অনূদিত রুশ গল্প
Published : 03 Sep 2025, 04:35 PM
গেন্নাদি মিখাইলোভিচ সিফেরভ (১৯৩০–১৯৭২) ছিলেন সোভিয়েত রাশিয়ার একজন শিশুসাহিত্যিক, চিত্রনাট্যকার ও নাট্যকার। ছোটবেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পিতাকে হারান এবং অনাথাশ্রমে বড় হন, যেখানেই সাহিত্য ও নাটকের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। পরবর্তীতে শিক্ষকতা থেকে সাহিত্যচর্চায় প্রবেশ করেন। তার লেখা শিশু গল্প যেমন ‘এক ছিল বাচ্চা হাতি’ এবং ‘কীভাবে ব্যাঙছানা তার বাবাকে খুঁজেছিল’ জনপ্রিয়। তিনি অ্যানিমেশন ও পুতুল থিয়েটারের জন্যও চিত্রনাট্য লিখেছেন। ১৯৭২ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে মারা যান গেন্নাদি সিফেরভ। তার সাহিত্যকর্ম আজও শিশুসাহিত্যের অমূল্য রত্ন হিসেবে সমাদৃত।
এক ছিল বাচ্চা হাতি। সে ছিল ভীষণ লক্ষ্মী।
তবে হ্যাঁ, তার একটাই সমস্যা ছিল। তা হলো, কখন কী করতে হবে বা জীবনে সে কী হবে তা ভেবে পেত না। আর তাইতো সে সারাদিন বসে থাকতো আর ভেবেই দিন কাটাত।
একদিন এভাবেই সে বসে ছিল। হঠাৎ দেখলো বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। সেই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে আসছিল এক ছোট্ট শিয়ালছানা। হাতিকে দেখে সে বলে উঠল, আরে বাহ্! কত্ত বড় কান! এই কান দিয়েই তো ছাতার কাজ হয়ে যায়!
বাচ্চা হাতির মন শিয়ালের কথায় আনন্দে নেচে উঠল। ভাবল, সে ছাতা হবে। তারপর আর কী? হাতি দু’কান মেলে দিলো। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে শিয়ালছানা তো কানের নিচে এসে বসলোই, আশপাশ থেকে ছোট্ট খরগোশ ও সজারুও এসে বসলো।
কিন্তু বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর যখন সবাই চলে গেল, তখন হাতির আবার মন খারাপ হলো। সে ফের এক জায়গায় বসে ভাবতে লাগল, সে কী হবে?
তখন ছোট্ট খরগোশ এসে বলল, বাহ্ কী সুন্দর লম্বা নাক তোমার! তুমি পানির পট হওনা কেন? এই নাক দিয়েই তো গাছে পানি দিতে পারো!
মিষ্টি ছোট্ট হাতি ভাবল, আরে তাইতো! সে সঙ্গে সঙ্গে তার শুঁড়ে করে পানি দিয়ে বাগানের সব ফুলগাছে পানি দিল, একটা ঘাসও বাদ দিলো না। কিন্তু সব গাছে, ফুলে, ঘাসে পানি দেওয়ার পর তার আবার মন খারাপ হয়ে গেল।
সূর্য ডুবে গেল। রাত নামলো, আকাশের গায়ে তারারাও নেচে গেয়ে বেড়াল। সব শিয়ালছানা, খরগোশ ছানা আর সজারুরা ঘুমাতে চলে গেল। ঘুম এলো না শুধু বাচ্চা হাতির। কেবল জেগে জেগে ভাবতে লাগলো, সে কী হবে?
এমন সময় বাচ্চা হাতি বনে আগুন দেখতে পেল। আগুন লেগেছে! আগুন! বলে উঠল বাচ্চা হাতি। তার মনে পড়ে গেল, আরে আমি তো পানির পট হতে পারি! যেই ভাবা সেই কাজ, এক দৌড়ে সে নদীর ধারে চলে গেল। শুঁড় ভর্তি করে পানি নিয়ে এসে সব আগুন নিভিয়ে দিলো। সব প্রাণীরা ঘুম ভেঙে দেখল, বাচ্চা হাতিটা একাই বনের আগুন নিভিয়ে যাচ্ছে। ভয় না পেয়ে সে দমকলবাহিনীর কাজ করে যাচ্ছে।
বনের সবাই হাততালি দিয়ে বাচ্চা হাতিকে স্বাগত জানালো। ধন্যবাদ দিতেও ভুললো না। বাচ্চা হাতির মনও ভরে উঠলো এত ভালো একটা কাজ করতে পেরে।
এখন সে মাথায় সোনালি হেলমেট পরে ঘুরে বেড়ায়। সবাই তাকে ‘ফায়ার ফাইটার’ বলে ডাকে। সে সবসময় খেয়াল রাখে, বনের কোথাও যেন কোনো আগুন না লাগে। তবে হ্যাঁ, বৃষ্টি এলে ছাতা হিসেবে নিজের কান পেতে দিতে সে এখনও ভোলে না। আবার নৌকা হিসেবে নিজের হেলমেটখানাও শিয়ালছানাকে ধার দেয় পারাপারের জন্য।