ঘরে রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম
একদিনে বারবার রক্তচাপ মাপলে, উল্টো মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার মাপার সময় অনেকেরই রিডিং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আসে।
ডাক্তারের সামনে ঘাবড়ে যাওয়া বা উত্তেজনার কারণে সাময়িকভাবে প্রেশার বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতাকে ‘হোয়াইট-কোট হাইপারটেনশন’ বলা হয়ে থাকে।
‘হার্ভার্ড হেলথ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, একটি মাত্র ভুল বা সাময়িক রিডিং দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, কারণ প্রেশার দিনভর মানুষের শারীরিক কসরত ও মানসিক চাপের সঙ্গে অনবরত ওলটপালট হতে থাকে।
এই ধোঁয়াশা দূর করতে এবং কোনো লক্ষণ ছাড়াই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা কিডনি বা বৃক্ক বিকল হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে ঘরে বসে প্রেশার মাপা যেতে পারে।
প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ঘরে বসে সঠিক যন্ত্র এবং নিয়মের মাধ্যমে ব্লাড প্রেশার মাপলে ওষুধের কার্যকারিতা এবং হৃদযন্ত্রের আসল অবস্থা মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন ডিজিটাল প্রেশার মনিটর ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে জানিয়েছেন।
প্রেশার মাপার সঠিক সময়
ডা. হাওয়ার্ড লেওয়াইন বলেন, “যখন কোনও ব্যক্তি নতুনভাবে প্রেশার মাপা অনুসরণ করা শুরু করবেন, তখন প্রথম এক সপ্তাহ প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় বা রাতে একবার রিডিং লিখে রাখবেন। যদি এই এক সপ্তাহের অধিকাংশ রিডিং চিকিৎসকের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে স্থিতিশীল থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিনবার পরীক্ষা করাই যথেষ্ট।”
কোনো একটি রিডিং হঠাৎ বেশি এলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কারণ এটি একটি পরিবর্তনশীল ‘বায়ো-মার্কার’।
সঠিক আকারের কাফ
ডিভাইস বা প্রেশার মাপা যন্ত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, কব্জি বা আঙুলে লাগানোর ডিজিটাল মনিটরগুলো ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কারণ এগুলো চিকিৎসাগতভাবে নির্ভরযোগ্য নয়।
প্রেশার মাপার জন্য সবসময় হাতের ওপরের অংশে বা বাহুতে বাঁধার স্বয়ংক্রিয় কাফ যুক্ত যন্ত্র কেনা নিরাপদ।
কাফের ভেতরের বাতাস ভর্তি অংশটি যেন অবশ্যই ব্যক্তির খালি বাহুর ন্যূনতম ৮০ শতাংশ অংশ সম্পূর্ণ আবৃত করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কাফ প্রয়োজনের চেয়ে ছোট বা টাইট হলে রক্তনালীতে বেশি চাপ তৈরি হয়ে রিডিং ভুল হয়ে, অতিরিক্ত উচ্চ চাপ দেখাতে পারে।
অতিরিক্ত মাপার ক্ষতিকর দিক
হার্ভার্ডের চিকিৎসকেরা একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সেটি হল ‘ওভার-ডুয়িং’ বা দিনে বারবার প্রেশার মাপা।
যেমন, ওজন কমানোর ডায়েট করার সময় দিনে চারবার ওজন মাপলে উল্টো মানসিক অবসাদ বাড়ায়, ঠিক তেমনি দিনে বহুবার প্রেশার পরখ করলে মস্তিস্কের স্নায়ুতন্ত্রে তীব্র স্ট্রেস বা চাপ ও উদ্বেগ জন্ম নেয়।
এই অকারণ দুশ্চিন্তা কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে রক্তচাপকে প্রাকৃতিকভাবেই বেশি উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।
প্রামাণ্য ডিজিটাল রেকর্ড
সরাসরি মেমোরি স্টোরেজ সুবিধা সম্পন্ন যন্ত্র বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, যা অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহের ডেটা বা তথ্য ‘অটো-রেকর্ড’ রাখতে পারে।
বর্তমানে কিছু আধুনিক মোবাইল অ্যাপস রয়েছে, যা ব্লুটুথের মাধ্যমে সরাসরি মনিটর থেকে রিডিং নিজের ফোনে নেওয়া যায়।
চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ বা ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করার সময় এই প্রামাণ্য চার্টটি প্রদর্শন করলে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
