Published : 05 Jan 2026, 06:45 PM
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গেঁটেবাত বা গাউটের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
“অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিডের ক্রিস্টাল জমে প্রচণ্ড ব্যথা, ফোলাভাব এবং লালচে হয়ে যাওয়া সাধারণ লক্ষণ। তবে ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব”- মন্তব্য করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন।
তার মতে, খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা এবং কিছু সাধারণ অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা যায়।
ইউরিক অ্যাসিড মূলত ‘পিউরিন’ নামক যৌগ থেকে উৎপন্ন হয়। পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার হজমের পর এটি রক্তে মিশে যায়। লাল মাংস, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ (লিভার, কিডনি), কিছু মাছ, শামুক এবং পোলট্রি ধর্মী খাবারে পিউরিন বেশি থাকে।
এগুলো পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমাণে সীমিত করুন। সবজিতে থাকা পিউরিন তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর।
চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়। ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ কোমল পানীয়, সোডা এবং হাই ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
পরিবর্তে সাধারণ পানি, চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা নিরাপদ।
ডা. নয়ন বলেন, “আশ্চর্যের বিষয় হল, নিয়মিত কফি পান (চিনি ছাড়া বা সামান্য চিনি দিয়ে) ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”
পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ‘কিডনি’ অর্থাৎ বৃক্ক ইউরিক অ্যাসিডের বেশিরভাগই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। পানি কম খেলে এটি জমে যায়।
দৈনিক অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। কাজের জায়গায় পানির বোতল কাছে রাখলে নিয়মিত পান করা সহজ হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও অপরিহার্য। অতিরিক্ত ওজন কিডনির কার্যক্ষমতা কমায় এবং ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়।
ডা. নয়ন পরামর্শ দেন, “নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখুন। ইউরিক অ্যাসিডের ঝুঁকি বাড়ায় কারণ উচ্চ শর্করা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।”
আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল বেশি খেতে হবে। শাকসবজি, ফলমূল ইউরিক অ্যাসিড শোষণ করে বের করে দিতে সাহায্য করে।
লেবু, কমলা, পেয়ারা, টমেটোর মতো খাবার দৈনিক খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
কিছু ওষুধ, যেমন- মূত্রবর্ধক বা নির্দিষ্ট রক্তচাপের ওষুধ, ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
ডা. আফসানা হক বলেন, “সুস্থ জীবনযাপনই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি, ব্যায়াম এবং বিশ্রামের সমন্বয়ে সমস্যা অনেকাংশে কমানো যায়। তবে এই পরামর্শ সাধারণ।”
নতুন খাদ্যাভ্যাস বা পরিবর্তনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আরও পড়ুন
বৃক্ক সুস্থ রাখতে যা জানতে হবে