Published : 28 Jan 2026, 11:19 AM
সময়টা ছিল ১৯৮৯ সাল। মাত্র ৫ বছর বয়সি ছোট্ট দিমিত্রিস ইকোনোমুর জন্য তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি রিজিওনাল লাইব্রেরি থেকে একটি বই ধার নিয়েছিলেন।
বইটির নাম ছিল ‘হ্যারি দ্য ডার্টি ডগ’। একটি চঞ্চল কুকুরের গোসল ফাঁকি দিয়ে পালানোর সেই গল্পটি যে একদিন নিজেই এক মহাকাব্যিক সফরের নায়ক হবে, তা সেদিন কেউ ভাবেনি।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বইটির ফেরার কথা ছিল ১৯৮৯ সালের ৬ নভেম্বর। কিন্তু দিমিত্রিসের বাবা ছিলেন গ্রিক কূটনীতিক। পেশাগত কারণে তাদের পরিবারকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছুটতে হতো। ভার্জিনিয়া থেকে যখন তারা গ্রিসে ফিরে যান, অজান্তেই হ্যারিও তাদের সুটকেসে চড়ে আটলান্টিক পাড়ি দেয়।
তারপরের ৩৬ বছর বইটি দিমিত্রিসের বাবার সঙ্গে সিরিয়া, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস ঘুরে অবশেষে আবার গ্রিসে ফিরে আসে।
২০২৪ সালের বড়দিনের ছুটিতে দিমিত্রিস যখন ভার্জিনিয়ায় আসেন, তিনি সিদ্ধান্ত নেন বইটি যেখানে ছিল সেখানেই ফিরিয়ে দেবেন। দিমিত্রিস জানান, যদিও লাইব্রেরিটি এখন আর বিলম্ব ফি নেয় না, তবুও তিনি এই দীর্ঘ ভুলের মাশুল হিসেবে হাসিমুখেই বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে প্রস্তুত ছিলেন।
দিমিত্রিস বলেন, “বইটির একদম শেষে যখন পৌঁছালাম, খেয়াল করলাম এটি একটি লাইব্রেরির বই। মুহূর্তেই মনে হলো, এটি ফিরিয়ে দেওয়াটাই হবে সঠিক কাজ।”
লাইব্রেরি ম্যানেজার ইনগ্রিড বাওয়ার্স বইটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হন। তিনি জানান, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে মানুষ এখনও লাইব্রেরির বইকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
হ্যারি’র এই ৩৬ বছরের সফর আমাদের মনে করিয়ে দেয় আরও কিছু দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনের কথা। ২০২৩ সালে সান আন্তোনিও পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি বই ফিরে আসে ৮২ বছর পর, যা ১৯৪৩ সালে ধার নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালে ওয়াল্টার স্কটের ‘আইভ্যানহো’ একটি লাইব্রেরিতে ফেরে ১০৫ বছর পর! মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে যার জরিমানা আসত প্রায় ১৪ হাজার ডলার।
তবে সব রেকর্ড ভেঙে দেয় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘটনা। ১৬৬৭ সালে ধার নেওয়া একটি জার্মান পাঠ্যবই ১৯৫৬ সালে লাইব্রেরিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, দীর্ঘ ৩০০ বছর পর!
দিমিত্রিসের এই ফিরে আসা কেবল একটি বই ফেরা নয়, বরং শৈশব ও সততার গল্প। ‘হ্যারি দ্য ডার্টি ডগ’ হয়তো ধুলোবালি মেখে লাইব্রেরিতে ফিরেছে, কিন্তু সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে তিন মহাদেশের তিন দশকের অভিজ্ঞতা।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট