শিল্পীর কল্পনায় দেবী দুর্গা, এক প্রদর্শনীতে নানান রূপ
কারও কাছে দেবী দুর্দমনীয় শক্তির প্রতীক, কারও কাছে স্নেহময়ী মা।
কেউ দেখেন শক্তির প্রতীক, কেউ মাতৃ-মমতার আশ্রয়, আবার কারও ক্যানভাসে দুর্গা হয়ে ওঠেন সাহস ও আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি।
শারদীয় উৎসবের আবহে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যালারি চিত্র আয়োজিত ‘শিল্পীর চোখে দুর্গা’ প্রদর্শনীতে দেবীকে দেখার এমনই নানান শিল্পভাবনা ফুটে উঠেছে।
দুর্গাপূজা এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দেবী দুর্গার প্রতিমা, সিংহ, অসুরবধের দৃশ্য আর মণ্ডপের বর্ণিল সাজসজ্জা।
পরিচিত এই রূপের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় শক্তি, সাহস, মমতা ও অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয়ের বার্তা। তবে শিল্পী যখন দেবী দুর্গাকে দেখেন, তখন চেনা প্রতিমার বাইরেও ভাবনার নতুন ধরন প্রকাশ পেতে পারে৷
রং, রেখা, অবয়ব ও কল্পনার মধ্য দিয়ে দেবী হয়ে উঠতে পারেন নিজস্ব অনুভূতির প্রকাশ।
দেবী দুর্গাকে এমন ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে, এই ‘শিল্পীর চোখে দুর্গা’ শীর্ষক বিশেষ শিল্প প্রদর্শনী।
৯ অক্টোবর শুরু হওয়া চার দিনের এ আয়োজন চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনী।
শক্তি শিল্পযাত্রার আয়োজনে, বিশ্বরঙের উদ্যোগে এবং চাষির নিবেদনে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৬০ জন শিল্পী। একই দেবীকে কেন্দ্র করে এত শিল্পীর ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা দেখার সুযোগই আয়োজনটিকে বিশেষ করেছে।
এই আয়োজনের ভাবনা সম্পর্কে আয়োজকদের একজন, শিল্পী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা বিপ্লব সাহা বলেন, “দেবী দুর্গাকে শুধু ধর্মীয় আচার বা প্রতিমার পরিচিত রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। শিল্পীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও কল্পনার মধ্য দিয়ে সেই শক্তিকে নানা রূপে প্রকাশ করেছেন।”
একই দেবী, দেখার ভিন্ন ভিন্ন চোখ
দেবী দুর্গার পরিচিত প্রতিমার মধ্যে থাকে নির্দিষ্ট কিছু অনুষঙ্গ— দশ হাত, বিভিন্ন অস্ত্র, সিংহ ও অসুর।
তবে শিল্পের ভাষায় এই পরিচিত উপাদানগুলোই নতুন অর্থ পেতে পারে। কারও কাছে দেবী দুর্দমনীয় শক্তির প্রতীক, কারও কাছে স্নেহময়ী মা। আবার কোনও শিল্পীর ভাবনায় দেবীর অবয়বের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে নারীর সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।
এই বৈচিত্র্যই প্রদর্শনীটিকে আলাদা করেছে। দর্শক ছবির সৌন্দর্য উপভোগের সঙ্গে শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গিও বোঝার চেষ্টা করেছে।
প্রদর্শনীতে দেবীর মুখের অভিব্যক্তি হয়ত দর্শককে ভাবাবে, আবার কিছু ছবির রং ও রেখা হয়ত টানবে অন্যদিকে।
কোথাও পরিচিত পৌরাণিক অনুষঙ্গ, কোথাও শিল্পীর নিজস্ব কল্পনা; সব মিলিয়ে একই বিষয় হয়ে উঠেছে বহু রকমের অনুভূতির বাহন।
প্রতিমার বাইরেও দুর্গার গল্প
দেবী দুর্গা বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনাতেও আছে ভিন্ন জায়গায়। তাই শিল্পীর ক্যানভাসে সেই সাংস্কৃতিক অনুভূতি নতুনভাবে ধরা দিয়েছে।
দেবীর মুখের রেখা, চোখের ভাষা কিংবা রংয়ের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে শিল্পীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা। তাই প্রদর্শনীটিতে ছবির বিষয়বস্তু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তার উপস্থাপনাও।
শিল্পী কীভাবে দেবীর অবয়ব নির্মাণ করেছেন, কোন রং বেছে নিয়েছেন, কীভাবে আলোছায়া বা পটভূমি ব্যবহার করেছেন— এসবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শিল্পীর ভাবনার সূত্র।
উদ্বোধনী বিকেলে মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে ‘শিল্পীর চোখে দুর্গা’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অভিনেত্রী দিলারা জামান এবং অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ।
উদ্বোধনী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আবুল হায়াত, নাট্যদল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, মঞ্চ অভিনেত্রী ও নাট্য-নির্দেশক ত্রপা মজুমদার, সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা-সহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
