া যায়।
যখন শব্দ বন্ধ করতে হবে
“একটা সংগীত হয়ত আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে। তবে ঘুমিয়ে থাকতে হয়ত দেবে না” বলেন ডা. ব্রাউনিং।
তাই ঘুমিয়ে পড়ার পর কখন শব্দ বা সংগীতটা বন্ধ হবে সেটা ঠিক করাও গুরুত্বপূর্ণ।
যে অনুষ্ঠান, পডকাস্ট বা সংগীত শোনা হচ্ছে- সেটাতে যদি অযাচিত শব্দ থাকে বা শব্দের মাত্রা বাড়ে তাহলে মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে সেদিকে মনোযোগ দিয়ে দেবে।
“এই ধরনের উত্তেজিত শব্দ সব সময় পুরো জাগ্রত না করলেও, পুরোপুরি ঘুমিয়েও থাকতে দেয় না। ফলে ঘুম জাগরণের একটা অধ্যায় চলতে থাকে। যা ঘুমের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর”- বলেন ডা. সালাস।
স্থিতিশীল শব্দ ঘুমের মান বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গোলযোগ পূর্ণ পরিবেশে থাকলে।
‘ইনসমনিয়া’ বা অনিদ্রা রোগের ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
ডা. ব্রাউনিং বলেন, “অনেক সময় কিছু একটা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া শুধু রাতের শোয়ার সময়ে একটা ভালো রুটিনই নয়, পাশাপাশি রাতে চিন্তার দৌড়ে লাগাম টানার ক্ষেত্রেও ভালো মাধ্যম।”
আরও বলেন, “যদি দেখেন মস্তিষ্ক অতি সক্রিয় হয়ে আছে আর ঘুমাতে অসুবিধা হচ্ছে তবে দিনের প্রথমভাগে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।”
এই কৌশলের মধ্যে আছে, যেসব চিন্তা ঘুমাতে বাধা দেয় সেগুলো নিয়ে দিনের প্রথমভাগে এলোমেলো ভাবে চিন্তা করা, আর আবেগহীন শব্দ দিয়ে সেগুলো নিবৃত করা।
আর অনিদ্রা রোগের ক্ষেত্রে কোনো কিছু শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসটা যদি দুই কিংবা চার সপ্তাহ পর কাজ না করে তবে অবশ্যই উচিত হবে একজন ঘুম বা স্নায়ু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
ডা. ব্রাউনিং বলেন, “ইনসমনিয়া’ নিরাময়ে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি রয়েছে। যা কিনা মস্তিষ্কের আচরণ, থেরাপি এবং ওষুধের মাধ্যমে করা হয়। চিকিৎসকই পরামর্শ দিতে পারবেন, কোনটা ভালো হবে আপনার জন্য।”
আরও পড়ুন
ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গোছানো যে কারণে ঠিক না