২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে যেসব ফল

সব ফল থেকে সব ধরনের উপকার পাওয়া যায় না।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে যেসব ফল
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Apr 2025, 03:53 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:37 PM

কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত (জিআই), উচ্চ আঁশ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এমন নির্দিষ্ট কিছু ফল রয়েছে যেগুলো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও নিবাসী ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ তোরা আনাস্তাশা বলেন, “সঠিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিছু নির্দিষ্ট ফল রয়েছে, যেগুলো ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা রোধ করতে সহায়তা করে।”

প্রশ্ন-উত্তর মূলক ওয়েবসাইট কোরা ডটকম’য়ে এমনই কিছু ফলের নাম জানিয়েছেন তিনি।

বেরি (ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি, ব্ল্যাকবেরি)

বেরি-ধর্মী ফলের মধ্যে উচ্চ পরিমাণে আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়াতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে।

আপেল

এটা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো ফল। বিশেষ করে এর খোসাসহ খাওয়া হলে তা উচ্চ পরিমাণে আঁশ সরবরাহ করে। যে কারণে শর্করার শোষণ ধীর হয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। এতে থাকা পলিফেনল উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ সাহায্য করে।

সিট্রাস বা টক ফল (কমলা, লেবু, জাম্মুরা)

কমলা ও অন্যান্য সিট্রাস ফল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ফলের রসের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এতে আঁশ বেশি থাকে।

অ্যাভোকাডো

কম শর্করাযুক্ত ফল, যাতে থাকে স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং আঁশ। এই দুই উপাদানে পরিপূর্ণ ফলটি রক্তে শর্করার ওঠানামা রোধ করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে সাহায্য করে।

নাশপাতি

আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এটি নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিকদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

চেরি

চেরিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামক উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি প্রদাহ কমায় এবং ইনসুলিন কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। তবে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা চেরি-ধর্মী খাবার কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এতে উপকারের পরিবর্তে হবে অপকার।

কিউই

কিউই ফল কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত। আর এতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ এবং ভিটামিন সি থাকে। এটি শর্করার শোষণ ধীর করে এবং হজম সহায়ক এনজাইম সরবরাহ করে। এটিও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী।

পেয়ারা

উচ্চ আঁশ ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এছাড়া, পেয়ারা পাতার রসও শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখে।

পিচ ও পাম

এই দুই ফল আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

তরমুজ (পরিমিত পরিমাণে)

উচ্চ জলীয় উপাদানসমৃদ্ধ এবং কম ক্যালোরিযুক্ত ফল। তবে এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তরমুজ খাওয়ার সময় সঙ্গে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন- বাদাম খেলে এটি শর্করার শোষণ ধীর করতে সাহায্য করবে।

“সঠিক পরিমাণে ফল খাওয়া এবং ব্যালান্সড ডায়েট সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান কৌশল” বলে মনে করেন তোরা আনাস্তাশা।

তাই ডায়াবেটিকদের খাদ্য তালিকায় এসব ফল থাকলে অবশ্যই খাওয়ার সময় পরিমাণ ও সময়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

ওজন কমানোর যাত্রায় যেভাবে ফল খাওয়া যাবে না

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফল