সমুদ্র দেখতে গেলে সুন্দরবন আর বান্দরবানের স্বাদও নেওয়া যায় কক্সবাজারে।
Published : 26 Jun 2024, 03:48 PM
সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউ, শেষ বিকেলের কমলা সূর্যের আলোয় হলদে বালিয়াড়ি আর ভাজা রুপচাঁদা মাছের স্বাদে ঝরঝরে ভাতের সাথে নানান পদের ভর্তা দিয়ে রাতের খাবার।
কক্সবাজারে গিয়ে এসব উপভোগ করা যায় সহজেই। আর হোটেল থেকে বের হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে হিমছড়ির ঝরনা পেরিয়ে ইনানীর পাথুরে সৈকত অথবা অরণ্যঘেরা দ্বীপ মহেশখালীর সৌন্দর্য দেখেই হয়ত বাড়ি ফেরা হয় বেশিরভাগ পর্যটকদের।
এসব জায়গা ছাড়াও রয়েছে রামু উপজেলার বৌদ্ধমন্দির বা রাবার বাগান, টেকনাফের মাথিনের কূপ।
এসব জানা জায়গা ছাড়াও বর্তমানে কক্সবাজরের আশপাশে আরও কয়েকটি বেড়ানোর জায়গা গড়ে উঠেছে। সেসব নিয়েই এবারের আয়োজন।
কক্সবাজারে গিয়ে বান্দরবানের স্বাদ
বান্দরবানের মতো বড় পাহাড় না হলেও পাহাড়ি রাস্তার আঁকাবাঁকা পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে চলে যেতে হবে কক্সবাজারের মিনি বান্দরবান খ্যাত গোয়ালিয়া’তে।
মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে ইনানী যাওয়ার মাঝপথে রেজুখাল ঘেষা এই এলাকায় দেখা যাবে পাহাড়, নদী-খাল, সারি সারি সুপারি বাগান। আর নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে পাহাড়ের ওপরে উঠলে চোখে পড়বে দূরে বঙ্গোপসাগর।
টেকনাফ সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজারের সৈকতের লোক সমাগম এড়িয়ে নিরিবিলিতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চাইলে যেতে হবে টেকনাফ সৈকতের শেষ সীমানায়। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে শেষ প্রান্তে যেতে যেতে চোখে পড়বে সৈকতে রাখা বর্ণিল সাম্পানের মেলা। সেখানে নেমে মন মতো ছবিও তোলা যায়।
তবে এখানে যেতে হলে কক্সবাজার থেকে দুপুরের পরপর বেরিয়ে পড়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নাইলে সন্ধ্যা গড়িয়ে যাবে পৌঁছানোর আগেই।
কক্সবাজারে সুন্দরবন
কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগর ও বাকঁখালী নদীর মিলন মোহনার ‘প্যারাবন’টি এখন কক্সবাজারের মিনি সুন্দরবন হিসেবে খ্যাত। বাইন, কেওড়াসহ নানান ধরনের শ্বাসমূলীয় গাছের সমন্বয়ে তৈরি এই বনের পাশে সৈকতে নুনিয়াছড়ায় রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
২০০৬ সালে প্রায় ৩১ একর জায়গা জুড়ে ‘ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ বা ‘প্যারাবন’ তৈরির উদ্যোগ নেয় বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বনের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ঘুরে দেখা যাবে সামুদ্রিক জাদুঘর।
এই বন দেখতে হলে কক্সবাজারের ছয় নম্বর ঘাট থেকে নৌকা বা স্পিডবোট ভাড়া করে যেতে হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি’তে উপবন পর্যটন লেক
কক্সবাজারে সমুদ্র দেখতে গিয়ে একদিনের মধ্যে যদি পার্বত্য জেলা বান্দরবানে একটু ঢুঁ দিতে চান, তবে চলে যেতে পারেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাতে অবস্থিত উপবন পর্যটন লেক দেখতে।
কক্সবাজার শহরের যে কোনো জায়গা থেকে সিএনজি করে এই জায়গায় যেতে প্রায় দু-ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। যাওয়ার পথে মিলবে আঁকাবাঁকা পথ।
উপবন’য়ে ঢুকতে প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠতে লাগবে ১০ টাকা। শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা আছে, সেটা উপভোগ করতে খরচ হবে ১০ টাকা।
এছাড়া হ্রদের সৌন্দর্য নৌকায় উপভোগ করতে চাইলে ২৫ মিনিটের জন্য জনপ্রতি খরচ হবে ৫০ টাকা। আর ৫৫ মিনিটের জন্য খরচ হবে ১০০ টাকা।
অন্যরকম খাবার
আতপ চালের ঝরঝরে ভাত, রুপচাঁদা-সহ নানান ধরনের মাছ ভাজা, কাঁকড়া, চিংড়ি আর ভর্তা-ভাজি- এরকম খাবারের স্বাদ কক্সবাজারের রেস্তোরাঁগুলোতে সহজেই নেওয়া যায়।
আর একটু ভিন্ন ধরনের খাবার উপভোগ করতে চাইলে, যেতে হবে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কে।
রাখাইনদের পরিচালনায় ‘ফালং জি’ ও ‘খিং মুন্ডি রেস্টুরেন্ট’য়ে মিলবে বিন্নি চালের ভাত, ফ্রাইড রাইস, স্কুইড ও শামুকের সালাদ, পাহাড়ি মুরগির তরকারি, বিশেষ ধরনের সুপ মুন্ডি এবং রামেন।
আরও পড়ুন