Published : 22 Jan 2026, 12:10 AM
ডোরিন ক্রোনিন (জন্ম ১৯৬৬) একজন আমেরিকান শিশুতোষ লেখক। তিনি মজার ছবিবই লেখার জন্য পরিচিত। তার লেখা ‘ক্লিক, ক্ল্যাক, মুউ: কাউস দ্যাট টাইপ’ বইটি ক্যালডেকট অনার পুরস্কার পেয়েছে, এবং এর পরের ধারাবাহিক বইগুলোও জনপ্রিয় হয়েছে।
লেখক হওয়ার আগে ডোরিন একজন আইনজীবী ছিলেন। প্রথম বইয়ের সাফল্যের পর তিনি পুরোপুরি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এরপর তিনি ‘দ্য চিকেন স্কোয়াড’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজ তৈরি করেন। ‘ডায়েরি অফ অ্যা স্পাইডার’ খুব সাধারণ এক প্রাণীর চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখিয়েছে। পড়তে পড়তে হয়তো তোমার মনে হবে, মাকড়সারা আর ততটা ভয়ংকর নয়। বরং তারা আমাদের মতোই- স্কুলে যায়, পরিবার আছে, আর একটু দুষ্টুমি করতে ভালোবাসে।
ওই যে লাল টুপি পরা ছোট্ট কেঁচোর ডায়েরি পড়লে না সেদিন? ওরই বন্ধু এই মাকড়সা। সে এবার ডায়েরি লিখেছে।
তার ডায়েরির পাতা উল্টালেও প্রথমে বেশ কয়েকটি ছবি দেখতে পাবে। পারিবারিক ছবিসহ পাখির পালক, বন্ধু মাছির নবজাতক বোনকে দেখতে যাওয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি ছবি সেঁটে দেওয়া সেখানে। সবশেষের ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে তার ঠাকুরদার সঙ্গে।
তারপর? এবার পড়তে শুরু করতে পারো–

১ মার্চ
আজ স্কুলে গ্র্যান্ড প্যারেন্টস ডে ছিল। আমি আমার ঠাকুরদাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের তিনটি জিনিস শেখালেন: ১.মাকড়সারা পোকা নয়। পোকাদের ৬ পা, আর আমাদের ৮, ২. মাকড়সাদের ছাড়াও পোকারা পৃথিবী দখল করে ফেলতে পারে এবং ৩. সামান্য বারবিকিউ সস দিয়ে প্রজাপতি খেতে দারুণ লাগে!
১৬ মার্চ
ঠাকুরদা সেদিন আরও একটি কথা বলেছিলেন, ‘মাকড়সা ও মাছির মধ্যে কখনও বনিবনা হয় না!’
২৯ মার্চ
আজ আমাদের জিম ক্লাস ছিল। আমরা শিখেছি কী করে বাতাসে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাল বুনে ভ্রমণ করতে হয়। বাড়িতে ফিরে আমি কিছু ফ্ল্যাশকার্ড বানালাম, যাতে আমি মন দিয়ে প্র্যাকটিস করতে পারি। মাছিও তার মতো করে কিছু ফ্ল্যাশকার্ড বানালো।
১ এপ্রিল
আজ আমি আর আমার বোন পার্কে গিয়েছিলাম। আমরা সিসোয় চড়লাম। এটা তো ওঠানামা করে। কিন্তু আমরা দু’জন দুদিকে বসার পরও তা কাজ করছিল না। সেখানে গাড়ির টায়ার দিয়ে বানানো একটা দোলনাও ছিল। আমরা তাতেও চড়লাম। কিন্তু দোলনা এতটুকু দোল খেলো না। তবে পার্কের এক কোণের এক বেসিনে আমরা আঠালো জাল বুনলাম, এবং সেটা ভালোভাবেই বোনা গেল।
১২ এপ্রিল
আজ স্কুলে নিরাপত্তা দিবস ছিল। আমরা শিখলাম যে ভ্যাকুয়াম মাকড়সা জাল খায়। এটা আমাদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যখনই আমরা ভ্যাকুয়ামের শব্দ শুনব আমরা দৌড়ে পালাবো।
১৩ এপ্রিল
আজ আমি ভ্যাকুয়াম ড্রিলের শব্দ শুনলাম, জাল–টাল ফেলে কোনদিকে দৌড় দেব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কাল আরও একটা ড্রিল আছে বোধহয়।
১৭ এপ্রিল
আমি আজ রাতে কেঁচোর বাড়িতে থাকছি। আশা করি আজ তারা আগেরবারের মতো ডিনারে শাক–পাতা আর টমেটো রাখবে না!
৭ মে
মা বলল, আমি অনেক বড় হয়ে গেছি! আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, গায়ে এত ঝুল জমেছে যে ইয়া বড় দেখাচ্ছে আমাকে।
৮ মে
আজ স্কুলে ছিল ‘দেখাও এবং বলো’। তাই আমি আমার পুরোনো খোলসটা নিয়ে গিয়েছিলাম।
৫ জুন
আমাদের সর্দার বড় মাকড়সা নিজের পা খেয়ে ফেলায় বাড়ি ফিরতে পারছে না। আমি ভাবছিলাম, তাকে খুঁজে বের করে আমার মগজের কিছু অংশ ধার দেব কিনা!
৬ জুন
কিন্তু তাকে যতটা বড় ভেবেছিলাম, সে তার চেয়েও অনেক বড়। তাই ভাবলাম নিজের দুপুরের খাবারটাই বরং তাকে দিয়ে দিই!

৭ জুন
গাছের ওপর মাছির বাসাটা আজ হাওয়া লেগে নিচে পড়ে গেছে। আসলে হাওয়া নয়, ঠাকুরদা ভ্রমণে বের হওয়ার সময় হুঁশশশ করে নেমে যাওয়ায় মাছির এই বিপদ হলো।
১৮ জুন
আমি ঠাকুরদার কাছ থেকে একটা পোস্টকার্ড পেলাম আজ। সে ঠিকঠাক প্যারিস পৌঁছেছে। ফ্রেঞ্চ পোকাগুলো খেতে দারুণ, সেটাই জানাল।
৩০ জুন
আজ ঠাকুরদা ফিরেছেন। আমি জানতে খুবই আগ্রহী যে সে কী করে সমুদ্রের ওপর দিয়ে জাল বুনেছেন। জানা গেল, প্লেনে ফার্স্টক্লাসে চড়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই পৌঁছে গেছে সে।
২ জুলাই
মাছি আজ খেলতে এসেছিল। কিন্তু প্রবেশ করতেই জালে আটকে গেল সে। তারপর আর উপায় কী? তার মাকেই আসতে হবে তাকে বাঁচাতে। ঠাকুরদা এটা দেখে হাসছিল। শেষমেষ বুঝলাম, আমাদেরই মাছির বাড়িতে খেলতে যেতে হবে।
৯ জুলাই
আজ আমার জন্মদিন। ঠাকুরদা জানালেন, আমার আসলে জানা উচিত দীর্ঘমেয়াদি সুখী জীবন যাপনের রহস্য। আর তা হলো, কখনোই মানুষের জুতোর ভেতর ঘুমিয়ে পড়া যাবে না।
১৬ জুলাই
আমাকে যারা ভয় পায়: ১. মাছির মা, ২. ছোট পোকা এবং ৩. পার্কের বেসিন
১৭ জুলাই
আমি যাদের ভয় পাই: ১. বড় পায়ের মাকড়সা, ২. ভ্যাকুয়াম এবং ৩. বড় পায়ের মানুষ
১ অগাস্ট
আশা করি কিছু মাকড়সার কারণে মানুষ যেন মনে না করে, সব মাকড়সাই কামড়ায়। আমি মনে করি, আমরা যদি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাই, তাহলে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।