Published : 22 Jun 2025, 05:04 PM
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন একটি ‘ফিটনেস ট্রেন্ড’ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি হল জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটা।
এই ব্যায়াম শুধু সহজ আর সময় সাশ্রয়ী নয় বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত যে এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।
কী এই জাপানি হাঁটার ব্যায়াম?
ব্যায়ামটি মূলত একটি মধ্যম থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক কসরত, যা আধা ঘণ্টার একটি বিশেষ রুটিনে গঠিত। এটি তিন মিনিট দ্রুত হাঁটা এবং তিন মিনিট ধীর গতিতে হাঁটার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
এই তথ্য জানিয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভ্রমণ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক মার্কিন লেখক মেলিসা ম্যাথিউস বলেন, “তিন মিনিট দ্রুত হাঁটুন (যেখানে আপনার হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ সক্ষমতার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে)। তারপর তিন মিনিট ধীরে হাঁটুন (এই সময় হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ) এই চক্রটি ৩০ মিনিট পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।”
এভাবে হাঁটার মাধ্যমে শরীরের ওপরে প্রভাব পড়ে ধাপে ধাপে এবং শরীর চটজলদি ক্লান্ত হয় না।
গবেষণায় যা বলা হয়েছে
এই ব্যায়াম প্রথম চালু হয় প্রায় বিশ বছর আগে জাপানে।
‘শিনশু ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের গবেষকরা ৬৩ বছর বয়সি কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এটি প্রয়োগ করেন।
গবেষণার বরাত দিয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যারা সপ্তাহে অন্তত চার দিন এই হাঁটার ব্যায়াম করেছেন, তাদের রক্তচাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
এই ব্যায়াম কেবল সামাজিক মাধ্যমের ফিটনেস-প্রভাবকদের মুখেই নয়, বরং চিকিৎসা গবেষণাতেও সমর্থন পেয়েছে।
টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ব্যায়াম নিয়ে প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক ফিটনেস প্রশিক্ষক ইউজিন তেও।
তার মতে, “এটি নিয়মিত হাঁটার একটি কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত সংস্করণ।”
এই ব্যায়ামের কার্যকারিতা কী?
অনেকেই মনে করেন, একটানা একই গতিতে হাঁটার চেয়ে ধাপে ধাপে গতি পরিবর্তনের মাধ্যমে হাঁটা বেশি উপকারী। কারণ এতে শরীর বেশি উদ্যমী থাকে এবং মনেও বিরক্তি আসে না।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত হাঁটার সময় হৃৎপিণ্ড দ্রুত কাজ করে এবং ধীর হাঁটার সময় সেই গতির থেকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
এতে হৃদ্যন্ত্রের সক্ষমতা বাড়ে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি এই রুটিন মেনে চললে শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যকারিতাও উন্নত হয়।
বিশেষ করে যারা দৌড়ানো শুরু করতে চান, তাদের জন্য প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এটি চমৎকার মাধ্যম হতে পারে।
ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় করে তুলতে সাহায্য করে বলে এ ধরনের ব্যায়ামকে প্রস্তুতিমূলক কসরত হিসেবেও ধরা হয়।
সময় ও জায়গার সীমাবদ্ধতা নেই
এই ব্যায়ামের একটি বড় সুবিধা হল, এটি যে কোনো জায়গায় করা যায়। যেমন- পার্কে, বাসার ছাদে বা এমনকি খোলা বারান্দাতেও।
শুধু প্রয়োজন একটি সময় নির্ধারক যন্ত্র। যেমন- ঘড়ি বা মোবাইল, যাতে তিন মিনিটের হিসাব সহজে রাখা যায়।
যারা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করতে চান, তবে একঘেয়েমিতে পড়েন, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন মাত্রা। গতির পরিবর্তনের ফলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং সময় দ্রুত কাটে।
অন্যান্য হাঁটার ব্যায়ামের সঙ্গে তুলনা
এক সময় ‘১২-৩০-৩’ নামে একটি ব্যায়াম ব্যাপক জনপ্রিয় হয়, যেখানে ট্রেডমিলের উচ্চতা ১২ ডিগ্রিতে রাখা হয়, গতি থাকে ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার এবং সময় ৩০ মিনিট।
যদিও এটি কার্যকর, তবে অনেকেই বলেন একই গতিতে হাঁটার একঘেয়েমি থেকে রেহাই পেতে তারা জাপানি হাঁটার দিকে ঝুঁকছেন।
অনেক স্বাস্থ্যবিষয়ক স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারীদের মতে, দুই ধরনের ব্যায়ামে হৃদ্কম্পনের গড় হার ও হাঁটার দূরত্ব প্রায় কাছাকাছি হয়।
তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জাপানি হাঁটার মতো গতির তারতম্য থাকলে মানুষ হাঁটায় বেশি মনোযোগী থাকে এবং এতে মানসিকভাবে ক্লান্তি কম হয়।
নিয়মিত চর্চার ফলে উন্নতি হয়
এই ব্যায়াম নিয়মিত করলে শরীরের সহনশীলতা বাড়ে এবং হাঁটার গতি বাড়ানো সহজ হয়। যা শরীরের জন্য আরও উপকারী।
এমনকি এক সপ্তাহ ব্যায়াম করার পরও হাঁটায় শক্তি ও গতি বাড়ে বলে অনেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য।
স্বল্প সময়ে কার্যকর স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়ার জন্য যারা ব্যস্ততা বা অলসতায় ব্যায়াম করতে পারছেন না, তাদের জন্য এই রুটিন হতে পারে একটি নতুন অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন
দ্রুত হাঁটবেন নাকি অনেক দূর হাঁটবেন